kalerkantho


গাজীপুরে স্ত্রী হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৩ নভেম্বর, ২০১৭ ১২:৪৯



গাজীপুরে স্ত্রী হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

গাজীপুরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর আগুনে পোড়ানোর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মো. আয়নাল হক (৩৫) নামে এ ব্যক্তিকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার সকালে গাজীপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক একেএম এনামুল হক এ রায় দেন।

রায়ে একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া অপর একটি ধারায় আসামিকে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ডসহ ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আয়নাল হক গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বাইমাইল পশ্চিমপাড়া এলাকার মো. আব্দুল মান্নানের ছেলে।


আরো পড়ুন : গাজীপুরে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর


গাজীপুরের আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. রবিউল ইসলাম জানান, গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকার আনোয়ারা বেগমের প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হলে আয়নাল হকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। এরপর তারা আনোয়ারার বাড়িতেই বসবাস করতে থাকেন। আনোয়ারার আগের সংসারের আনোয়ার হোসেন নামে একটি ছেলে রয়েছে এবং আয়নাল ও আনোয়ারা দম্পতির সংসারে ৬ বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।


আরো পড়ুন : গাজীপুরে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন


আগের ঘরের সন্তান এবং আনোয়ারার জমি আয়নাল হক ও তার ছেলের নামে লিখে দেওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে ২০১৫ সালের ৯ জানুয়ারি রাতে দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে আনোয়ারাকে খাওয়ান। পরে শ্বাসরোধে হত্যা করেন আয়নাল।

পরে পেট্রল ঢেলে তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আয়নাল হক ও নিহতের ভাই আমজাদ হোসেন আঞ্জুকে আটক করেন।

এ ব্যাপারে কোনাবাড়ি পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি থানা পুলিশ, সিআইডি ও পিবিআইসহ ৬টি সংস্থা তদন্ত করে। সিআইডির তদন্তে আমজাদ হোসেন মঞ্জুর সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে স্বামী আয়নাল হককে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

২০১৭ সালের ১৫ অক্টোবর আয়নাল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার সকালে আদালত ওই রায় দেন। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মো. হারিছ উদ্দিন আহম্মদ ও আসামিপক্ষে আইনজীবী আব্দুস সোবহান, জেবুন্নেসা মিনা ও মোহাম্মদ আলী তারেক বুলবুল মামলা পরিচালনা করেন।

 


মন্তব্য