kalerkantho


শাম্মী হত্যা মামলা : ময়নাতদন্তকারীকে হাইকোর্টে তলব

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ নভেম্বর, ২০১৭ ০২:২৯



শাম্মী হত্যা মামলা : ময়নাতদন্তকারীকে হাইকোর্টে তলব

রাজধানীর মিরপুরের গৃহবধূ শাম্মী হত্যা মামলায় ময়নাতদন্তকারী চিকিত্সক ডা. সোহেল মাহমুদকে হাইকোর্ট তলব করেছেন। আগামী ৩ ডিসেম্বর তাঁকে সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

একই সঙ্গে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার এসআই নওশের আলীকে হাজির থাকতে বলা হয়েছে। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এ আদেশ দেন।

'গৃহবধূ শাম্মী হত্যা মামলা, মাকে বাবা অনেক কষ্ট দিয়ে মেরেছে, তদন্ত কর্মকর্তার গড়িমসির অভিযোগ'-শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে নিয়ে গত ৭ নভেম্বর তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করে আদেশ দেন আদালত। গতকাল তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নওশের আলী আদালতে উপস্থিত হন।

আদালত সূত্র জানায়, তদন্ত কর্মকর্তার কাছে আদালত গতকাল জানতে চান মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে কি না। নাসূচক জবাব পেয়ে আদালত বলেন, আপনারা ঠিকমতো তদন্ত করেননি বলেই তো গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। যথাযথভাবে তদন্ত করেন না বলেই মানুষের মনে নানান প্রশ্ন দেখা দেয়। লিখিত বক্তব্যে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে। ১৩ নভেম্বর একজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।

এ অবস্থায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।

শামিমা লাইলা আরজুমান্না খান শাম্মী হত্যা মামলার তদনে্ত গাফিলতি নিয়ে গত ৫ নভেম্বর পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন পরদিন আদালতের নজরে আনেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান। সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহমেদ।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, 'গত ৭ জুন রাতে রাজধানীর কল্যাণপুরে ভাড়া বাসায় একটি বায়িং হাউসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন টিটু তাঁর স্ত্রী শামিমা লাইলা আরজুমান্না খান শাম্মীকে অমানবিক নির্যাতন করে হত্যা করেন। পরে চিকিত্সার নামে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিত্সকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহত গৃহবধূর ছোট ভাই মো. ফরহাদ হোসেন খান বাবু বাদী হয়ে ৮ জুন মিরপুর মডেল থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ ঘাতক স্বামী আলমগীর ও তঁার তৃতীয় স্ত্রী ইসরাত জাহান মুক্তাকে গ্রপ্তোর করে। '

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, 'অভিযোগ উঠেছে, আলোচিত এ মামলার তদন্ত নিয়ে গড়িমসি করছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার এসআই মো. নওশের আলী। মামলার বাদী মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, ঢাকায় অবস্থানরত আসামির ধনাঢ্য ভগ্নিপতি মো. আবদুল বাছেদ অর্থের মাধ্যমে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পরিবর্তন এবং মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহে কাজ করছেন। আর তাই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নওশের আলী প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে ঘাতক আসামির পক্ষে ভূমিকা রাখছেন। '


মন্তব্য