kalerkantho


আদালতে ক্রিকেটার সানির স্ত্রী : সন্দেহের বশেই মামলা করি

আদালত প্রতিবেদক   

২১ নভেম্বর, ২০১৭ ২১:৫৯



আদালতে ক্রিকেটার সানির স্ত্রী : সন্দেহের বশেই মামলা করি

জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার আরাফাত সানির বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় বাদী হিসেবে সাক্ষি দিলেন তার স্ত্রী নাসরিন সুলতানা। এ সময় সানি টাইব্যুনালে হাজির ছিলেন।

নাসরিন তার জবানবন্দিতে বলেন, 'আরাফাত সানি আমার স্বামী। আমার কিছু ছবি (অশ্লীল) ধারণ করে আমার নামে ফেসবুকে আইডি খুলে সেখানে প্রচার করা হয়। সন্দেহের বশবর্তী হয়ে তার বিরুদ্ধে থানায় গিয়ে অভিযোগ করি। বর্তমানে আমরা স্বামী-স্ত্রী হিসাবে একসঙ্গে বসবাস করছি। তার বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নাই। '

আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে মামলায় বাদীর সাক্ষির জন্য দিন ধার্য ছিল। সানির স্ত্রী মামলার বাদী আদালতে সাক্ষি দিতে হাজির হন। আপোষমূলক সাক্ষ্য দেওয়ায় আর তাকে জেরা করেনি সানির আইনজীবী।

ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক আতাউর রহমান বাদীর দেওয়া জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন।

আসামির পক্ষে কোনো জেরা না করায় পরবর্তী সাক্ষির জন্য আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন।

চলতি বছরের গত ১২ অক্টোবর আরাফাত সানির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক মো. ইয়াহিয়া গত ২২ মার্চ আদালতে সানির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।

চার্জশিটে বলা হয়, পরিচয়ের সূত্রে ঘনিষ্ঠতার এক পর্যাযে সানি তার অভিভাবককে না জানিয়ে ২০১৪ সালের ৪ ডিসেম্বর মামলার বাদীনী নাসরিন সুলতানাকে বিবাহ করে। বিভিন্ন সময়ে বাদীনী বিয়ের বিষয়টি অভিভাবকদের অবহিত করে স্ত্রী হিসাবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরে তুলে নিতে বলেন। কিন্তু সানি তা না করে নাসরিনকে বিভিন্নভাবে ভয় দেখায়। সানি নাসরিন সুলতানার নাম ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে ফেসবুকে ফেক আইডি খুলে ওই আইডি থেকে গত বছর ১২ জুন রাতে বাদীনীর আইডিতে তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তে ধারণ করা কিছু অশ্লীল ছবি পাঠিয়ে হুমকি দিতে থাকেন। এর ধারাবাহিকতায় সানি গত ২৫ নভেম্বর রাতে নগ্ন ছবি বাদীনীর ফেসবুকের আইডিতে পাঠিয়ে আরো ভয়াবহ পরিণতির জন্য অপেক্ষা করতে বলেন।

এর প্রেক্ষিতে নাসরিন সুলতানা রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় সানির বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে মামলাটি করেন। পরদিন সানিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ মামলায় কারাগারে থাকাবস্থায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ও যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগে নাসরিন পৃথক দুটি মামলা করে। যৌতুকের মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে সানি খালাস পেলেও নারী ও শিশু নির্যাতন দমনে আইনের মামলাটি চলমান রয়েছে। দুই মামলাতেই সানি আপোষের শর্তে বাদীনীর জিম্মায় জামিনে আছেন।


মন্তব্য