kalerkantho


নাইকো দুর্নীতি মামলা

খালেদাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের শুনানি শুরু

আদালত প্রতিবেদক   

২০ নভেম্বর, ২০১৭ ২৩:১৪



খালেদাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের শুনানি শুরু

খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

দুর্নীতির অভিযেগে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে নাইকো দুর্নীতি মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরু হয়েছে।

আজ সোমবার ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মাহমুদুল কবীর শুনানি গ্রহণ করেন।

এ মামলার সাত নম্বর আসামি প্রাক্তন সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইনের পক্ষে অব্যাহতি চেয়ে করা আবেদন শুনানি হয়।

সোমবার মামলায় চার্জ গঠনের শুনানির দিন ধার্য ছিল। শর্দি ও ঠান্ডাজনিত কারণে মামলার প্রধান আসামি খালেদা জিয়া অসুস্থ থাকায় এবং ভিন্ন কারণ দেখিয়ে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদের পক্ষেও সময়ের আবেদন করা হয়।

এ মামলাটির জামিনে থাকা আসামি খালেদা জিয়াসহ সাতজনের পক্ষে অব্যাহতির আবেদন দাখিলের জন্য সময় আবেদন করা হলে বিচারক আগামী ১১ ডিসেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।

এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজল মামলায় শুনানি শুরু করতে আবেদন করেন।

অপর আসামিদের মধ্যে আসামি সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী একে এম মোশাররফ হোসেন, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া (সিলভার সেলিম) জামিনে থোকে আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বিতর্কিত ব্যবসায়ী তারেক রহমানের বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।

এ ছাড়া মামলার অপর তিন আসামি নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ, তখনকার প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক পলাতক রয়েছেন।

ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনটি গ্যাসক্ষেত্র পরিত্যক্ত দেখিয়ে কানাডীয় কম্পানি নাইকোর হাতে 'তুলে দেয়ার' অভিযোগে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগে খালেদাসহ ৫ জনকে আসামি করে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় মামলাটি করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

পরের বছরের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন তত্কালীন দুদকের সহকারী পরিচালক সাহিদুর রহমান।

চাজশিটে বলা হয়, সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশের নিজস্ব দুইটি আবিষ্কৃত গ্যাস ফিল্ডকে মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন উল্লেখ করে পরিত্যক্ত গ্যাস ফিল্ড হিসেবে ঘোষণা করে তৎকালীন বিএনপি সরকার। নাইকো রিসোর্সেস বাংলাদেশ লি. নামে একটি অদক্ষ বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে বিনা টেন্ডারে এবং সরকারি নিয়ম-নীতিবহির্ভূতভাবে ছাতক ও ফেনী গ্যাস ক্ষেত্রের গ্যাস উত্তোলনের সুযোগ দেয়। এর মাধ্যমে সেখানে মজুদ ২৭৬২ বিসিএফ গ্যাসের মধ্য থেকে উত্তোলনযোগ্য ১৭৪৪ বিসিএফ গ্যাস উত্তোলনের অবৈধ সুযোগ দিয়ে রাষ্ট্রের ন্যূনতম ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা ক্ষতিসাধন করে।

এই চার্জশিটের বৈধতা চ্যলেঞ্জ করে খালেদা জিয়া হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে ২০০৮ সালের ৯ জুলাই হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের কার্যক্রম স্থগিত করে রম্নল জারি করেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এ মামলায় কারাগারে ছিলেন খালেদা। ২০০৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর জামিন পান। বর্তমান সরকারের আমলে দুদক রুল শুনানির করলে ২০১৫ সালের ১৮ জুন হাইকোর্ট খালেদার আবেদন খারজি করে। ফলে মামলার স্থগিতাদেশ বাতিল হয়ে যায়। নিম্ন আদালতে জামিন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়। পরে গত বছরের ২৯ নভেম্বর খালেদা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন।


মন্তব্য