kalerkantho


মামলায় যুক্তিতর্ক হয়নি

ইস্কাটনে জোড়া খুন: রনির পক্ষে ফের জেরার দিন ধার্য

আদালত প্রতিবেদক    

১৫ নভেম্বর, ২০১৭ ১৭:৪০



ইস্কাটনে জোড়া খুন: রনির পক্ষে ফের জেরার দিন ধার্য

রাজধানীর ইস্কাটনে জোড়া খুনের ঘটনায় সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য পিনু খানের ছেলে বখতিয়ার আলম রনির বিরুদ্ধে চলমান হত্যা মামলায় যুক্তিতর্ক শুনানি হয়নি। সুষ্ঠু ও ন্যায় বিচারের জন্য আাসামির পক্ষে আরও কিছু জেরা করা প্রয়োজন মর্মে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে (আইও) ফের জেরার জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।

আজ বুধবার ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আবু সালেহ সালাউদ্দিন আগামী ২২ নভেম্বর তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করেন।

এ মামলায় আজ যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু রনির আইনজীবী কাজী নজিব উল্লাহ হিরু এক আবেদন দাখিল করে বলেন, "ন্যায় বিচারের স্বার্থে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে কয়েকটি বিষয়ের ওপর জেরা করা প্রয়োজন। অন্যথায় আসামি ন্যায়বিচার হতে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। " বিচারক আবেদনটি মঞ্জুর করেন।

যুক্তিতর্ক শুনানির দিন ধার্য থাকায় এদিন মামলার একমাত্র  আসামি রনিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। কার্যক্রম শেষে তাকে ফের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে গত ২৯ অক্টোবর মামলায় আত্মপক্ষ শুনানিতে  নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করেন রনি।

মামলায় চার্জশিটভুক্ত ৩৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৪ জন সাক্ষ্য  দিয়েছেন।

গত ১৮ অক্টোবর মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

গত বছরের ৬ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় চার্জ গঠন করার পর বিচার শুরু হয়। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোযেন্দা (ডিবি) পুলিশের এসআই দীপক কুমার দাস ২০১৫ সালের ২১ জুলাই রনিকে একমাত্র আসামি করে চার্জশিট দাখিল করেন।

চার্জশিটে বলা হয়, গভীর রাতে রাজধানীর মগবাজারের ইস্কাটন রোডে রনি তার মায়ের ব্যবহৃত প্রাডো জিপ থেকে নেমে কোনও  কারণ ছাড়াই নিজের লাইসেন্স করা পিস্তল থেকে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়েন। আদালতে স্বীকারোক্তি না দিলেও রনি তা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। এ ছাড়া রনির গাড়িচালক, তার দুই বন্ধুর সাক্ষ্য এবং ব্যালিস্টিক রিপোর্টে বিষয়টি সুষ্পষ্ট।

২০১৫ সালের ১৩ এপ্রিল রাত পৌনে ২টার দিকে রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে রনি তার মা সংসদ সদস্য পিনু খানের বিলাসবহুল প্রাডো জিপ (ঢাকা মেট্রো ঘ-১৩-৬২৩৯) থেকে নেমে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়েন। ওই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ মধুবাগ এলাকার রিকশাচালক আবদুল হাকিম গত ১৫ এপ্রিল এবং দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার সিএনজি অটোরিকশাচালক ইয়াকুব আলী ২৩ এপ্রিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরের দিন নিহত হাকিমের মা মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে রমনা থানায় একটি মামলা করেন।

সূত্রবিহীন ওই ঘটনার তদন্তের জন্য ২৪ মে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে স্থানান্তর করা হয়। প্রযুক্তি ও অন্যান্য সোর্সের মাধ্যমে রনির ব্যবহৃত গাড়িটি শনাক্ত করে তা জব্দ করে পুলিশ। এক সপ্তাহ পর রনির সঙ্গে তার গাড়িচালক ইমরান ফকির ৩১ মে গ্রেপ্তার হন। তিন দফায় ১০ দিন রিমান্ড শেষে ২ জুলাই রনিকে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে তিনি কোনও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি। গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই কারাগারে রয়েছেন রনি।  


মন্তব্য