kalerkantho


আপন জুয়েলার্সের তিন মালিকের জামিন নামঞ্জুর

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ নভেম্বর, ২০১৭ ০২:৫৮



আপন জুয়েলার্সের তিন মালিকের জামিন নামঞ্জুর

চোরাচালানের মাধ্যমে সোনা ও হীরার সামগ্রী এনে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে দায়ের করা পাঁচটি মামলায় আপন জুয়েলার্সের তিন মালিকের জামিন নামঞ্জুর হয়েছে।  

মঙ্গলবার তিনটি মামলায় ও আগের দিন সোমবার দুটি মামলায় তিন ভাইয়ের জামিন নামঞ্জুর হয়।

ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. কামরুল হোসেন মোল্লা পৃথক আদেশে জামিন নামঞ্জুর করেন।

আপন জুয়েলার্সের এই তিন মালিক হলেন দিলদার আহমেদ, তার ভাই গুলজার আহমেদ ও আজাদ আহমেদ। আদালত সূত্রে জানা গেছে, গুলশান থানায় দায়ের করা দুটি মামলায় গুলজার আহমেদ ও আজাদ আহমেদ আসামি। এদের জামিন নামঞ্জুর হয় গত সোমবার।   আর রমনা, ধানমন্ডি ও উত্তরা  থানায় দায়ের করা তিন মামলার আসামী দিলদার আহমেদ।  

মঙ্গলবার দিলদার আহমেদের জামিন নামঞ্জুর হয়। এর আগে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কয়েকবার তাদের জামিন নামঞ্জুর করেন।

গত ২৩ অক্টোবর পাঁচটি মামলায় আত্মসমর্পণ করলে তাদের কারাগারে পাঠিয়ে দেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। এরপর তাদের এক দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

গত ১২ আগস্ট মামলা দায়েরের পর গ্রেপ্তার এড়াতে তিন ভাই হাইকোর্টে আগাম জামিনের দরখাস্ত করেন গত ২২ আগস্ট। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ ভিন্ন ভিন্ন পাঁচ মামলায় প্রত্যেককে চার সপ্তাহের জন্য আগাম জামিন দেন। জামিনের শর্তে বলা হয় চার সপ্তাহের পর আসামিদের জামিন আর বর্ধিত করা হবে না। তবে জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রত্যেককে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পন করতে হবে। আদালত ইচ্ছে করলে মামলার অভিযোগ ও আসামিদের জামিনের থাকার উপযুক্ত কারণ থাকলে সেটা বিবেচনা করতে পারবেন।

মামলার নথি থেকে দেখা যায়, হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিয়ে তিন আসামিই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আইনজীবীদের মাধ্যমে জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েকদিন আগে জামিন নামা দাখিল করেন। হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী গত ২০ সেপ্টেম্বর জামিনের মেয়াদ শেষ হয়। প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী ২১ সেপ্টেম্বর আপন জুয়েলার্সের মালিকদের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পন করার নিয়ম। কিন্তু আসামিরা যথাসময়ে হাজির না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে গত ২২ অক্টোবর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরদিন তারা আত্মসমর্পন করেন।

চোরাচালানের মাধ্যমে প্রায় ১৫ মণ সোনা ও হীরা আনা এবং এসব মূল্যবান সামগ্রী কর নথিতে গোপন রাখায় আপন জুয়েলার্সের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে গত ১২ আগস্ট পাঁচটি মামলা করা হয়। রাজধানীর গুলশান, ধানমন্ডি, রমনা ও উত্তরা পূর্ব থানায় এসব মামলা করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।


মন্তব্য