kalerkantho


ইস্কাটনে জোড়া খুন

রনির বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা চলছে

আদালত প্রতিবেদক   

১৬ অক্টোবর, ২০১৭ ১৭:৩৮



রনির বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা চলছে

মগবাজারে ইস্কাটন রোডে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণের ঘটনায় জোড়া খুনের মামলায় মহিলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য পিনু খানের ছেলে বখতিয়ার আলম রনির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। তার জবানবন্দি শেষে একমাত্র আসামির পক্ষে জেরা চলছে।

অবশিষ্ট জেরার জন্য আগামিকাল দিন ধার্য করেছেন আদালত। এ নিয়ে মামলায় চার্জশিটের ৩৭ জনের মধ্যে ২৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে।  

সোমবার ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবু সালেহ সালাউদ্দিন সাক্ষির জবানবন্দি ও জেরা লিপিবদ্ধ করেন। আসামির পক্ষে সাক্ষিকে জেরা করেন তার আইনজীবী। এদিন তাকে জেরা করা শেষ না হওয়ায় অবশিষ্ট জেরার জন্য ফের আগামী বুধবার দিন ধার্য করেন।  

এর আগে গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক দীপক কুমার দাস আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসাবে সাক্ষ্য দেন। একমাত্র আসামি রনির পক্ষে তাকে জেরা করেন অ্যাডভোকেট কাজী নজীব উল্যাহ হিরু।  

সাক্ষ্য গ্রহণের সময় কারাগারে থাকা আসামি রনিকে আদালতের এজলাসে হাজির করা হয়। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

 

গত বছরের ৬ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এর আগে গত বছরের ১৩ আগস্ট রনির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারার অভিযোগ আমলে নেয় আদালত।    

২০১৫ সালের ২১ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক দীপক কুমার দাস রনিকে একমাত্র আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।  

চার্জশিটে বলা হয়, গভীর রাতে রাজধানীর মগবাজারে ইস্কাটন রোডে রনি তার মায়ের ব্যবহৃত প্রাডো জীপ থেকে নেমে কোনো কারণ ছাড়াই নিজের লাইসেন্স করা পিস্তল থেকে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। আদালতে স্বীকারোক্তি না দিলেও রনি তা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। এ ছাড়া, রনির ড্রাইভার, তার দুই বন্ধুর সাক্ষি এবং ব্যালিস্টিক রিপোর্টে এ বিষয়টি সুস্পষ্ট।
 
গত বছরের ১৩ এপ্রিল রাত পৌনে ২টার দিকে রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে রনি তার মা সংসদ সদস্য পিনু খানের বিলাসবহুল প্রাডো জিপ (ঢাকা মেট্রো ঘ-১৩-৬২৩৯) থেকে নেমে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়েন। ওই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ মধুবাগ এলাকার রিকশাচালক আবদুল হাকিম গত ১৫ এপ্রিল এবং দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার সিএনজি অটোরিকশাচালক ইয়াকুব আলী ২৩ এপ্রিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরেরদিন নিহত হাকিমের মা মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের নামে রমনা থানায় একটি মামলা করেন।  

সূত্রবিহীন এ ঘটনার তদন্তের জন্য ২৪ মে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে স্থানান্তর করা হয়। প্রযুক্তি ও অন্যান্য সোর্সের মাধ্যমে রনির ব্যবহৃত গাড়িটি শনাক্ত করে তা জব্দ করে পুলিশ। এক সপ্তাহ পরে রনির সঙ্গে তাঁর গাড়ির চালক ইমরান ফকির ৩১ মে গ্রেপ্তার হয়। তিন দফায় ১০ দিন রিমান্ড শেষে ২ জুলাই রনিকে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে সে কোনো  স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়নি।


মন্তব্য