kalerkantho


ব্লু হোয়েল গেম নিয়ে নবীনগরে যা হলো!

বন্ধ চেয়ে রিট

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ অক্টোবর, ২০১৭ ২৩:৪২



ব্লু হোয়েল গেম নিয়ে নবীনগরে যা হলো!

সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক আলোচিত সোশ্যাল নেটওয়ার্ক গেম ‌'ব্লু হোয়েল' বাংলাদেশে বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। আজ রবিবার সুপ্রিম কোর্টের তিনজন আইনজীবী মিলিতভাবে এই রিট আবেদনটি করেন।

তিনজন আইনজীবীর একজন হুমায়ুন কবীর পল্লব আশা ব্যক্ত করে বলেছেন, যেকোনো দিন শুনানির জন্য কার্যতালিকায় আসবে রিটটি।

এদিকে আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি বিশ্বজিত্ পাল বাবু গতকাল জানান, 'ব্লু হোয়েল' গুঞ্জন এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে। পুলিশ অনলাইন গেমটি খেলার অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলার এক কিশোরকে শনিবার রাতে তাদের হেফাজতে নেয় এবং ঝুঁকিমুক্ত মনে হওয়ার পর আজ রবিবার দুপুরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। ছেলেটির নাম মুশফিকুল আলম ইমন। মাধ্যমিকে জিপিএ ৫ পাওয়া ইমন অষ্টম ও পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তি পেয়েছে। এখন সে রাজধানীর একটি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ে।

নবীনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) স্বপন চন্দ্র দাস কালের কণ্ঠকে বলেছেন,  ইমন 'গেম সম্পর্কে অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে চায়নি। তবে এতটুকু বলেছে সে প্রথম পর্বে ছিল। ' ইমন ব্লু হোয়েল খেলার দাবি করলেও তার হাতে তিমির ছবি আঁকা নেই।

জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ইংরেজিতে তার উত্তর দেওয়া এবং কথা বলার ধরন দেখেও অনেকে বলছে, ইমন স্রেফ নজর কাড়ার জন্য গেমের গল্প ফেঁদেছে।

নবীনগর থানার ওসি মো. আসলাম সিকদার বলেন, থানায় আনার পর একপর্যায়ে ইমন বলে, সে আত্মহত্যা করবে না। পরে রবিবার দুপুরে তাকে মায়ের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

থানায় ইমনের দেওয়া বক্তব্যের ভিডিও সোশ্যাল নেটওয়ার্কে পাওয়া যাচ্ছে। পুলিশও ফেসবুকে এ বিষয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছে। ভিডিওর এক অংশে ইমনের মা বলেন, তাঁর ছেলে আত্মহত্যার হুমকি দিলে পুলিশকে জানানো হয়। থানা তাত্ক্ষণিক সাড়া দেওয়ায় তিনি পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

পুলিশের ফেসবুক স্ট্যাটাসের নিচে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও ব্যক্ত করা হচ্ছে। অনেকে পুলিশকে ধন্যবাদ জানালেও কেউ কেউ ঘটনাটিকে ইমনের ভাঁওতাবাজি হিসেবে দাবি করেছেন।

একটি মনোবৈকল্যে আক্রান্ত কিছু রুশ তরুণের উদ্ভাবিত গেম 'ব্লু হোয়েল' বিশ্বজুড়ে হতাশ অনেক ছেলেমেয়েকে টার্গেট করছে। এই গেম খেলার মাধ্যমে রাশিয়া, ভারতসহ ২০টির মতো দেশে অন্তত ১৩০ ছেলে-মেয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে খবর রয়েছে। বাংলাদেশে কয়েক দিন আগে রাজধানীর এক কিশোরীর আত্মহত্যার পর সন্দেহের আঙুল ওঠে ব্লু হোয়েলের দিকে। পরে খোঁজখবর নিয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে, সন্দেহ অমূলক; মেয়েটি ব্লু হোয়েল খেলতই না।

এমনকি বাংলাদেশে কেউ এ গেমটি খেলছে বা খেলেছে এমন সুনিশ্চিত তথ্যও এখন পর্যন্ত নেই। গেমটি নিয়ে ব্যাপক আতঙ্ক থাকায় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এই গেম খেলার কোনো তথ্য পেলে ২৮৭২ নম্বরে ফোন করে জানাতে বলেছে। এ গেমে আত্মহত্যার সাহসিকতার পক্ষে বাজি ধরার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া হয়। অবশ্য গেমটি খেলার অনুমতি পাওয়া অনেক কষ্টসাধ্য; পূরণ করতে হয় অনেক কারিগরি শর্ত।


মন্তব্য