kalerkantho


কমিউনিটি ক্লিনিক

সিএইচসিপি পদে নিয়োগ পাওয়াদের চাকরি রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১৭:৫৬



সিএইচসিপি পদে নিয়োগ পাওয়াদের চাকরি রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের নির্দেশ

কমিউনিটি ক্লিনিকে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোবাইডার (সিএইচসিপি) হিসেবে নিয়োগ পাওয়াদের চাকরি প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। দেশের বিভিন্ন স্থানের ১০ ব্যক্তির করা রিট আবেদনের পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ২২ মার্চ হাইকোর্ট রায় দিলেও এ নির্দেশনা সম্বলিত পূর্ণাঙ্গ রায় সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে।  

বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাসের হাইকোর্ট বেঞ্চ রিট আবেদনকারী ১০ ব্যক্তির ক্ষেত্রে এ রায় দিয়েছেন বলে জানান রিট আবেদনকারীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ছিদ্দিক উল্যাহ মিয়া। তিনি বলেন, এ রায় সারাদেশে কর্মরত সাড়ে ১৩ হাজার ব্যক্তির রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের পথ সুগম হলো।  

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সারাদেশে কমিউনিটি ক্লিনিকে ২০১১ সাল থেকে দায়িত্ব পালনরত সাড়ে ১৩ হাজার সিএইচসিপি-কে রাজস্ব খাতে স্থানান্ত্মর না করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের চতুর্থ স্বাস্থ্য জনসংখ্যা ও পুষ্টি সেক্টর কর্মসুচি (এইচপিএনএসপি) প্রকল্পে স্থানান্ত্মর করা হয়। তাদের আগামী ২০২২ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত্ম এ প্রকল্পে স্থানান্ত্মর করে গত ১৫ মে চিঠি দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ ও স্বাস্থ্য বিভাগ। কিন্তু তাদের নতুন প্রকল্পে স্থানান্ত্মরের আগেই রাজস্ব খাতে স্থানান্ত্মরের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। মো. সহিদুল ইসলাম, কামাল সরকার, জাহিদুল ইসলামসহ ১০ জনের করা এক রিট আবেদনে হাইকোর্ট গত ২২ মার্চ এক রায়ে রিট আবেদনকারীদের (১০ জন) চাকরি রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন।  

সরকার ১৯৯৬ সালে সারাদেশে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের প্রকল্প গ্রহণ করে। এর আওতায় সারাদেশে ১০ হাজার ক্লিনিক স্থাপন করা হয়।

কিন্তু সরকার পরিবর্তনের কারণে এ প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়ে। আওয়ামী লীগ সরকার আবার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালে রিভাইটালাইজেশন অব কমিউনিটি হেলথ কেয়ার ইনিশিয়েটিভ ইন বাংলাদেশ (আরসিএইচসিআইবি) নামে নতুন প্রকল্প নেয়। এ প্রকল্পের আওতায় আগের ১০ হাজার ক্লিনিক সংস্কার করে এবং নতুন আরো সাড়ে তিনহাজার ক্লিনিক স্থাপন করে। সব মিলে সাড়ে তের হাজার ক্লিনিক স্থাপন করা হয়। ২০১১ সালে এসব ক্লিনিকের প্রত্যেকটিতে একজন করে সিএইচসিপি নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০১৪ সাল পর্যন্ত ৫ বছরের জন্য প্রকল্পে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলে এর মেয়াদ আরো দুই বছর অর্থাৎ ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়। কিন্তু এরই মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তাদের চাকরি রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের সুপারিশ করে তা বাস্তবায়নের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়। ২০১৬ সালে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সাড়ে ১৩ হাজার সিএইচসিপি-কে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের চতুর্থ স্বাস্থ্য জনসংখ্যা ও পুষ্টি সেক্টর কর্মসুচি (এইচপিএনএসপি) প্রকল্পে স্থানান্তর করা হয়।


মন্তব্য