kalerkantho


কৃষি ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ

কেয়া ইয়ার্ন মিলসের এমডি কারাগারে

আদালত প্রতিবেদক    

২১ আগস্ট, ২০১৭ ২১:৩৮



কেয়া ইয়ার্ন মিলসের এমডি কারাগারে

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ মামলায় কেয়া ইয়ার্ন মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবদুল খালেক পাঠানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এ এইচ এম তোয়াহা শুনানি শেষে জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মো. সামছুল আলম অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ দায়ের হওয়া এ মামলায় আদালতে হাজির করেন আসামিকে। প্রতিবেদন দাখিল করে মো. সামছুল আলম  বলেন, "মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখা হোক। অন্যথায় সুষ্ঠু তদন্তে ব্যাঘাত ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। "

আদালতের শুনানিতে প্রসিকিউশন পক্ষে দুদকের বিশেষ পিপি মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর তদন্ত কর্মকর্তার আবেদন মঞ্জুর করার জন্য আবেদন জানান। অন্যদিকে, আসামির পক্ষে জামিন চেয়ে তার আইনজীবী নিতাই রায় চৌধুরী শুনানি করেন।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ১১১ কোটি ১৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে কেয়া ইয়ার্ন মিলস লিমিটেডের এমডি আবদুল খালেক পাঠান ও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানসহ আটজনের বিরুদ্ধে দুদকের উপপরিচালক মো. সামছুল আলম বাদী হয়ে গত ২০ আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁও থানায় মামলাটি করেন। মামলা দায়েরের পর রাজধানীর সেগুনবাগিচা থেকে  আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয় আবদুল খালেক পাঠানকে।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন কেয়া ইয়ার্ন মিলস লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও এমডি আবদুল খালেকের মেয়ে মিসেস খালেদা পারভীন, তার ছেলে পরিচালক মাছুম পাঠান, অপর মেয়ে তানসিন কেয়া, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাবেক এজিএম মো. সারোয়ার হোসেন, সাবেক ডিজিএম মো. জুবায়ের মনজুর, কাওরান বাজার করপোরেট শাখার সাবেক এসপিও মো. আবুল হোসেন এবং সাবেক এসপিও গোলাম রসুল।

এজাহারে বলা হয়, মেসার্স কেয়া ইয়ার্ন মিলস লিমিটেড কাঁচা তুলা আমদানি করে তা দিয়ে সুতা উৎপাদন করে শতভাগ রপ্তানি কারে থাকে।

২০০৯ সালের ১ এপ্রিল মেসার্স কেয়া ইয়ার্নের এমডি আবদুল খালেক পাঠানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ শর্তসাপেক্ষে প্রথমে ২০ কোটি টাকা প্রকল্প ঋণ মঞ্জুর করা হয়।

পরবর্তীতে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক বিভিন্ন সময়ে ২০১১ সালে জুলাই পযন্ত এক বছরে মেয়াদি মোট ৬০০ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে দেয়। যার বিপরীতে জামানত রাখা হয়েছে ৫৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকার এফডিআর এবং পূবালী ব্যাংক লিমিটেডের লিড তত্ত্বাবধানে ক্লাভ ফাইন্যান্সিংয়ের আওতায় ২০৫ কোটি টাকা। কিন্তু কেয়া ইয়ার্ন শতভাগ সুতা রপ্তানি না করে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে সাতটি এলসির বিপরীতে ১০৫ কোটি ৬৪ লাখ ৪০ হাজার ৯১৭ টাকা এবং দুইটি এলসির বিপরীতে পাঁচ কোটি ৫০ লাখ ২৪ হাজার ১১১ টাকা আত্মসাৎ করে।


মন্তব্য