kalerkantho


জিয়া ট্রাষ্ট্র দুর্নীতি: পরবর্তী শুনানি ২৪ আগস্ট

আদালত প্রতিবেদক   

১৭ আগস্ট, ২০১৭ ২২:৩৭



জিয়া ট্রাষ্ট্র দুর্নীতি: পরবর্তী শুনানি ২৪ আগস্ট

ফাইল ছবি

জিয়া ট্রাষ্ট্র দুর্নীতির দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সময় মঞ্জুর করে শুনানির জন্য আগামি ২৪ আগস্ট পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার বকশীবাজারে কারা অধিদপ্তরের প্যারেড মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে মামলা দু’টির বিচার চলছে।

ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালত এর বিচারক ড. মো. আকতারুজ্জামান শুনানি শেষে ওই তারিখ ধার্য করেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনে শুনানিন জন্য দিন ধার্য ছিল। চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের তত্কালীন উপপরিচালক নুর আহমেদকে খালেদা জিয়ার পক্ষে পুনরায় (রিকল) জেরার জন্য দিন ধার্য ছিল।

চিকিত্সার জন্য খালেদা দেশের বাইরে থাকায় তার পক্ষে সময়ের আবেদন করা হয়। এ আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে। তবে এ মামলার আসামি ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদের পক্ষে দুইজনের সাফাই সাক্ষ্য গ্রহন শেষে দুদকের পক্ষে তাদের জেরা সম্পন্ন হয়। আসামির পক্ষে তার আয়কর উপদেষ্টা শাজাহান সিরাজ ও আইনজীবী তাহেরুল ইসলাম তৌহিদ সাফাই সাক্ষি দেন। রাষ্ট্রপক্ষে দুদকের বিশেষ পিপি মোশাররফ হোসেন কাজল সাফাই সাক্ষিদের জেরা করেন।

এছাড়া জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের তত্কালীন উপপরিচালক হাজির থাকলেও তাকে জেরা করেননি খালেদার আইনজীবীরা।

আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে তার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, আবদুর রেজ্জাক খান, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, নুরুজ্জামান তপন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনকে আসামি করে রমনা থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২০১০ সালের ৫ আগস্ট খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরম্নদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপপরিচালক হারুন আর রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরম্নদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

এ মামলায় খালেদা জিয়া ছাড়া চার্জশিটের অন্য আসামিরা হলেন, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। মামলায় তারেক রহমান, কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান পলাতক। অন্যরা জামিনে আছেন।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা: জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট খালেদা জিয়াসহ চারজনকে আসামি করে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় এ মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারম্নন-অর-রশিদ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

মামলার চার্জশিটের অন্য আসামিরা হলেন- খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল কর্তৃপক্ষের (বিআইডবি-উটিএ) নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান। মামলায় হারিছ চৌধুরী পলাতক। অন্যরা জামিনে আছেন।


মন্তব্য