kalerkantho


ডেসটিনি গ্রুপের এমডি-চেয়ারম্যানের জামিন

রিভিউ আবেদনের শুনানি ৮ সপ্তাহ মুলতবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ আগস্ট, ২০১৭ ০১:৩৫



রিভিউ আবেদনের শুনানি ৮ সপ্তাহ মুলতবি

ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমিন ও ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেনের জামিন আবেদন সংক্রান্ত রিভিউ আবেদনের শুনানি ৮ সপ্তাহ মুলতবি করা হয়েছে। ডেসটিনির আইনজীবীর আবেদনে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে।  

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগ গতকাল বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ডেসটিনির যে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ জব্দ করে তার হিসাব বিবরণী দাখিল করার পর গতকাল এনিয়ে শুনানি হয়।  

ডেসটিনির আইনজীবী ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ শুনানিতে বলেন, জামিন না দিলে কারাগারেইতো মারা যাবে। তিনি বলেন, যারা টাকা দিয়েছে তারাতো আর মামলা করেনি। দুদক মামলা করেছে। জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, যারা টাকা দিয়েছে তাদের এ পর্যন্ত আসার ক্ষমতা থাকতে হবেতো। আপনারা মতো আইনজীবী রাখার সামর্থ তাদের নেই।  

রোকন উদ্দিন মাহমুদ বলেন, তারা কারাগার থেকে মুক্তি না পেলে সম্পদ বিক্রি করতে পারবে না। টাকাও দিতে পারবে না।

এসময় প্রধান বিচারপতি বলেন, ভারতের দিকে তাকান, সাহারা গ্রুপের সুব্রত সাহাকে কারাগারে থেকেই টাকা দিতে হয়েছে। তারা পারলে এরা পারবে না কেন? জবাবে রোকন উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ভারতের সঙ্গে তুলনা দেওয়া ঠিক হবে না। টাকা-পয়সার দিক থেকে আমরা তাদের থেকে অনেক পিছিয়ে আছি।  

এসময় প্রধান বিচারপতি বলেন, এটা বলবেন না। ভারতের চেয়ে অনেক দিক থেকে আমরা এগিয়ে আছি। সেনিটেশনের দিকে তাকান, মা ও শিশু মৃত্যুর হারের দিকে তাকান। আমরা তাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। এরপর রোকন উদ্দিন মাহমুদ বলেন, আপনাদের কথামতো টাকা দিলাম। এ টাকা কে, কিভাবে, কাকে দেবে? প্রধান বিচারপতি বলেন, সেটা আমরা বলে দেবো।  

বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, একবার জামিনে গেলে আর তাদের ধরা যাবে না। রোকন উদ্দিন মাহমুদ বলেন, আপনারা আগে যে শর্ত দিয়েছেন তা বিবেচনা করুন। এরপর তার আবেদনে শুনানি ৮ সপ্তাহ মুলতবি করা হয়। গতবছর ১৩ নভেম্বর আপিল বিভাগ শর্তসাপেক্ষে ডেসটিনির চেয়ারম্যান ও এমডি জামিন আবেদন মঞ্জুর করার বিষয়ে শর্ত দিয়েছিলেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

আদেশে বলা হয়, নগদ আড়াই হাজার কোটি টাকা অথবা গাছ বিক্রি করলে দুই হাজার ৮শ কোটি টাকা ছয় সপ্তাহের মধ্যে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিলে জামিন পাবেন। আদালতের শর্ত মেনে টাকা জমা না দেওয়ায় এখনও কারাগারে রয়েছেন রফিকুল আমিন ও মোহাম্মদ হোসাইন। এ অবস্থায় গতবছরের ওই আদেশ সংশোধন চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়। এ আবেদনের শুনানি চলছে।  

ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমিন ও মোহাম্মদ হোসেনসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে ২০১২ সালের ৩১ জুলাই রাজধানীর কলাবাগান থানায় দুটি মামলা করে দুদক। ২০১৪ সালের ৪ মে দাখিল করা অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেওয়া হয়। এতে আসামি করা হয় ৫৩ জনকে। ৪ হাজার ১১৮ কোটি টাকা আত্মসাত্ এবং এর মধ্যে ৯৬ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ আনা হয় তাঁদের বিরুদ্ধে। এ মামলায় সকল আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।  


মন্তব্য