kalerkantho


জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা

খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের পরবর্তী শুনানি ৭ আগস্ট

আদালত প্রতিবেদক   

৩ আগস্ট, ২০১৭ ১৭:২৯



খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের পরবর্তী শুনানি ৭ আগস্ট

ফাইল ছবি

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন বহাল থাকবে কিনা এ জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আগামী ৭ আগস্ট এ বিষয়ে আদেশ দিবেন বলে দিন ধার্য করেছেন আদালত।

একই মামলার অন্য দুই আসামির জামিন বাতিলের আবদেন করা হয়েছে। এরা হলেন, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ।

আজ বৃহস্পতিবার জিয়া ট্রাস্ট সংক্রান্ত দুর্নীতির দুই মামলার ধার্য তারিখে খালেদা জিয়া আদালতে হাজির হতে না পারায় সময়ের আবেদন করা হয়।  

ঢাকার বকশীবাজারে কারা অধিদপ্তরের প্যারেড মাঠে নির্মিত অস্থায়ী এজলাসে ৫ নম্বর বিশেষ জজ ড. আকতারুজ্জামানের আদেশের জন্য পরবর্তী ওই দিন ধার্য করেন।  

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য ছিল।  

শুনানির শুরুতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল চেয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের কার্যক্রম পরিচালনা করতে অনুরোধ করেন।

এ সময় বিচারক খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল কেন করা হবে না- এ বিষয়ে তার আইনজীবীদের কাছে আধা ঘণ্টার (দুপুর দেড়টা থেকে ২টা) মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা চান।

পরে দুপুর ২টায় খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আদালতে একটি লিখিত ব্যাখ্যা দেন। ব্যাখ্যায় বলা হয়, খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য বিদেশে গিয়েছেন।

তিনি সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি দেশে ফিরবেন। দেশে ফেরার পর তিনি আর কখনো হাজিরায় অনুপস্থিত থাকবেন না।  

অন্যদিকে, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের তৎকালীন উপ-পরিচালক নুর আহমেদকে পুনরায় (রিকল) জেরা করার জন্য দিন ধার্য থাকলেও তা হয়নি। পরবর্তী তারিখ ধার্য করা হয়।  

গত ২৭ জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় শুনানিতে বলেন, খালেদা জিয়া আদালতের অনুমতি না নিয়ে বিদেশে গেছেন। এ কারণে মামলায় বিচারকাজ বিলম্ব হচ্ছে। খালেদার জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন জানান। এ আবেদনের উপর কোন আদেশ হয়নি।  

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনকে আসামি করে রমনা থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২০১০ সালের ৫ আগস্ট খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন আর রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

এ মামলায় খালেদা জিয়া ছাড়া চার্জশিটের অন্য আসামিরা হলেন, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। মামলায় তারেক রহমান, কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান পলাতক। অন্যরা জামিনে আছেন।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট খালেদা জিয়াসহ চারজনকে আসামি করে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় এ মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশিদ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

মামলার চার্জশিটের অন্য আসামিরা হলেন খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌচলাচল কর্তৃপক্ষের (বিআইডবি­উটিএ) নৌনিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান। মামলায় হারিছ চৌধুরী পলাতক। অন্যরা জামিনে আছেন।  


মন্তব্য