kalerkantho


সারোয়ার তামিম গ্রুপের জঙ্গিদের চার দিনের রিমান্ড

আদালত প্রতিবেদক    

১৭ জুলাই, ২০১৭ ২১:২৩



সারোয়ার তামিম গ্রুপের জঙ্গিদের চার দিনের রিমান্ড

সাভারের আশুলিয়ায় পাথালিয়া ইউনিয়নের চৌরাবালি এলাকায় জনৈক ইব্রাহিমের জঙ্গি আস্তানায় অভিযানে আত্মসমর্পণকারী চার জঙ্গিকে রিমান্ডে নিয়ে চার দিন করে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফাইরুজ তাসনিম তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

চার জঙ্গি হলেন মোজাম্মেল হক, রাশেদুন নবী, ইরফানুল ইসলাম এবং আলমগীর হোসেন। সাভার থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় তাদেরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাবের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) উনু গং আসামিদের হেফাজতে নিয়ে ১০ দিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চেয়ে আবেদন করে।

আবেদনে বলা হয়, গত ২৭ এপ্রিল সাভার বাসস্ট্যান্ডে ভিলেজ লাইনের একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে অনেক দিন ধরে এ আসামিদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালানো হয়েছে। গত শনিবার রাতে ওই আস্তানা ঘিরে ফেলা হয়। অভিযান শুরুর পরপরই ভেতর থেকে এরা র‌্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এরা গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী নব্য জেএমবির সারোয়ার তামিম গ্রুপের সদস্য। ওই এলাকায় তাদের নাশকতার পরিকল্পনা ছিল।

দীর্ঘ ১১ ঘণ্টার অভিযানে ঘিরে রাখা বাড়ি থেকে একে একে বেরিয়ে এসে র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেন চারজন। এরা বের হয়ে আসার পর বাড়িটিতে বেশ কিছু শক্তিশালী বিস্ফোরক পাওয়া গেছে। জীবিত আটক করায় তাদের কাছ থেকে অনেক বিষয়ে তথ্য পাওয়া যাবে। আসামিদের হেফাজতে নিয়ে নিবিড়ভবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। প্রার্থিত মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করা হোক।

আসামিদের পেন্ডিং (আগেই দায়ের করা)  মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে বিচারকের প্রশ্নের জবাবে তদনন্ত কর্মকর্তা জানান, চালানো এই অভিযানের ঘটনায় মামলার প্রস্ততি চলছে। আদালতে রিমান্ড আবেদন শুনানির সময় আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিল না। বিচারক স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আসামিদের কিছু বলার আছে কিনা জানতে চাইলে তাদের কিছু বলার নেই বলে জানান।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার রাত ১টার দিকে র‌্যাব ৪ এর একটি দল আশুলিয়ার চৌরাবালি এলাকায় ইব্রাহীম নামের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন বাড়ি জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ঘিরে ফেলে। রবিবার সকালে র‌্যাবের স্পেশাল ফোর্স ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেন। সকাল ৯টার পর র‌্যাবের একটি সাঁজোয়া যান (এপিসি) ওই বাড়ির কাছাকাছি যায় এবং আকাশে একটি হেলিকপ্টার টহল দিতে থাকে। দীর্ঘ ১১ ঘণ্টার অভিযানে বাড়ি থেকে একে একে বেরিয়ে এসে আত্মসমর্পণ করেন চার জঙ্গি।  


মন্তব্য