kalerkantho


রংপুরে গৃহবধূ হত্যা মামলায় স্বামী ও দেবরের ফাঁসি

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর   

১৮ মে, ২০১৭ ১৯:১৪



রংপুরে গৃহবধূ হত্যা মামলায় স্বামী ও দেবরের ফাঁসি

প্রতীকি ছবি

রংপুরের তারাগঞ্জে কল্পনা রানী নামে অন্তঃসত্ত্বা স্বীকে হত্যার দায়ে স্বামী নিপেন চন্দ্র (৩৫) ও তার ভাই লক্ষণ চন্দ্রের (৩২) ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান এ রায় প্রদান করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত নিপেন ও লক্ষণ তারাগঞ্জের সয়ার ইউনিয়নের কাজীপাড়া গ্রামের মৃত ধীরেন চন্দ্র রায়ের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় নিপেন আদালতে উপস্থিত থাকলেও লক্ষণ পলাতক ছিলেন।

আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গঙ্গাচড়া উপজেলার মনকষা গ্রামের সুধীর চন্দ্র রায়ের মেয়ে কল্পনা রানীর সঙ্গে নিপেনের বিয়ে হয় ২০০২ সালের মার্চ মাসে। বিয়ের সময় কল্পনার বাবা যৌতুক হিসেবে কিছু টাকা ও আসবাবপত্র দেন। কিন্তু নিপেন এতে সন্তুষ্ট না হয়ে আরও যৌতুক দাবি করেন এবং বিভিন্ন সময়ে কল্পনার ওপর শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন চালাতেন।  

২০০৩ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে এ নিয়ে নিপেন ও তার পরিবারের সদস্যরা মিলে অন্তঃসত্ত্বা কল্পনাকে বেধড়ক মারপিট করেন। একপর্যায়ে ১৮ ফেব্রুয়ারি ভোর ৬টার দিকে মারা যান কল্পনা। খবর পেয়ে সকালে তারাগঞ্জ থানা পুলিশ ওই বাড়ি থেকে কল্পনার মরদেহ উদ্ধার করে।  

এ ঘটনায় নিহত কল্পনার ভাইয়ের শ্যালক সতীশ চন্দ্র বাদী হয়ে নিপেন, তার মা সমীত্রী রানী ও ছোট ভাই লক্ষণ চন্দ্রকে আসামী করে তারাগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।

পুলিশ ঘটনার দিনই ওই বাড়ি থেকে সমীত্রী রানী ও নিপেনকে গ্রেপ্তার করলেও সেই থেকে লক্ষণ চন্দ্র পলাতক রয়েছেন। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ওই বছরের ১৫ মে ৩ জনকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তৎকালীন তরাগঞ্জ থানা পুলিশের এসআই মমতাজুল ইসলাম।  

পরবর্তীতে সমীত্রী রানী জামিনে বেরিয়ে আসেন এবং মামলা চলাকালীন সময়ে মৃত্যুবরণ করেন। দীর্ঘদিন মামলাটি আদালতে বিচারাধীন থাকার পর আজ বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টার দিকে এর রায় ঘোষণা করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আকতারুজ্জামান পলাশ এবং আসামী পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট সৈয়দ ফারুক আলম।


মন্তব্য