kalerkantho


পাওনা টাকা নিয়ে পোশাক শ্রমিক হত্যায় যুবকের যাবজ্জীবন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ মার্চ, ২০১৭ ১৮:৫১



পাওনা টাকা নিয়ে পোশাক শ্রমিক হত্যায় যুবকের যাবজ্জীবন

গাজীপুরে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে গার্মেন্টস কর্মী মো. নিরু মিয়া ওরফে বিজয় (২৬) হত্যা মামলায় এক যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়াও আদালত তাঁকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেন।

আজ বুধবার দুপুরে আসামির উপস্থিতে গাজীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এ কে এম এনামুল হক  এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত মো. ফরহাদ হোসেন ওরফে মারুফ (৩০) গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বারবৈকা এলাকার নান্নু মিয়ার ছেলে। মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মারুফের ভাই সোহরাব হোসেন (২৮) ও শাহনাজ বেগমকে (৩৫) আদালত খালাস দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পিপি মো. হারিছ উদ্দিন আহম্মদ। আর আসামিপক্ষে  ছিলেন মো. আনোয়ার হোসেন।

রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে গাজীপুর আদালতের পরিদর্শক মো. রবিউল ইসলাম জানান, বারবৈকা এলাকার প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হকের ছেলে বিজয়ের কাছ থেকে একই এলাকার ফরহাদ স্ট্যাম্পের মাধ্যমে কয়েক দিনের জন্য ৫০ হাজার টাকা ধার নেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে ওই টাকা পরিশোধ না করায় বিজয় ওই টাকার জন্য ফরহাদকে একাধিকবার তাগাদা দেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। বারবার টাকার জন্য তাগাদা দেওয়ায় ফরহাদ ক্ষিপ্ত হয়ে বিজয়কে বিভিন্ন সময় হত্যার হুমকি দেন।

পরে ঘটনাটি বিজয় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানান। ২০১২ সালের ১০ মে বেলা ১১টার দিকে ফরহাদ তাঁর ভাই সোহরাব ও বোন শাহনাজ বেগমকে সঙ্গে নিয়ে বিজয়দের বাড়ি যান এবং স্ট্যাম্পটি ফেরত দিয়ে তাঁদের সঙ্গে (আসামিদের) বাসায় যেতে বলেন। এ সময় বিজয় স্ট্যাম্পসহ তাঁদের সঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। এর দুদিন পর স্থানীয় মো. কফিল উদ্দিনের বাসার পশ্চিমে একটি ডোবায় বিজয়ের লাশ পাওয়া যায়।

তিনি আরো জানান, এ ব্যাপারে নিহত ব্যক্তির মা নিলুফার বেগম ওই বছরের ১৩ মে জয়দেবপুর থানায় বাদী হয়ে মামলা ওই তিনজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। জয়দেবপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কামরুজ্জামান তদন্ত করে ২০১৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি আদালতে তাঁদের নামে অভিযোগপত্র জমা দেন। ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত সোহরাব হোসেন ও শাহনাজ বেগমকে মামলা থেকে বেকসুর খালাস ও ফরহাদকে দণ্ড দেন।


মন্তব্য