kalerkantho


শত কোটি টাকার জমির মামলা, জরিমানা ২০০ টাকা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ মার্চ, ২০১৭ ১০:০৬



শত কোটি টাকার জমির মামলা, জরিমানা ২০০ টাকা

নিম্ন আদালত, হাইকোর্ট, আপিল বিভাগেও মামলায় হেরে যাওয়ার পর রিভিউ করে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে শত কোটি টাকারও বেশি মূল্যের একবিঘা জমির মালিকানা পেয়েছে সরকার। এই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ চূড়ান্ত রায় দিয়েছেন।

পাশাপাশি বাড়ির মালিকানার ভুয়া দাবিদার এক পুলিশ কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীকে করা হয়েছে ২০০ টাকা করে জরিমানা। পুলিশ পরিদর্শক মো. শাহিন ও প্রকৌশলী মোয়াজ্জেম হোসেন রায়ের পরপরই জরিমানার টাকা আদালতে জমা দেন। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ মঙ্গলবার সরকারের আপিল আবেদন মঞ্জুর করে এ রায় দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। বিবাদীপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট প্রবীর নিয়োগী ও শাহ মুনির শরীফ।

মামলার নথিপত্রে দেখা যায়, ধানমণ্ডি ৬ নম্বর সড়কের ৪০ নম্বর বাড়িটির মালিক হাকিম এস এ আলী ১৯৭১ সালে ভারতে চলে গেলে সরকার বাড়িটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। পরে পূর্ত মন্ত্রণালয় বাড়িটি সিরাজগঞ্জের তৎকালীন এমপি সৈয়দ হায়দার আলীকে ১৯৭২ সালের ১ জানুয়ারিতে মাসিক ৭০০ টাকা ভাড়া পরিশোধের শর্তে বরাদ্দ দেয়। ১৯৭৫ সালে পূর্ত মন্ত্রণালয় বাড়িটি ফেরত নিয়ে নাজমা মজিদকে বরাদ্দ দেয়। এরপর থেকে নাজমাই নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করে বসবাস করে আসছিলেন।

১৯৮২ সালে হোসেনে আরা বেগম নামে এক নারী বাদী হয়ে ঢাকার সাব জজ আদালতে একটি মামলা করেন। সম্পত্তিটির মূল মালিক হাকিম এস এ আলীকে মৃত দেখিয়ে তার উত্তরাধিকার হিসেবে নাজনীন বেগম, রানা আলী ও ফারজানা আলী হাকিমকে দেখানো হয়। মামলায় নিম্ন আদালত ২০০০ সালের ২ মে বাদীপক্ষে রায় দেয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে সরকার হাইকোর্টে আপিল করে। হাইকোর্ট সরকারের আবেদন খারিজ করে ২০০৫ সালে রায় দেন।

এরপর সরকার হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার অনুমতি চেয়ে (লিভ টু আপিল) আবেদন করে আপিল বিভাগে। আপিল বিভাগও সরকারের আবেদন খারিজ করে দেন। এরপর সরকার রিভিউ আবেদন করলে আদালত ২০১১ সালের ২৯ এপ্রিল রিভিউ আবেদন গ্রহণ করে আপিল করার অনুমতি দেন। এরপর সরকার আপিল করে। এরপর তাদের দুজনকে ২০০ টাকা করে জরিমানার আদেশ দিয়ে আদালত বলেন, এরপর কোনো প্রতারণা করলে শাস্তি পেতে হবে।

আদেশের পর ওই দুই ব্যক্তি পকেট থেকে ২০০ টাকা করে বের করে দিতে গেলে আদালত রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের ডাকেন। এরপর আদালত সরকারের আপিল মঞ্জুর করে আদেশ দেন। অন্যদিকে ওই দুজন রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে গিয়ে জরিমানার টাকা জমা দিয়ে কারাগারে যাওয়া থেকে রক্ষা পান। তারপর তারা আদালত এলাকা ত্যাগ করেন।  

 


মন্তব্য