kalerkantho


হলি আর্টিজানে জঙ্গী হামলা বড় মিজান ৭ দিন রিমান্ডে

আদালত প্রতিবেদক   

১৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:২১



হলি আর্টিজানে জঙ্গী হামলা বড় মিজান ৭ দিন রিমান্ডে

রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলা মামলায় জেএমবির সক্রিয় সদস্য মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজানকে হেফাজতে নিয়ে সাত দিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর হাকিম মো. মাজহারুল হক ওই আদেশ দেন।

এর আগে আসমিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। তার পক্ষে কোন আবেদন ছিল না।  

ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাউন্টার টেররিজমের পরিদর্শক হুমায়ুন কবির আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তদন্তের স্বার্থে হেফাজতে নিয়ে ১০ দিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন।  

আবেদনে বলা হয়, হলি আর্টিজানে জঙ্গী হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র এই মিজান সরবরাহ করে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে। এ আসামির সাথে নব্য জেএমবির শীর্ষ পলাতক নতাদের সাথ ঘনিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে। আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে এবং পলাতক নেতাদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ন তথ্য জানা সম্ভব হবে।  

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে মিজানকে গ্রেপ্তার করা হয়। দারুস সালাম থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় প্রথমে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গত ৫ মার্চ ওই মামলায় তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

ওই রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। মিজানকে গ্রেপ্তারের পর গত ১ মার্চ এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ কমিশনার মো. ছানোয়ার হোসেন জানায়, সে নব্য জেএমবির’ অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহকারী চক্রের প্রধান।  

তিনি বলেন, মিজান আগে জুনুদ আল তাওহীদ নামে একটি জঙ্গি সংগঠনের প্রধান সামরিক কমান্ডার ছিল। সে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তবর্তী শিবগঞ্জ এলাকার ‘প্রধান দায়িত্বশীল’ বলে হিসেবে কাজ করত। পরবর্তী সময়ে তামিম চৌধুরীর মাধ্যমে নব্য জেএমবির বাইয়াত নেন। পরে তার নেতৃত্বে অস্ত্র ও গ্রেনেড তৈরির উপকরণ, ডেটোনেটর ও জেল চোরাচালানের একটি চক্র বা সিন্ডিকেট তৈরি করে, যারা নব্য জেএমবির প্রায় সকল অস্ত্র, ডেটোনেটর ও জেল সরবরাহ করে আসছিল।  

তিনি আরও বলেন, হলি আর্টিজান হামলায় ব্যবহার করা অস্ত্র ও গোলাবারুদ মিজান সরবরাহ করে। পরে সেগুলো বসুন্ধরায় তানভীর কাদেরীর বাসায় তামিম চৌধুরীর কাছে পৌঁছানো হয়।

গত বছরের ১ জুলাই রাতে অস্ত্র-বিস্ফোরক নিয়ে কূটনীতিকপাড়া গুলশানের হলি আটির্জান বেকারিতে জিম্মিদশা তৈরি করে জঙ্গিদের একটি দল। তাদের ঠেকাতে নিয়ে বেকারি থেকে ছোড়া গ্রেনেডে দুই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। পরে জিম্মিদশার ১২ ঘণ্টা পর কমান্ডো অভিযান শেষে বেকারির ভেতর থেকে ১৭ বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। অভিযানে নিহত হয় হলি আর্টিজানের পাচক সাইফুল ইসলামসহ পাঁচ জঙ্গি। উদ্ধার করা হয় একটি একে-২২ রাইফেল ও বিস্ফোরকসহ বেশকিছু দেশীয় অস্ত্র।  

ওই ঘটনায় এসআই রিপন কুমার দাস গত ৪ জুলাই রাতে সন্ত্রাস দমন আইনে গুলশান থানায় ওই মামলা করেন। এ মামলায় এখন পর্যন্ত  এক ভারতীয় নাগরিকসহ নয়জন সাক্ষি হিসাবে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা অনুযায়ী সাক্ষ্য দেন।  

মামলায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিম, কল্যাণপুরে জঙ্গিবিরোধী অভিযানের সময় আটক রাকিবুল ইসলাম রিগ্যান ও রাজীব গান্ধীকে গুলশান হামলা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। রিগ্যান গত বছরের ৩ অক্টোবর ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার বিষয়ে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন।

জানা গেছে, বড় মিজান পেশায় মৎস্যচাষী। শিবগঞ্জ থানার বাসিন্দা এই ব্যক্তি ভারত থেকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক চোরাচালানের মাধ্যমে এনে সরবরাহ করতেন। ভারতের বিভিন্ন খনি এলাকায় বিস্ফোরণের কাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরক জেল ও ডেটোনেটর সংগ্রহ করে ওগুলো দিয়েই বোমা বানাত জঙ্গিরা।

গত বছরের ২ নভেম্বর রাজধানীর গাবতলী থেকে নব্য জেএমবির অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহকারী সন্দেহে চাঁপাইনবাবগঞ্জের চারজন গ্রেপ্তার হয়। তারা জেএমবির চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সামরিক শাখার দায়িত্বে নিয়োজিত বলে জানায় পুলিশ। তাদের কাছ থেকে গ্রেনেড তৈরির উপকরণ, ৭৮৭টি ডেটোনেটর ও একটি নাইন এমএম পিস্তল উদ্ধার করা হয়। তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ মামলাটিতেও মিজানকেও গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মূলত, ২০১১ সালের দিকে জুনুদ আত তাওহিদের সঙ্গে যুক্ত হন বড় মিজান। নব্য জেএমবির সঙ্গে যুক্ত তার ভাই আবু তাহেরও বর্তমানে কারাগারে রয়েছে।


মন্তব্য