kalerkantho


পুলিশ দম্পতি হত্যা: ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল শুনানি শুরু

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ মার্চ, ২০১৭ ১৭:৩২



পুলিশ দম্পতি হত্যা: ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল শুনানি শুরু

বাবা-মাকে হত্যার দায়ে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দিয়ে দেওয়া বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে মেয়ে ঐশী রহমানসহ দণ্ডিত অন্য আসামিদের খালাস চেয়ে আনা আপিল শুনানি শুরু হয়েছে। বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চে গতকাল রবিবার এ শুনানি শুরু হয়। আজ সোমবারও এ মামলাটি কার্যতালিকার ৩ নং ক্রমিকে রাখা হয়েছে।  

বাবা-মাকে হত্যার দায়ে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দিয়ে দেওয়া বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে মেয়ে ঐশী রহমানের খালাস চেয়ে আনা আপিল শুনানির জন্য ২০১৫ সালের ৭ ডিসেম্বর গ্রহণ করে হাইকোর্ট। এরপর মামলার পেপার বুক প্রস্তুত করা হয়। গতকাল ১২ মার্চ ডেথ রেফারেন্স ও মামলায় আনা আপিল শুনানি শুরু হয়।

ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দেওয়া বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে মেয়ে ঐশী রহমান খালাস চেয়ে ২০১৫ সালের ৬ ডিসেম্বর আপিল করেছেন। ঐশী রহমানকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যু কার্যকরের আদেশ দিয়ে দেওয়া বিচারিক আদালতের রায়ের নথিসহ ডেথ রেফারেন্স ২০১৫ সালের ১৯ নভেম্বর হাইকোর্টে এসে পৌঁছায়।  

এর আগে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (পলিটিক্যাল শাখা) পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমান হত্যা মামলায় ১২ নভেম্বর নিহতদের একমাত্র মেয়ে ঐশী রহমানকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেন ঢাকার ৩ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাঈদ আহমদের আদালত। এই রায়ে ঐশীকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক বছর কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়াও মামলার অন্য আসামি ঐশীর বন্ধু মিজানুর রহমান রনিকে খুনের ঘটনার পর ঐশীদের আশ্রয় দেওয়ার অপরাধে দুই বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অনাদায়ে তাকে আরও এক মাস কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। অপর আসামি ঐশীর বন্ধু আসাদুজ্জামান জনি খালাস পেয়েছেন।

দুটি খুনের জন্য পৃথক দুটি অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল। দুটি অপরাধের জন্য আলাদা আলাদা করে ঐশীকে দুইবার ফাঁসি ও দু’বারে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ফৌজদারি আইন অনুযায়ী বিচারিক আদালত ঘোষিত ফাঁসির রায় কার্যকর করতে হলে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমতি নিতে হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৬ আগস্ট রাজধানীর মালিবাগের চামেলীবাগে নিজেদের বাসা থেকে মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানের ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরদিন ঐশী গৃহকর্মী সুমীকে নিয়ে রমনা থানায় আত্মসমর্পণ করেন। গত বছরের ৯ মার্চ ডিবির ইন্সপেক্টর আবুয়াল খায়ের মাতুব্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে ঐশীসহ চারজনকে অভিযুক্ত করে পৃথক দুটি চার্জশিট দাখিল করেন। অপর আসামি গৃহকর্মী খাদিজা আক্তার সুমি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার মামলাটির বিচার শিশু আদালতে হয়।


মন্তব্য