kalerkantho


পুলিশ দম্পতি হত্যা: ঐশীর ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শুরু

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ মার্চ, ২০১৭ ১৯:০৯



পুলিশ দম্পতি হত্যা: ঐশীর ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শুরু

পুলিশ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী হত্যায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া তাঁদের মেয়ে ঐশী রহমানের মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি হাইকোর্টে শুরু হয়েছে। আজ রবিবার বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের ডিভিশন বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়।

প্রথম দিনে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল হক জহির। অপরদিকে আসামিপক্ষে শুনানি করেন ঐশীর আইনজীবী আফজাল এইচ খান ও সুজিত চ্যাটার্জি বাপ্পী। সঙ্গে ছিলেন মাহবুবুর রহমান রানা।  

শুনানির শুরুতে ঐশীর আইনজীবী আফজাল এইচ খান আদালতকে বলেন, ‘এ মামলায় অনেক ভুলভাবে অভিযোগ গঠন ও রায় দেওয়া হয়েছে। আপিলে আমরা বিষয়টি পরিষ্কার করব। বিশেষ করে ঐশীর বয়স ও ডিএনএ টেস্টের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ভুল রয়েছে। ’

এরপর আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল হক জহির এ মামলার ৭২০ পৃষ্ঠার পেপারবুক (ডেথ রেফারেন্সের নথি) পড়া শুরু করেন।

মামলার শুনানি বিষয়ে জানতে চাইলে আইনজীবী মাহবুব হাসান রানা বলেন, ‘আপিলে আমরা ২৫টি যুক্তি দেখিয়েছি। এর মধ্যে অন্যতম যুক্তি হলো মামলার বাদী ঐশীর চাচাকে জেরা করার সময় তিনি বলেছেন, তাঁর ভাই নিহত মাহফুজুর রহমান বিয়ে করেছেন ১৯৯৪ সালে।

মেয়ে ঐশীর জন্ম হয়েছে ১৮ আগস্ট ১৯৯৬ সালে। এ ঘটনার সময় ঐশীর বয়স হয় ১৬ বছর। কিন্তু প্রসিকিউশন ১৯ বছর বয়স দেখিয়ে তাঁকে শিশু আইনে বিচার করতে দেয়নি। বাংলাদেশি ফৌজদারি আইন অনুযায়ী তিনি একজন কিশোরী। প্রাপ্তবয়স্ক হতে হলে তাঁর ১৮ বছর দরকার হতো। এছাড়া একজন আসামিকে ডিএনএ টেস্ট করার জন্য ছয়টি এক্স-রে করতে হয়। সেখানে ঐশীকে মাত্র তিনটি টেস্ট করা হয়েছে। নিয়মানুযায়ী এসব পরীক্ষার এক্স-রে কপি আদালতে উপস্থাপন না করে শুধু রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। ’

তিনি আরো বলেন, ‘এছাড়া ২১ নম্বর সাক্ষী ডা. নাহিদ মাহজাবীন মোর্শেদের সাক্ষ্য আমলে নেননি আদালত। যিনি তাঁর সাক্ষ্যে বলেছেন, ঘটনার সময় ঐশীর মানসিক ভারসাম্য ছিল না। এক বোতল হুইস্কি খেয়েছিল ঐশী রহমান। ’

মামলার বিবরণে জানা যায়, পুলিশ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না রহমানকে হত্যার দায়ে মেয়ে ঐশী রহমানকে ২০১৫ সালের ১৫ নভেম্বর দুইবার মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। প্রত্যেক মৃত্যুদণ্ডের সঙ্গে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং অনাদায়ে দুই বছর কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। একটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পর অন্যটি সরাসরি বাতিল হয়ে যাবে।
একই সঙ্গে ঐশীর বন্ধু মিজানুর রহমান রনিকে দুই বছর কারাদণ্ডাদেশ ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশপাশি অনাদায়ে আরো এক মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয় তাকে। মামলার অপর আসামি আসাদুজ্জামান জনিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। ঢাকার ৩ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাঈদ আহমেদ এ রায় ঘোষণা করেন।

ওই দিন বিচারক রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষ ঐশীর প্রকৃত বয়স প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। আর সে যে সাবালিকা, এটাও প্রমাণ হয়েছে। ’ অপরদিকে আসামিপক্ষ ঐশীর বয়সের পক্ষে যা যুক্তি দিয়েছে, তা যথাযথ নয় বলে মন্তব্য করেন আদালত।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ‘ঘটনার দিন ঐশী নেশাগ্রস্ত ছিল। তার ক্রিমিনাল ইনটেন্ট (অপরাধ সংঘটনের ইচ্ছা) ছিল। হঠাৎ করেই কোনো উত্তেজনা ছিল না, পূর্বপরিকল্পিতভাবে সে তার বাবা-মাকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করে। সে সুকৌশলে কফির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে তার বাবা-মাকে হত্যা করেছে। ’


মন্তব্য