kalerkantho


শিশু অলি হত্যা : ভগ্নিপতিসহ দুইজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ মার্চ, ২০১৭ ১৮:০৬



শিশু অলি হত্যা : ভগ্নিপতিসহ দুইজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল

রাজশাহীতে শ্বশুরের সম্পত্তি পাওয়ার লোভে আট বছর বয়সী শ্যালককে হত্যার দায়ে ভগ্নিপতিসহ দুইজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট। একই সঙ্গে মামলার আরেক আসামির যাবজ্জীবন সাজা কমিয়ে ১৪ বছর কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

সাত বছর আগের এই হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষে আজ রবিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি শহিদুল করিমের হাই কোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- ভগ্নিপতি সাহেব আলী ও মো. মুকুল হোসেন। আরক যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি হলেন মো. রাসেল।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহমেদ ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ মাহমুদ মোরশেদ। আর আসামিপক্ষে শুনানি করেন এএফএম মেজবাহ উদ্দিন ও এসএম মুবিন।

এ ব্যাপারে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহমেদ জানান, হাই কোর্টের রায়ে সাহেব ও মুকুলের সর্বোচ্চ সাজার রায় বহাল রাখা হলেও রাসেলের সাজা কমিয়ে তাকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “রাসেল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন না। সহযোগিতার দায়ে তাকে সাজা দিয়েছে আদালত। ”

প্রসঙ্গত, আসামিদের মধ্যে সাহেব আলী শিশু অলির আপন বোনের স্বামী, আর মুকুল হোসেন খালাতো বোনের স্বামী।

তাদের পরিকল্পনাতেই গত ২০১০ সালের ২৬ এপ্রিল রাজশাহীর মোহনপুরের কৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র  অলিকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। পরে এ ঘটনায় আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সাহেব আলী বলেন, অপহরণের ঘটনার দিন আসামি রাসেল বাই সাইকেলে করে অলিকে স্কুল থেকে নিয়ে আসে। এরপর তাকে পদ্মার পারে নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন রাত ২টার দিকে বিদিরপুরে তারা সাহেব আলীর সঙ্গে দেখা করে। পরে বেরাবাড়ির আব্দুল আজিজের ভুট্টা ক্ষেতে নিয়ে শ্বাসরোধ করে অলিকে হত্যার পর তার লাশ মাটিচাপা দেওয়া হয়।

এ হত্যা মামলায় রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ২০১২ সালের ২৩ জানুয়ারি সাহেব আলী ও মুকুল হোসেনকে মৃত্যদণ্ড এবং রাসেলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। আসামিরা ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে শুনানি শেষে আজ রবিবার এ রায় দেয় হাই কোর্ট।


মন্তব্য