kalerkantho


হাজারীবাগের ট্যানারি বন্ধে হাইকোর্টের রায় আপিলে বহাল

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ মার্চ, ২০১৭ ১১:০৪



হাজারীবাগের ট্যানারি বন্ধে হাইকোর্টের রায় আপিলে বহাল

হাজারীবাগের সকল ট্যানারি বন্ধে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। রায় স্থগিত চেয়ে করা আবেদন খারিজ করে রবিবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে তিন সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এর আগে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) এক আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ৬ মার্চ বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. সেলিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ হাজারীবাগে অবস্থিত সকল চামড়াশিল্প কারখানা অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দেন।

একই সঙ্গে এসব কারখানার বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করারও নির্দেশ দেওয়া হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। নির্দেশ বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্র, শিল্পসচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শককে সহযোগিতা করতে বলেছেন আদালত।

আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন বিষয়ে আগামী ৬ এপ্রিল পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়াও হাজারীবাগে কাঁচা চামড়া প্রবেশ বন্ধে সরকারের বিভিন্ন এজেন্সিগুলোর কাছ থেকে কেমন সহযোগিতা পাচ্ছে, সে বিষয়ে একই সময়ে শিল্প মন্ত্রণালয়কে আরেকটি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। আগামী ১০ এপ্রিল এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ শুনানি হবে।

আদালতে বেলার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও মিনহাজুল হক চৌধুরী। শিল্প মন্ত্রণালয়ের পক্ষে ছিলেন রইস উদ্দিন আহমেদ।

পরে রিজওয়ানা হাসান আদেশের বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, সর্বশেষ ২০১০ সালের অক্টোবরে ট্যানারিগুলোকে স্থানান্তরে ছয় মাস সময় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। সে অনুসারে ২০১১ সালে ৩০ এপ্রিলের পর হাজারীবাগে ট্যানারি চালানোর অনুমোদন নাই। এরপরও সরকার ট্যানারিগুলোকে একাধিকবার সময় দিয়েছে। গত ৩১ ডিসেম্বর সর্বশেষ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর তা ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সময় বাড়ানোর ক্ষেত্রে সরকার আদালতের অনুমতি নেয়নি। ফলে সরকারের সময় বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে জানুয়ারিতে আবেদন করি। এ আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত হাজারীবাগের সকল ট্যানারি অবিলম্বে বন্ধ এবং কারখানাগুলোর বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার আদেশ দিয়েছেন।

অপরদিকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আইনজীবী রইস উদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, আমরা শিল্প মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রতিবেদন দিয়ে জানিয়েছি ৪৩টি ট্যানারি সাভারে স্থান্তর করা হয়েছে। বহু ট্যানারি এখনও স্থানান্তর করা হয়নি। এ ছাড়া গত ৩১ জানুযারি শিল্প মন্ত্রণালয় হাজারীবাগে কাঁচা চামড়া প্রবেশ বন্ধে বিভিন্ন অধিদপ্তরের কাছে সহযোগিতা চায়। সরকারের এসব অধিদপ্তর থেকে শিল্প মন্ত্রণালয় কতটুকু সহযোগিতা পাচ্ছে সে বিষয়ে একটি প্রতিবেদন আগামী ৬ এপ্রিল দিতে বলেছেন আদালত।


মন্তব্য