kalerkantho


শেরপুরে হত্যা মামলায় তিন যুবকের যাবজ্জীবন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ মার্চ, ২০১৭ ২১:১২



শেরপুরে হত্যা মামলায় তিন যুবকের যাবজ্জীবন

শেরপুরে কিশোর বিল্লাল হোসেন (১২) হত্যা মামলায় তিন যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদেরকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা ও অনাদায়ে আরও ছয় মাস করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে শেরপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন এ রায় দেন।

সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন শেরপুর সদর উপজেলার শেরীঘাট এলাকার ছানোয়ার হোসেন (২১), একই এলাকার বিষু (২৫) ও শ্রীবরদী উপজেলার গিলাগাছা গ্রামের নুর হোসেন (২২)। এঁদের মধ্যে ছানোয়ার হোসেন পলাতক।

মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) মো. ইমাম হোসেন বলেন, এ রায়ের ফলে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের নির্মম ও পৈশাচিক কায়দায় শিশু হত্যা করার সাহস পাবে না।  

অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. আবদুল মজিদ বলেন, তাঁরা ন্যায়বিচার পাননি। এ রায়ের বিরুদ্ধে তাঁরা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে, একটি মুঠোফোন চুরির ঘটনা নিয়ে কিশোর বিল্লাল হোসেনের সঙ্গে ছানোয়ার, বিষু ও নুর হোসেনের দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এরা সকলেই একটি রেস্তোরাঁর কর্মচারী ছিলেন। ওই ঘটনার জের ধরে ২০১১ সালের ২৩ মে রাতে ওই তিনজন বিল্লালকে সিনেমা দেখার কথা বলে ডেকে নিয়ে যান। পরে তাঁরা শেরপুর শহরের শেরীঘাট সেতুর নিচে নিয়ে বিল্লালকে মৃত গরুর হাড় দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করেন।

এরপর তাঁরা হাত-পা বেঁধে লাশটি একটি ট্রাংকের ভেতর ঢুকিয়ে তা নদীতে ভাসিয়ে দেন। পরদিন ২৪ মে সকালে সদর উপজেলার ভাটারাঘাট ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন নদীতে মাছ ধরার সময় জেলেদের জালে ট্রাংকটি আটকা পড়ে। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ওইদিনই সদর থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীকালে তদন্ত করে পুলিশ হত্যাকারীদের শনাক্ত করে এবং ওই তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে। তাঁরা ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপরে ২০১১ সালের ৩১ আগস্ট সদর থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মোস্তাফিজুর রহমান তাঁদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

 


মন্তব্য