kalerkantho


কুনিও হোশি হত্যা মামলায় পাঁচজনের ফাঁসি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১১:১৫



কুনিও হোশি হত্যা মামলায় পাঁচজনের ফাঁসি

রংপুরের চাঞ্চল্যকর জাপানি নাগরিক কুনিও হোমি হত্যা মামলায় পাঁচজনকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে রংপুরের বিশেষ জজ নরেশ চন্দ্র সরকারের আদালতে এই রায় দেন। মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে এই রায় দেওয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামিরা হলেন জেএমবির আঞ্চলিক কমান্ডার মাসুদ রানা, ইসহাক আলী, লিটন মিয়া, আহসান উল্লাহ আনসারী ও সাখাওয়াত হোসেন। এ ছাড়া আবু সাঈদ খালাস পেয়েছেন। আসামিদের মধ্যে আহসান উল্লাহ আনসারী পলাতক।

এর আগে রায় পড়ার সময় মামলার আসামি নিষিদ্ধ ঘোষিত জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) আট জঙ্গির মধ্যে গ্রেপ্তারকৃত পাঁচজনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। তারা হচ্ছেন জেএমবির পীরগাছার আঞ্চলিক কমান্ডার উপজেলার পশুয়া টাঙ্গাইলপাড়ার মাসুদ রানা ওরফে মামুন ওরফে মন্ত্রী (২১), একই এলাকার ইছাহাক আলী (২৫), বগুড়ার গাবতলী এলাকার লিটন মিয়া ওরফে রফিক (২৩), পীরগাছার কালীগঞ্জ বাজারের আবু সাঈদ (২৮) এবং গাইবান্ধার সাঘাটার হলদিয়ার চর এলাকার সাখাওয়াত হোসেন (৩২)।

বাকি তিন আসামির মধ্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কুড়িগ্রামের রাজারহাটের মকর রাজমাল্লী এলাকার আহসান উল্লাহ আনসারী ওরফে বিপ্লব (২৪) পলাতক।

অন্য দুজন বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় তাদেরকে মামলার অভিযোগ থেকে বাদ দিয়ে রায় ঘোষিত হয়েছে। তাদের মধ্যে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জের গজপুরি এলাকার নজরুল ইসলাম ওরফে হাসান ওরফে বাইক হাসান (২৮) অভিযোগ গঠনের আগেই গত বছরের ১ আগস্ট রাজশাহীতে এবং কুড়িগ্রামের রাজারহাটের চর বিদ্যানন্দ এলাকার সাদ্দাম হোসেন ওরফে রাহুল ওরফে চঞ্চল ওরফে সবুজ ওরফে রবি (২১) অভিযোগ গঠনের পরে গত ৫ জানুয়ারি ঢাকার মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।

জেএমবির ওই আট জঙ্গির বিরুদ্ধে গত বছরের ৭ আগস্ট রংপুরের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউনিয়া থানার ওসি আব্দুল কাদের জিলানী।

পরে মামলাটি রংপুরের বিশেষ জজ নরেশ চন্দ্র সরকারের আদালতে স্থানান্তরিত হলে গত বছরের ১৫ নভেম্বর সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়।

মামলায় বাদীপক্ষের ৫৫ জন সাক্ষী এবং আসামিপক্ষের একজন সাফাই সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন আদালত। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি আসামি সাখাওয়াত হোসেনের পক্ষে আব্দুল মজিদ মণ্ডল আদালতে সাফাই সাক্ষ্য দেন। এর মধ্য দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়।

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার কাজ শেষ হলে ২৮ ফেব্রুয়ারি রায়ের দিন ধার্য করেন আদালত।

বাদীপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) রথীশ চন্দ্র ভৌমিক। আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট আফতাব হোসেন ও আবুল হোসেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার সারাই ইউনিয়নের আলুটারী গ্রামে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি রিকশায় তার ঘাসের খামারে যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন। এ ঘটনায় কাউনিয়া থানার তৎকালীন ওসি রেজাউল করিম বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের নামে হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত চলাকালে মাসুদ রানা নামে এক জঙ্গিকে আটক করে পুলিশ। সে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জাপানি নাগরিককে গুলি করে হত্যার কথা স্বীকার করে। জবানবন্দিতে সে তার সহযোগী জঙ্গিদের নামও প্রকাশ করে। এরপর জঙ্গি এছাহাক আলী ও লিটন গ্রেপ্তার হলে তারাও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

তদন্ত শেষে গত বছরের ৩ জুলাই মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা কাউনিয়া থানার ওসি আব্দুল কাদের জিলানী আট জঙ্গির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এদের মধ্যে মাসুদ রানা, এছাহাক আলী, লিটন, সাখাওয়াত ও আবু সাঈদ গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আটক আছে। বাকি তিন আসামি নজরুল ইসলাম ওরফে বাইক হাসান, সাদ্দাম হোসেন ও আহসান উল্লাহ আনসারী পলাতক ছিল। মামলা চলাকালীন পলাতক তিন আসামির মধ্যে সাদ্দাম ও বাইক হাসান পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। বর্তমানে আহসান উল্লাহ আনসারী পলাতক আছে। মামলায় বাদীপক্ষে ৫৫ জন এবং আসামিপক্ষে একজন সাফাই সাক্ষী দেয়।


মন্তব্য