kalerkantho


হত্যার পর লাশ ১৪ টুকরা

দুই ডাকাতের মৃত্যুদণ্ড

আদালত প্রতিবেদক   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২০:৪৪



দুই ডাকাতের মৃত্যুদণ্ড

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর এলাকায় জনৈক সবুজ মিয়া ওরফে আলমকে হত্যার পর লাশ ১৪ টুকরা করার মামলায় দুই ডাকাতের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। নিহত সবুজ সরারচর ইউনিয়নের যুবলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।  

এছাড়া মামলার আলামত (নিহতের লাশ) নষ্ট করার অপরাধে এক আসামির পাঁচ বছর কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা আনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। তিনজনের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে। আজ রবিবার ঢাকার ৪ নম্বর দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবদুর রহমান সরদার ওই রায় ঘোষণা করেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, সমাজে অপহরণ, গুম ও খুন অহরহ বাড়ছে। দেশে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাকল্পে এ ধরনের মামলায় আসামিদের উপযুক্ত বিচার হওয়া আবশ্যক। ফলে এ মামলায় আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে এ ধরনের নির্মম, নৃশংস ও অগ্রহণযোগ্য ভয়ঙ্কর হত্যাসহ এ জতীয় অভিশাপ থেকে সমাজকে মুক্তি দেয়া সম্ভব হবে না।  

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, মো. এনাম হোসেন খোকন (পলাতক) ও মো. উনা মিয়া ওরফে উনা ডাকাত। আলামত নষ্ট করার অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন মো. সাদেক। বেকসুর খালাস পেয়েছেন শাহিন মিয়া, সাইফুল ইসলাম ওরফে টিপু, বদরুল আলম ওরফে শিপু ও মামুন মিয়া।

 

রায় ঘোষনার আগে দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি এনাম পলাতক। খালাস পাওয়া আসামিরা জামিনে থেকে আদালতে হাজির ছিলেন।  

ঘটনার বিবরনে জানা গেছে, নিহত সবুজ সরারচর ইউনিয়নের যুবলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। ২০১২ সালের ২১ আগস্ট রাত ১০টার পর আঙ্গুর মিয়া বাড়ি থেকে আসামি বাদল ভূইয়া সবুজকে ডেকে নিয়ে যায়। ওই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী প্রথমে বাজিতপুর থানায় একটি জিডি করেন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর ২৪ আগস্ট সকাল ৯টায় নুরপুর বিলে শহিদুল ইসলামের ব্রিক ফিল্ডে নিহতের মানিব্যাগ পাওয়া যায়। আরও খোঁজাখুঁজির বিলের পানিতে কচুরী পানার নিচে এক বস্তায় সবুজের তিন টুকরা লাশ পাওয়া যায়। জবানবন্দিতে তারা জানায়, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে প্রথমে সবুজকে ছুরি দিয়ে জবাই করে হত্যার পর ১০টি বস্তায় লাশ ১৪ টুকরা করে ইট ভরে দিয়ে বিলের পানিতে ডুবিয়ে রাখে।


মন্তব্য