kalerkantho


অভিজিৎ হত্যাকাণ্ড : ২ বছরেও গ্রেপ্তার হয়নি খুনিরা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১১:৩৮



অভিজিৎ হত্যাকাণ্ড : ২ বছরেও গ্রেপ্তার হয়নি খুনিরা

২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে বইমেলা থেকে ঘরে ফেরার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক ব্লগার ও বিজ্ঞানমনস্ক লেখক অভিজিৎ রায়। একই সময় তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যাও দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর জখম হন।

এ ঘটনায় অভিজিতের বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ড. অজয় রায় বাদী হয়ে রাজধানীর শাহবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

কিন্তু হত্যাকাণ্ডের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া খুনিদের কেউ ধরা পড়েনি। তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডে সেলিম সহ জড়িত অন্তত ছয়জনকে শনাক্ত করেছেন তারা। এর মধ্যে মুকুল রানা ওরফে শরিফুল নামে একজন পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে। সেলিম ওরফে ইকবাল ওরফে মামুন ওরফে হাদী ২ নামে একজনকে শনাক্ত করতে ও ধরতে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু তার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। বাকি পাঁচজনের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন গণমাধ্যমকে বলেন, অভিজিৎ হত্যা মামলার তদন্ত চলছে। এরই মধ্যে আসামিদের শনাক্তকরণ ও মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। সরাসরি হামলায় অংশ নেওয়া একজন বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে যাদের ছবি দেখা গেছে, তাদের সাংগঠনিক নামও পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও বলেন, এই মামলায় আটজন গ্রেপ্তার হয়েছে। বাকি যে ছয়জনকে শনাক্ত করা হয়েছে বা যেসব নাম-ঠিকানা পাওয়া গেছে কিংবা সাক্ষ্যপ্রমাণ রয়েছে, তা যাচাই-বাছাই করে চার্জশিট দিতে একটু দেরি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রথম গ্রেপ্তার করা হয় শাফিউর রহমান ফারাবী নামে এক যুবককে। হত্যাকাণ্ডের পাঁচ দিনের মাথায় তাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। ২০১৫ সালের ১৭ আগস্ট বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক তৌহিদুর রহমান, সাদেক আলী মিঠু ওরফে সাদিক ও আমিনুল মল্লিক নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। পরবর্তীতে আবুল বাশার, জুলহাজ বিশ্বাস, মান্নান রাহী ও জাফরান নামে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তৌহিদুর রহমানের নেতৃত্বে গ্রেপ্তারকৃতরা অভিজিৎ রায়কে হত্যা করে।

এদিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তারকৃতদের অভিজিৎ হত্যায় সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। তারা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ছয়জনকে শনাক্ত করেছেন। তবে তাদের ধারণা, এর বাইরে আরও ৩-৪ জন আশপাশে ছিল, যারা বিভিন্ন তথ্য দিয়ে ও পর্যবেক্ষণ করে অভিজিৎকে হত্যায় সহায়তা করেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সেলিম ও মুকুল রানা ওরফে শরিফুল বাদে বাকি যে চারজনকে শনাক্ত করা হয়েছে, তাদের সাংগঠনিক নাম শাহরিয়ার, সালমান, হাছান ও মুসা। তাদের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া গেলেও তদন্ত এবং গ্রেপ্তারের স্বার্থে বিস্তারিত পরিচয় জানাতে চাননি তিনি। এ ছাড়া এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের শীর্ষ নেতা সেনাবাহিনী থেকে বহিষ্কৃত মেজর জিয়াউল ইসলামের নাম এসেছে। তাকে ধরতে পারলেও অনেক তথ্য উদ্ঘাটন সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।

সূত্র জানায়, অভিজিৎ মার্কিন নাগরিক হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) তদন্তে সহায়তা করতে আগ্রহ দেখিয়েছে। পরবর্তীতে অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জব্দকৃত ১১ ধরনের আলামত যুক্তরাষ্ট্রে এফবিআইয়ের ল্যাবে পরীক্ষাও করা হয়। সেই পরীক্ষার প্রতিবেদনও হাতে পেয়েছে তদন্ত সংস্থা।

মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার হাসান আরাফাত গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা অনেককে শনাক্ত করেছি। অনেককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তদন্তে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। খুনিদের গ্রেপ্তার করার পর দ্রুত আদালতে মামলার চার্জশিট দেওয়া হবে।

মামলার তদন্ত সংস্থার ওপর থেকে এখনও আস্থা হারাননি অভিজিৎ রায়ের বাবা অজয় রায়। তিনি বলেন, অনেকদিন হয়ে গেলেও তদন্ত সংস্থার প্রতি আমার যথেষ্ট আস্থা রয়েছে। তারাও (তদন্ত সংস্থা) আশাবাদী, আমিও আশাবাদী। তারা মামলার তদন্ত শেষ করে ফেলবে।

তিনি আরও বলেন, যতদূর জানি, হত্যাকারীদের চিহ্নিত করা হয়েছে। বহিষ্কৃত একজন মেজরকে গোয়েন্দারা খুঁজছেন। এই কারণে এখনও তারা চার্জশিট দিতে পারেননি। ওই বহিষ্কৃত মেজরকে ধরতে পারলে জিজ্ঞাসাবাদে আরও কিছু তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তাহলে চার্জশিট আরও মজবুত হবে। আমার মনে হয়, শিগগিরই সে ধরা পড়বে।


মন্তব্য