kalerkantho


ঢাকা বারে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহন

আদালত প্রতিবেদক   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২১:০৬



ঢাকা বারে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহন

ঢাকা আইনজীবী সমিতির ২০১৭-২০১৮ কার্যবর্ষের দুই দিনব্যাপী নির্বাচনে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রথম দিনের ভোট গ্রহন শেষ হয়েছে।  ঢাকা আইনজীবী সমিতির নতুন ভবনে ভোট গ্রহন হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাররা ভোট দিয়েছেন।  

আজ বুধবার সকাল ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত নামাজ ও মধ্যভোজের বিরতি ছিল। এবারের নির্বাচন পরিচালনায় একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করছেন। ঊনিশজন নির্বাচন কমিশনার এবং ১৮১ জন সদস্য সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনার দয়িত্বে রয়েছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন অ্যাডভোকেট খোন্দকার আবদুল মান্নান। তিনি জানান, এবারের নির্বাচনে ভোটারের সংখ্যা মোট ১৬ হাজার ১৯৮ জন। তার মধ্যে তিন হাজার ৫১৮ জন ভোট দিয়েছেন।  

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, কার্যকরী পরিষদের ২৭টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এর মধ্যে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ১২টি সম্পাদকীয় পদ ও ১৫টি কার্যনির্বাহী সদস্য পদ রয়েছে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীরা সাদা প্যানেল ও বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের নীল প্যানেল নিয়ে লড়াই করছেন। সাদা প্যানেল থেকে সভাপতি পদে লড়ছেন মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান হাওলাদার ও সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আয়ুবুর রহমান।  

নীল প্যানেলের সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট মো. খোরশেদ আলম ও সাধারণ সম্পাদক পদে আজিজুল ইসলাম খান বাচ্চু। সম্পাদকীয় পদে সাদা প্যানেলের অন্য প্রার্থীরা হলেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট কাজী শাহিনারা ইয়াসমিন, সহ-সভাপতি পদে মো. মুনজুর আলম মনজু, কোষাধ্যক্ষ পদে মো. হাসিবুর রহমান দিদার, সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে মোস্তাফিজুর রহমান খান দিপু, সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে মো. কামাল হোসেন পাটোয়ারি, পাঠাগার সম্পাদক পদে মো. মনিরুজ্জামান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে আফরোজা ফারহানা আহমেদ অরেঞ্জ, দপ্তর সম্পাদক পদে আবদুর রশিদ, ক্রীড়া সম্পাদক পদে সাদিয়া আফরিন শিল্পী এবং সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে প্রহলাদ চন্দ্র সাহা পলাশ।  

১৫টি সদস্য পদে অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হাসান অমি, মো. আল-আমিন সরকার, খোরশেদ আলম পরভেজ, মোস্তফিজুর রহমান সুজন, মির্জা মো. জামাল হোসাইন, মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম, মো. মোশারফ হোসেন ভুইয়া মিশু, সাইফুজ্জামান টিপু, আহসান হাবিব, সাবিনা আকতার দিপা, সাদিয়া আফরোজা, শেখ সাইফুর রহমান সুমন, সজয় চক্রবর্তী, সুমন মিয়া  এবং ওয়ায়েস আহমেদ কায়েস।

নীল প্যানেলের সম্পাদকীয় পদে প্রার্থীরা হলেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট মো. রুহুল আমিন, সহ-সভাপতি পদে কাজী মো. আবদুল বারিক, কোষাধ্যক্ষ পদে  মো. লুৎফর রহমান আজাদ, সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে সৈয়দ নজরুল ইসলাম,  সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে সারয়ার কায়সার (রাহাত), পাঠাাগার সম্পাদক পদে আবুল কালাম আজাদ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে শাহনাজ বেগম শিরিন, দপ্তর সম্পাদক পদে মো. আফানুর রহমান রুবেল, ক্রীড়া (খেলাধুলা) সম্পাদক পদে মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম (কাইয়ুম) এবং সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে এমএবিএম খাইরুল ইসলাম লিটন।  

১৫ টি সদস্য পদে প্রার্থীরা হলেন, অ্যাডভোকেট আবু হেনা কাউসার, মো. আনোয়ার পারভেজ কাঞ্চন, আরিফ হোসাইন তালুকদার, মো. শহিদুল্লাহ, শাহীন হোসেন, শওকত উল্লাহ, মোহাম্মাদ আবুল কাশেম, মোস্তফা সরওয়ার মুরাদ, মোস্তারি আকতার নুপুর, মিনারা বেগম রিনা, মোসা. জেবুননেছা খানম জীবন, পান্না চৌধুরী, শাহনাজ পারভীন, সৈয়দ মোহাম্মাদ মঈনুল হোসাইন অপু এবং তামান্না খানম এরিন।

এদিকে, এবারের নির্বাচনে দুটি প্যানেলের বাইরে সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট মো. হাবিবুর রহমান ও সদস্য পদে মৌসুমী আক্তার নির্বাচন করছেন। এই দুজনই আওয়ামী লীগের কর্মী হয়েও সমর্থিত দলের বাইরে নির্বাচন করছেন। নির্বাচনের প্রথম দিনে নিজেদের দলীয় প্যনেলের প্রার্থী ও ভোটারদের উৎসাহ দিতে জজ কোর্ট প্রাঙ্গনে আসেন দলীয় খ্যাতনামা আইনজীবীগন।  

বিএনপি দলীয় সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমদ, সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি জয়নাল আবেদীন ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন উপস্থিত হন। আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন, সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু, বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল বাসেদ মজুমদার উপস্থিত হন। এদের মধ্যে সাহারা খাতুন ও বাসেদ মজুমদার তাদের ভোট দিয়েছেন। সাধারণ আইনজীবীরা দুই প্যানেলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে ধারনা করছেন। গত বছর আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল। ওই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করেন তারা। অন্যদিকে বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেলের প্রার্থীরা আশা করছেন এবার তাঁরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পুরো পানেলেই জয়লাভ করবেন।

এ নির্বাচন উপলেক্ষ প্রশাসনের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন ছিল। ভোটের পরিবেশ স্থিতিশীল রাখতে সকাল থেকে তাদের বেশ তৎপর দেখা গেছে।  


মন্তব্য