kalerkantho


গেজেট জারিতে সরকারকে ফের দুই সপ্তাহের সময়

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১২:৪০



গেজেট জারিতে সরকারকে ফের দুই সপ্তাহের সময়

অধস্তন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির গেজেট জারিতে সরকারকে ফের দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম লিখিতভাবে দুই সপ্তাহের সময় আবেদন করলে সোমবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আট সদস্যের পূর্ণাঙ্গ আপলি বেঞ্চ এ সময় মঞ্জুর করেন। আদালত বলেছেন, আশা করি এ সময়ের মধ্যে সরকার বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধি গেজেট আকারে প্রকাশ করবে। এর আগে রবিবার অ্যাটর্নি জেনারেল মৌখিকভাবে সময় চাইলে এর কারণ লিখিতভাবে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে সোমবার এ বিষয়ে আদেশের জন্য দিন ধার্য করেন। সে অনুযায়ী রবিবার দুই সপ্তাহ সময় মঞ্জুর করলেন আদালত।

তখন আবেদনের কারণ সম্পর্কে অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের বলেছিলেন, রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন গেজেট প্রকাশের প্রয়োজন নাই। আমি আদালতকে বলেছি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু আদালত আমাকে লিখিতভাবে উল্লেখ করে দরখাস্ত করতে বলেছেন। তিনি আরও বলেন, রুলস ফ্রেম করবেন তো রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতি একবার অপারগতা প্রকাশ করেছেন বা এটার প্রয়োজনীয়তা নেই বলে জানিয়েছেন।

কাজেই ফের যদি এটা করতেই হয় তাহলে সেটি সংশোধন করে রাষ্ট্রপতির কাছেই পুনর্বিবেচনার জন্য পাঠানো উচিত। সেটিই করা হয়েছে।

সর্বশেষ গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধি প্রণয়নে সরকারকে এক সপ্তাহ সময় দেন আপিল বিভাগ। অধস্তন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধি চূড়ান্ত করে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করতে আপিল বিভাগ এর আগে কয়েক দফায় সেময় দেন। সেই নির্দেশ বাস্তবায়ন না করায় ৮ ডিসেম্বর আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে তলব করে। তবে ১১ ডিসেম্বর রাতে আইন মন্ত্রণালয় এক পরিপত্রের মাধ্যমে জানায়, নিম্ন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির গেজেট প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা নেই বলে রাষ্ট্রপতি সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।

তবে রাষ্ট্রপতির এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে ১২ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ দ্বিমত পোষণ করেন। আদালত বলেছেন, রাষ্ট্রপতিকে ভুল বোঝানো হচ্ছে। বিধি প্রণয়ন সম্পর্কে আপিল বিভাগ বলেন, এটা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রশ্ন। এখানে কোনো কম্প্রোমাইজ নেই। উল্লেখ্য, মাসদার হোসেন মামলার রায়ের ৭ নম্বর নির্দেশনা অনুযায়ী সেই জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের জন্য পৃথক শৃঙ্খলাবিধি তৈরি নিয়েই এই শুনানি চলছে।

 


মন্তব্য