kalerkantho


স্মারক জালিয়াতি: সিলেটে রাগীব আলীর রায় বৃহস্পতিবার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৬:০৩



স্মারক জালিয়াতি: সিলেটে রাগীব আলীর রায় বৃহস্পতিবার

ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক জালিয়াতির মামলায় সিলেটের ব্যবসায়ী রাগীব আলী ও তার ছেলে আবদুল হাইয়ের মামলার রায় জানা যাবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরো বুধবার এ মামলায় দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের এই দিন ঠিক করে দেন। এ মামলায় একটি চা বাগানের জমি আত্মসাতের জন‌্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক (চিঠি) জাল করার আনা হয়েছে রাগীব আলী ও তার ছেলের বিরুদ্ধে। ৭৮ বছর বয়সী রাগীব আলী বেসরকারি সাউথইস্ট ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান। ওই ব‌্যাংকের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ‌্য অনুযায়ী, চা বাগান থেকে শুরু করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা ও মিডিয়াতে ছড়িয়ে আছে তার ব‌্যবসা।

সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ‌্য অনুযায়ী, চা বাগানের ব‌্যবসার লাভের কিছু অংশ দান করে রাগীব আলী সিলেটে দাতার খ্যাতি পান। বেসরকারি বিশ্ববিদ‌্যালয় ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখে শিক্ষানুরাগী নামও কুড়ান। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর সিলেটের এই ধন‌াঢ‌্য ব‌্যক্তি পালিয়ে ভারতে চলে গেলেও গতবছর শেষদিকে তাকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হয়। এ আদালতের অতিরিক্ত পিপি মাহফুজুর রহমান জানান, গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। ১১ জনের সাক্ষ্য ও জেরার পর শুরু হয় যুক্তিতর্ক। বুধবার দুপুরে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা হবে বরে আদেশ দেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ৪২২ দশমিক ৯৬ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা তারাপুর চা-বাগান পুরোটাই দেবোত্তর সম্পত্তি। ১৯৯০ সালে ভুয়া সেবায়েত সাজিয়ে বাগানটির দখল নেন রাগীব আলী। ওই দুই মামলায় গত ১০ আগস্ট রাগীব আলী ও তার একমাত্র ছেলে আবদুল হাইসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে সিলেটের আদালত। ওই দিনই জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে সপরিবারে ভারতে পালিয়ে যান তিনি। গতবছর ১২ নভেম্বর ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরার পথে রাগীব আলীর ছেলে আব্দুল হাইকে গ্রেপ্তার করে জকিগঞ্জ ইমিগ্রেশন পুলিশ। ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ায় লুকিয়ে দেশে ফেরার চেষ্টার ২৪ নভেম্বর ভারতে গ্রেপ্তার হন রাগীব আলী। ওই দিনই তাকে দেশে এনে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর অভিযোগ গঠনের মধ‌্য দিয়ে শুরু হয় বিচার। রাগীব আলীর স্মারক জালিয়াতি মামলা বিচার কার্যক্রম শেষে রায়ের পর্যায়ে এলেও তার বিরুদ্ধে ভূমি আত্মসাতের মামলায় এখনও সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়নি।

 


মন্তব্য