kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রাজশাহীতে ক্রসফায়ারের হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি, ওসির বিরুদ্ধে মামলা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ অক্টোবর, ২০১৬ ১২:০৪



রাজশাহীতে ক্রসফায়ারের হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি, ওসির বিরুদ্ধে মামলা

রাজশাহীর চারঘাট থানার ওসিসহ পুলিশের চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এক কলেজশিক্ষককে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ সুপারকে ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

 

রাজশাহীর আমলী ৫ নম্বর আদালতে এই মামলা করেছেন চারঘাটের সরদহ ডিগ্রি কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক নাজমুল ইসলাম খোকন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২৯ জুন ও ১৬ জুলাই পুলিশ পরিদর্শক নিবারণ চন্দ্র বর্মণ ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে খোকনের কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। কিন্তু এই টাকা দিতে অস্বীকার করেন খোকন।

১৭ জুলাই দুপুর ১২টার দিকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় চড়ে কলেজ যাওয়ার পথে চারঘাট থানার এসআই আব্দুল খালেক ও এসআই খায়রুল ইসলাম খোকনের গতিরোধ করেন। এ সময় এসআই খালেক ওয়ারেন্টের কথা বলে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করেন। এতে চ্যালেঞ্জ করে বসেন খোকন। পরে তাকে এসআই খালেক ও এসআই খায়রুল তাদের মোটরসাইকেলে উঠিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের পাশে পুলিশ  ট্রেনিং সেন্টারের ফায়ারিং স্পটের গেটের সামনে মোটরসাইকেল থেকে নামানো হয়। এরপর এসআই খালেক একটি অবৈধ পিস্তল খোকনের কোমরে গুঁজে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

এ সময় খোকন চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে তাকে দ্রুত থানায় নেওয়া হয়। থানায় তিন ঘণ্টা আটক রেখে ওসি নিবারণ চন্দ্র বর্মণ ১০ লাখ টাকা দাবি করেন।

ওই এজাহার থেকে আরও জানা গেছে, এ ঘটনার দুই দিন পর ১৯ জুলাই ওসির নির্দেশে খোকনের বাড়ি গিয়ে এসআই আব্দুল খালেক ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। গ্রেপ্তার এড়াতে খোকনের মা এসআই খালেককে ১৭ হাজার টাকা দেন।  

এদিকে, আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে আসার পর চারঘাট থানার ওসি নিবারণ চন্দ্র ফের ক্রয়ফায়ারের ভয় দেখিয়ে খোকনের কাছে ফের ১০ লাখ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এই মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন চারঘাট থানার ওসি নিবারণ চন্দ্র বর্মণ, এসআই আবদুল খালেক, এসআই খায়রুল ইসলাম, এএসআই সাইফুল ইসলাম ও খোকনের সাবেক স্ত্রী নিভিয়া খান নিপু।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে চারঘাট থানার ওসি নিবারণ চন্দ্র বর্মণ বলেন, এসব ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্কই নেই। বরং নাজমুল ইসলাম খোকনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে তার সাবেক স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।

রাজশাহীর পুলিশ সুপার মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঞাঁ বলেন, আদালতে মামলা হয়েছে বলে শুনেছি। কিন্তু এখনো কাগজপত্র হাতে পাইনি। পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মন্তব্য