kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জঙ্গিদের দ্রুত বিচারে সাত বিভাগীয় শহরে ট্রাইব্যুনাল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ অক্টোবর, ২০১৬ ২০:০০



জঙ্গিদের দ্রুত বিচারে সাত বিভাগীয় শহরে ট্রাইব্যুনাল

আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আনিসুল হক বলেছেন, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার বিচার ত্বরান্বিত করতে সাতটি বিভাগীয় শহরে সাতটি সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে। এই ট্রাইব্যুনাল দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের চেয়ে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার বিচারে বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারবে বলে আশা করা যায়।

আজ বৃহস্পতিবার সংসদে লিখিত প্রশ্নোত্তরে তিনি একথা জানান।  

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে এসংক্রান্ত প্রশ্নটি উত্থাপন করেন সংরক্ষিত আসনের সরকার দলীয় সদস্য বেগম আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী। আওয়ামী লীগের সদস্য এম আবদুল লতিফের অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সরকার জঙ্গি-সংশ্লিষ্ট সরকারি কৌশলীগণকে সাক্ষী উপস্থিত করে মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য নির্দেশ দিয়েছে। জঙ্গি-সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো যে সকল আদালতে বিচারাধীন আছে, সেসকল আদালতসমূহে যেন সার্বক্ষণিকভাবে বিচারক নিযুক্ত থাকেন অর্থাৎ বিচারক শূন্যতার কারণে এ সকল মামলার বিচার কার্যক্রম যেন বাধাগ্রস্ত না হয় সে বিষয়ে আইন ও বিচার বিভাগ সজাগ দৃষ্টি রাখছে। জঙ্গিবাদ নির্মূল করার লক্ষ্যে এবং অভিযুক্ত জঙ্গিদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সরকার সদা সচেষ্ট ও যতœবান রয়েছে, ভবিষ্যতেও থাকবে।

একই প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক জানান, ঢাকা মহনাগরে ৯, ঢাকা জেলায় ৮, ময়মনসিংহে ৬, নেত্রকোণায় ১, মানিকগঞ্জে ১, নরসিংদীতে ৪, জামালপুরে ৪, শেরপুরে ১, কিশোরগঞ্জে ৩, নারয়ণগঞ্জে ১১, টাঙ্গাইলে ৫, গাজীপুরে ২, ফরিদপুরে ১, রাজবাড়িতে ১, গোপালগঞ্জে ১, মাদারীপুরে ১ ও শরীয়তপুরে ১টি জঙ্গি সংশ্লিষ্ট মামলা রয়েছে। আইনমন্ত্রী জানান, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৬, রাজশাহী বিভাগে ২৭, খুলনা বিভাগে ১২, বরিশাল বিভাগে ৭, সিলেট বিভাগে ৮ এবং রংপুর বিভাগে ১৯টি জঙ্গি সংশ্লিষ্ট মামলা রয়েছে।

আওয়ামী লীগের সদস্য বেগম জেবুন্নেছা আফরোজের এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, অধঃস্তন আদালতের কার্যক্রমের গতিশীলতা বৃদ্ধির জন্য প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে ই-জুডিশিয়ারি নামক একটি প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের আদালতসমূহ ডিজিটালাইজড হবে এবং আধুনিক কম্পিউটারাইজড প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া আরও সহজ, স্বচ্ছ এবং গতিশীল হবে।

সরকারী দলের এ কে এম শাহজাহান কামালের এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, অপরাধের সঙ্গে জড়িত নিকাহ রেজিস্ট্রারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। কোনো নিকাহ রেজিস্ট্রার ব্যালবিবাহসহ যে কোনো অপরাদের সঙ্গে জড়িত থাকলে এবং সেটা প্রমাণিত হলে মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯ এর বিধান অনুযায়ী উক্ত নিকাহ রেজিস্ট্রারের লাইসেন্স বাতিল বা স্থগিত করা হয়।

সরকারি পর্যায়ে লোক নিয়োগ

সরকার দলীয় সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজীর এক প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সংসদকে জানিয়েছেন, চলতি অর্থবছরে সরকারি পর্যায়ে লোক নিয়োগ করা হবে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগ এবং সরকারি দপ্তরসমূহে ১৩-১০তম গ্রেডে স্ব-স্ব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরের নিয়োগবিধি অনুযায়ী নিয়মিতভাবে শূন্য পদে জনবল নিয়োগ করা হচ্ছে। তিনি আরো জানান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে সকারি কর্ম কমিশন কর্তৃক দশম ও নবম গ্রেডে নিয়মিতভাবে শূন্য পদে জনবল নিয়োগ করা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে সরকারি কর্ম কমিশন ৩৫তম পরীক্ষার মাধ্যমে উত্তীর্ণ ২ হাজার ১৫৬ জন প্রার্তীকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগের লক্ষ্যে সুপারিশ করেছে। সুপারিশকৃত প্রার্থীদের প্রাক-চাকরি বৃত্তান্ত যাচাই, স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন পাওয়ার পর উপযুক্ত প্রার্থীদের চলতি অর্থবছরে নিয়োগ দেয়া হবে। তাছাড়া ৩৬তম বিসিএস-এর মাধ্যমে ২ হাজার ১৮০টি এবং ৩৭তম বিসিএসের মাধ্যমে ‘ হাজার ১৮২টি পদে প্রার্তী সুপারিমের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সরকার দলীয় সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের এক প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রী সংসদকে জানান, সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) ২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২৮, ২৯, ৩০, ৩১, ৩২, ৩৩ ও ৩৪তম বিসিএসের মাধ্যমে ২০ হাজার ৭০৯ জন প্রার্থীকে ক্যাডারে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছে। সুপারিশকৃত প্রার্থীদের মধ্যে ১৯ হাজার ৮৯৮ জনকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট ৮১১ জনের স্বাস্থ্য পরীক্ষাসহ বিভিন্ন তদন্ত প্রক্রিয়াধীন। পরিপূর্ণ তথ্য প্রাপ্তি সাপেক্ষে তাদের চূড়ান্ত নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।


মন্তব্য