kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জঙ্গি তামিমের সহযোগী সালাউদ্দিন রিমান্ডে

আদালত প্রতিবেদক   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২০:২৫



জঙ্গি তামিমের সহযোগী সালাউদ্দিন রিমান্ডে

নারায়ণগঞ্জে বিশেষ অভিযানে নিহত গুলশান হামলার অন্যতম ‘হোতা’ তামিম চৌধুরীর ‘সহযোগী’ গ্রেপ্তার সালাউদ্দিন কামরানকে ছয়দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। গতকাল বুধবার রাত ৮টায় গাজীপুরের নিউ টঙ্গী মডেল থানা এলাকার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের স্টেশন রোড থেকে আসামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রাজধানীর কল্যানপুরে জাহাজ বাড়িতে অভিযানে ৯ জঙ্গী নিহত হওয়ার ঘটনায় মিরপুর মডেল থানায় দায়ের হওয়া সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আজ বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর হাকিম মাহমুদুল হাসান এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ঢাকা মহানগরের অপরাধ, তদন্ত ও প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার আনিসুর রহমান এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মো. ইউসুফ আলী জানান, ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের সদস্যরা কামরানকে গ্রেপ্তার করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ জানায়, তিনি কল্যাণপুরের জঙ্গি আস্তানা তাজ মঞ্জিলে পুলিশের বিশেষ অভিযানে নিহত জঙ্গি আবু হাকিম নাঈমের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। নব্য জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) নেতা রাকিবুল হাসান রিগ্যানের কাছে রাজধানীর পাইকপাড়ায় প্রশিক্ষণ নেন কামরান। নব্য জেএমবির আদর্শ ও কর্মকান্ডকে গতিশীল ও উৎসাহিত করার উদ্দেশে কামরান বিভিন্ন প্রচার চালিয়ে আসছে। এ ছাড়া বাংলাদেশে বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকান্ড পরিচালনা ও পরিকল্পনার কথাও স্বীকার করেছে এ আসামি। এছাড়া নিহত তামিম চৌধুরীসহ সংগঠনের শীর্ষ অন্য নেতাদের সঙ্গে অনেক ঘনিষ্ঠতা ছিল বলেও স্বীকার করেছে সে।

গত ২৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার পাইকপাড়া কবরস্থানের পাশে একটি জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের অভিযানে গুলশান হামলার ‘হোতা’ তামিম আহমেদ চৌধুরীসহ তিনজন নিহত হন।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুলাই ভোরে রাজধানীর কল্যাণপুরের ৫ নম্বর সড়কে ‘জাহাজ বিল্ডিংয়ে’  রাতভর অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এক ঘণ্টার মূল অভিযানে নয় জঙ্গি নিহত ও একজন (রিগ্যান) আহত হন।

ওই ঘটনার দু’দিন পর মিরপুর মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. শাহ জালাল আলম সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

ওই অভিযানে আহত হয়ে বেচে যাওয়া রিগ্যানকে চিকিৎসা শেষে দুই দফায় রিমান্ডে নেয়া হয় তাকে। দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে থাকবস্থায় তিনদিনের মাথায় রিগ্যান গত ১৮ সেপ্টেম্বর আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেয়।

সালাউদ্দিন কামরান ছাড়া এখন পর্যন্ত এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জঙ্গী রিগ্যান ও জাহাজ বাড়ীর মালিকের স্ত্রী মমতাজ পারভীনসহ ছয়জন রিমান্ড শেষে কারাগারে আছেন।

অন্যরা হলেন, জাহাজ বিল্ডিংয়ের মালিকের ছেলে মাজহারুল ইসলাম, তাদের সহযোগী মাহফুজুল আনসার, মমিন উদ্দিন ও জাকির হোসেন।


মন্তব্য