kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মানবতাবিরোধী অপরাধে ময়মনসিংহের দু’জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৬:০৪



মানবতাবিরোধী অপরাধে ময়মনসিংহের দু’জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়ীয়া উপজেলার দু’জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেছে প্রসিকিউশন। এরা হলেন-মধ্যে রিয়াজ উদ্দিন ফকির (৬৫) ও ওয়াজউদ্দিন (৭০)।

গ্রেফতারের পর রিয়াজ উদ্দিন ফকির কারাগারে থাকলেও ওয়াজউদ্দিন পলাতক রয়েছেন। আজ বুধবার  তাদের বিরুদ্ধে বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে এই অভিযোগ দাখিল করা হয়। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ঋষিকেষ সাহা ও শেখ মোসফেক কবির। ট্রাইব্যুনাল এ মামলায় পরবর্তী শুনানির জন্য ২২ নভেম্বর দিন ধার্য্য করেছেন আদালত।

তদন্ত কর্মকর্তা আতাউর রহমান ২০১৪ সালের ১০ অক্টোবর তদন্ত শুরু করেন। চলতি বছর ১৮ ফেব্রুয়ারি তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে ৫টি অভিযোগ এনে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। অভিযুক্ত দুই আসামিই জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা।

২০১৫ সালের ১১ আগস্ট ফুলবাড়িয়া উপজেলার কেশরগঞ্জ গ্রাম থেকে আমজাদ হোসেন ও ভালুকজান গ্রামের রিয়াজ উদ্দিন ফকিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ১২ আগস্ট তাদেরকে ঢাকায় নেওয়ার পথে গাজীপুরে পুলিশের পিকআপের সাথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুই আসামি ও ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়। পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমজাদ হোসেন ওরফে আমজাদ হাজী (৯০) মারা যান। মারা যাওয়ায় মামলার প্রক্রিয়া থেকে অব্যাহতি পান।

দুই আসামির বিরুদ্ধে ৫ অভিযোগ

প্রথম অভিযোগ-১৯৭১ সালের ২২ আগস্ট ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়ীয়া থানাধীন কালাইরপাড়, চকলাইড়িপাড়া গ্রাম ও ফুলবাড়িয়া পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডেও শহীদ শহীদুল্লাহ মাষ্টার, শহীদ আব্দুল মজিদ ও শহীদ জমশেদ আলীকে অপহরণ করে আটক রাখাল পর নির্যাতন করে ২৫ আগস্ট গুলি করে হত্যা করে।

দ্বিতীয় অভিযোগ- ১৯৭১ সালের ২৭ আগস্ট ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া থানাধীন বিদ্যান্দন ও বেতবড়ী গ্রামের স্বর্গীয় সুরেন্দ্র চন্দ্র বর্মন, শহীদ হাবিবুর রহমান তালুকদার ও শহীদ জয়গুন নেছারসহ মোট তিন জনকে অপহরণের পর ধর্ষণ ও গুলি করে হত্যা করে।

তৃতীয় অভিযোগ- ১৯৭১ সালের ৫ নভেম্বর ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া থানাধীন ঋষিপাড়ার স্বর্গীয় মন্দির ঋষিসহ ৮ জন হিন্দুকে অপহরণ করে হত্যা করে। ঋষিপাড়ার ৩ জন হিন্দু মহিলাকে ধর্ষন করে।

চতুর্থ অভিযোগ- ১৯৭১ সালের ১৩ নভেম্বর ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়ীয়া থানাধীন বেতবাড়ি, ভবাণীপুর, সোয়াইতপুর, এনায়েতপুর, বাঁশদি ও হোরবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকার শহীদ ইসমাঈল হোসেন মাস্টারসহ ৪৩ জনকে অপহরণ করে নির্যাতনের পর গুলি ও জবাই করে হত্যা করা হয়।

পঞ্চম অভিযোগ- ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া থানাধীন ভালুহজান গ্রামের একই পরিবারের ৩ সহোদর ভাই শহীদ আলতাফ আলী মণ্ডল, শহীদ তালেব আলী মণ্ডল, শহীদ সেকান্দার আলী মণ্ডলকে অপহরণের পর নির্যাতন ও গুলি করে হত্যা করা হয়।


মন্তব্য