kalerkantho


মৃত্যুদণ্ড পুনর্বিবেচনা চেয়ে রিভিউ করলেন নিজামী

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৯ মার্চ, ২০১৬ ১১:৫৭



মৃত্যুদণ্ড পুনর্বিবেচনা চেয়ে রিভিউ করলেন নিজামী

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মৃত্যুদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে রিভিউ পিটিশন দাখিল করেছেন জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আবেদন করেছেন তার আইনজীবীরা। রিভিউ পিটিশনে মৃত্যুদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে খালাস চাওয়া হয়েছে। নিজামীর আইনজীবী ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন জানিয়েছেন, রিভিউ পিটিশনে ৪৬টি আইনগত যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। বুদ্ধিজীবীদের হত্যা (১৬ নম্বর অভিযাগে), পাবনার রূপসী, বাউশগাড়ী ও ডেমরা গ্রামের প্রায় ৪৫০ জনকে হত্যা ও ৩০-৪০ জন নারীকে ধর্ষণ (২ নম্বর অভিযোগ) এবং ধুলাউড়া গ্রামে ৩০ জনকে হত্যায় নেতৃত্ব ও সম্পৃক্ততা (ষষ্ঠ অভিযোগ) অপরাধে নিজামীকে এ দণ্ড দেওয়া হয়।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ গত ১৫ মার্চ ১৫৩ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন। আপিল বেঞ্চের অন্য তিন সদস্য হলেন : বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। ওই দিনই সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের সহকারী রেজিস্ট্রার মেহেদী হাসান ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার মো. শহীদুল আলম ঝিনুকের হাতে রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি পৌঁছে দেন। এরপর বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়ার-উল হকের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনালের তিন বিচারক আসামির মৃত্যু পরোয়ানায় সই করে কারাগারে পাঠিয়ে দেন।

গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে থাকা মতিউর রহমান নিজামীকে ১৬ মার্চ মৃত্যু পরোয়ানা পড়ে শোনানো হয়। আইন অনুযায়ী আপিল বিভাগের চূড়ান্ত পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর ১৫ দিনের মধ্যে রিভিউ আবেদন করতে পারবেন নিজামী। যার শেষ দিন আগামী বুধবার। সেই ১৫ দিন পূর্ণ হওয়ার এক দিন বাকি থাকতেই এ আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন নিজামীর ছেলে। রিভিউ খারিজ হলে আইনি আর কোনো প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ তার হাতে থাকবে না। সে ক্ষেত্রে কারাবিধি অনুযায়ী দোষ স্বীকার করে নিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করতে পারবেন তিনি। প্রাণভিক্ষার আবেদন না করলে নির্বাহী আদেশে তার ফাঁসি কার্যকর করতে পারবে কারা কর্তৃপক্ষ। আর প্রাণভিক্ষার আবেদন করলে রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত দেওয়ার পর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

নিজামীকে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড এবং হত্যা-গণহত্যা ও ধর্ষণসহ সুপিরিয়র রেসপন্সিবিলিটির (ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়) প্রমাণিত ৮টি মানবতাবিরোধী অপরাধের মধ্যে ৪টিতে ফাঁসি ও ৪টিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। এর মধ্যে ৩টিতে ফাঁসি ও ২টিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। অন্য তিনটিতে চূড়ান্ত রায়ে দণ্ড থেকে খালাস পেয়েছেন নিজামী, যার মধ্যে একটিতে ফাঁসি ও দুটিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ ছিল ট্রাইব্যুনালের রায়ে।
 


মন্তব্য