kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


তথ্য গোপন, হত্যা মামলার আসামির জামিন বাতিল

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ মার্চ, ২০১৬ ১৫:৫৮



তথ্য গোপন, হত্যা মামলার আসামির জামিন বাতিল

জামিন আবেদনে তথ্য গোপন করায় হত্যা মামলার আসামি আজাদ হোসেনের জামিন বাতিল করেছে হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে তথ্য গোপন ও জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত মর্মে আসামির আইনজীবি, আসামি, জামিন আবেদনের এফিডেভিটকারি এবং নিম্ন আদালত থেকে সার্টিফাইট কপি ইস্যুকারির বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্টার জেনারেলকে মামলা দায়েরের নির্দেশ দেয় আদালত।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচার পতি আমির হোসেনের ডিভিশন বেঞ্চ আজ বুধবার এই আদেশ দেন। হত্যা মামলার আসামি আব্দুর রউফ ওরফে আজাদ হোসেন তার জামিন আবেদনে মামলার এজহার পরিবর্তন এবং চার্জশিট দেয়া হয়নি মর্মে উল্লেখ করেন। এই বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ একেএম মনিরুজ্জামান কবির। পরে আদালত বিষয়টি আমলে এনে জামিন আবেদন রিকল করে।

২০১৪ সালের ৪ আগস্ট মো. আরাফাত হোসেন নামে এক যুবককে খুন করেন আজাদ হোসেনসহ ১০ আসামি। এই ঘটনায় নিহতের মা জোবেদা খাতুন বাদী হয়ে জয়পুরহাট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার মূল এজহারে আসামি আজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি সামুরাই (জাপানি তলোয়ার) দ্বারা খুন করার লক্ষ্যে আরাফাতকে লক্ষ্য করে কোপ মারে, এই কোপটি তার গলার বাম পাশে লাগে এবং গলা কেটে যায়। পরবর্তিতে বাকি আসামিরা আরাফাতকে কুপিয়ে হত্যা করে।

এই মামলায় গত বছরের ২৭ এপ্রিল পুলিশ আজাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে এবং ৩১ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। মূল এজহারে আজাদ হোসেন ২ নম্বর আসামি ছিলেন। সম্প্রতি ২৯ ফেব্রুয়ারি ঐ আসামি হাইকোর্টে এসে জামিন চান। জামিন আবেদনে তার এজহার দাখিল করেন। সেখানে তাকে ৩ নম্বর আসামি হিসেবে দেখানো হয় এবং অভিযোগে বলা হয় যে, আসামি আজাদ হোসেন ছোরা দ্বারা খুন করার উদ্দেশ্যে আরাফাতের বাম উড়ুতে আঘাত করে (মূল এজহারে ছিল গলায়)।
 
জামিন আবেদনে এই তথ্য গোপনের কথা জানতে পেরে ডিওজি মনিরুজ্জামান কবির বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন। এরপর হাইকোর্ট আসামিকে গত ২৯ ফেব্রুয়ারি দেয়া জামিনের আদেশ 'রিকল' করে। গত ৩ দিন ধরে বিষয়টি কার্য তালিকায় থাকলেও আসামির আইনজীবি প্রদীপ কুমার সরকার আদালতে হাজির হননি। পরে হাইকোর্ট আজ বুধবার দেয়া জামিন বাতিল করে আসামির আইনজীবি, আসামি, জামিন আবেদনের এফিডেভিটকারি এবং নিম্ন আদালত থেকে সার্টিফাইট কপি ইস্যুকারির বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দেয়।

 


মন্তব্য