kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দুই বাংলাদেশি রিমান্ডে, ১২ বিদেশিকে কারাগারে প্রেরণ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৫ মার্চ, ২০১৬ ১৯:১৫



দুই বাংলাদেশি রিমান্ডে, ১২ বিদেশিকে কারাগারে প্রেরণ

ব্রিটিশ নাগরিক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার দুই বাংলাদেশি মামুন মোকারম (৩৮) ও সুলতান মাহমুদকে (২৬) দুই দিন করে রিমান্ড দিয়েছে আদালত। একইসাথে ১২ নাইজেরিয়ানের বিরুদ্ধে রিমান্ড আবেদন না থাকায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে শুক্রবার অভিযান চালিয়ে ওই প্রতারক চক্রের ১২ বিদেশি সদস্যসহ মোট ১৪ জনকে আটক করে র‌্যাব। আটকরা হলেন— মামুন মোকারম (৩৮), সুলতান মাহমুদ (২৬), নাইজেরিয়ার নাগরিক আইব্যা (৩০), কেসি (৩০), এডউইন (৩৫), ইমনোয়ার (৩৩), কসমডস আলকুজমুজিন ওকিউলিজি (৫১), বিসেন্স (২৯), জোসোয়া (২৭), ইব্রাহিম (২৭), কঙ্গোর নাগরিক জাসোনামা (৪১), ক্যামেরুনের নাগরিক ওসমান (২৯), সানজো (৩৬) ও আনট প্রিজো (৪২)।

শনিবার ঢাকা মহানগর হাকিম আতিকুর রহমানের আদালতে দুই বাংলাদেশি ও ১২ নাইজেরিয়ানকে হাজির করা হয়। দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানার দায়ের করা তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত দুই বাংলাদেশিকে দুই দিন করে রিমান্ড প্রদান করেন। অপরদিকে, ১২ নাইজেরিয়ানের বিরুদ্ধে কোনো রিমান্ড আবেদন না থাকায় তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ শুক্রবার বিকেলে জানান, চক্রটি ফেসবুকে ব্রিটিশ নাগরিক পরিচয় দিয়ে খুলনার প্রাইভেট কম্পানিতে চাকরিরত এক ভিকটিমের সঙ্গে বন্ধুত্ব করেন। অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তাদের কথা হতো। ৩ ফেব্রুয়ারি দুপুরে সাইফুল নামে এক ব্যক্তির কল আসে খুলনার ওই ভিকটিমের কাছে। ফোনে সাইফুল ভিকটিমকে জানান, সে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ঢাকা কাস্টমস অফিস থেকে কল করেছে। লন্ডন থেকে ভিকটিমের একটি পার্সেল এসেছে। এটি ছাড়াতে ৬০ হাজার টাকা লাগবে। তাহলে সেটি বাসায় পৌঁছে দেওয়া যাবে। এরপরে ভিকটিম ওই টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করেন। টাকা পরিশোধের পর সাইফুলের নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে রাসেল নামে একজন ভিকটিমকে জানায় পার্সেলটি প্রেরণ করতে দুই-চার দিন সময় লাগবে। তখন ভিকটিম গলা শুনে চিহ্নিত করেন, সাইফুল ও রাসেল একই ব্যক্তি। ভিকটিম তখন ফোনের অপর প্রান্তের ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করতে চাইলে কল কেটে দিয়ে মোবাইল বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে অনুসন্ধানে ভিকটিম বুঝতে পারেন যে তিনি প্রতারিত হয়েছেন। তিনি র‌্যাব-১ এ অভিযোগ করলে অভিযান চালিয়ে নিকুঞ্জ-২ থেকে মামুন ও সুলতানকে আটক করা হয়।
আটকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার সকালে বিদেশি নাগরিকদের আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ মোবাইল, ল্যাপটপ, ট্যাব, ওয়াইফাই (রাউটার), ডিভিডি, পাওয়ার ব্যাংক, পাসপোর্ট ও ডলারসহ বাংলাদেশি টাকা উদ্ধার করা হয়। বাংলাদেশিদের মাধ্যমেই মূলত চক্রটি টার্গেট খুঁজত। তারা খুবই সুদর্শন। নিজেদের তারা ব্রিটিশ, আমেরিকান অথবা ইউরোপের নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিত।


মন্তব্য