kalerkantho

গুণী মেয়ে বিপাশা

৩০ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গুণী মেয়ে বিপাশা

ফেনীর মেয়ে বিপাশা রায় একাধারে সংগীতশিল্পী, অংকনশিল্পী, শিক্ষক ও নাট্যকর্মী। এরই মধ্যে পেয়েছেন নানা পুরস্কার। বিস্তারিত জানাচ্ছেন : আসাদুজ্জামান দারা, ফেনী

ফেনীর মেয়ে বিপাশা রায়ের গুণের শেষ নেই। তিনি একাধারে সংগীতশিল্পী, অংকনশিল্পী, শিক্ষক এবং নাট্যকর্মী। অতিসম্প্রতি ফেনীর পঞ্চবটী সাংস্কৃতিক সংগঠনের নাটক বিভাগের প্রযোজনা ‘আয়না বিবির পালা’ নাটকে একদিকে নেপথ্য সংগীতে কাজ করে, অন্যদিকে বিশেষ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের ব্যাপক প্রশংসা পান বিপাশা। স্থানীয় নাট্যবোদ্ধারাও তাঁর কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

ফেনী শহরের মাস্টারপাড়ায় বসবাস বিপাশার পরিবারের। বাবা বিমল রায় ২০০০ সালে পরলোকগমন করেন। তিনি একসময় বিদেশি সংস্থায় কর্মকর্তা ছিলেন। পরে ফেনীতে স্থায়ী হয়ে ব্যবসাও করেন। বিপাশার মা মুনমুন রায় ফেনী শহরের প্রাচীন রোগ নির্ণয় কেন্দ্র ভাইটাল রিসার্চে কর্মরত। একমাত্র ছোটবোন চৈতী রায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলায় দ্বিতীয় সেমিস্টারে অধ্যয়নরত।

গুণী মেয়ে বিপাশা রায় ২০০৭ সালে ফেনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ২০০৯ সালে ফেনী সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি ও পরে একই কলেজ থেকে বাংলায় অনার্স ও মাস্টার্স করেন। ছোটবেলা থেকেই গান শিখতেন বিপাশা। শুরুতে গান শেখেন সীমা নাথের কাছে। পরে ফেনীর পুরনো সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান পূবালীতে শেখেন অজয় দাসের কাছে। পরবর্তীতে রাজধানীর ‘ছায়ানটে’ শিখতে শুরু করেন ক্ল্যাসিক্যাল ও নজরুল সংগীত। ইতোমধ্যে সেখানে তাঁর সংগীত শিক্ষাপর্ব সমাপ্ত হয়েছে। ফেনীর পঞ্চবটীর দোলন দাসের কাছেও তালিম নেন বিপাশা। ২০১৭ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জাতীয় পল্লী সংগীত প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান লাভ করেন। ফেনী সরকারি কলেজে অনুষ্ঠিত আন্তঃকলেজ সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় পল্লীগীতিতে রানার আপ হন। এর বাইরেও আরো নানা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সাফল্য পান তিনি।

ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকতেন বিপাশা। ‘ছবি আঁকতে ভালো লাগত’-বলেন বিপাশা। শুরুটা নিজে নিজে করলেও পরে ফেনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুব্রত নাথের কাছে ছবি আঁকার দীক্ষা নেন বহুদিন ধরে। ছবি আঁকার শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন ইউকে কিন্ডারগার্টেন, ইস্পাহানি স্কুল ও পাঞ্জেরীতে। এখানে শিল্পী গোপাল দাসের সহকারী হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেন তিনি। জলরং, প্যাস্টেল, অ্যাক্রেলিক, তেলরংসহ বিভিন্ন মাধ্যমে এঁকে চলেছেন এই সৌখিন শিল্পী। নিজের আঁকা ছোট-বড় মিলিয়ে ১০০ এর মতো ছবি রয়েছে তাঁর সংগ্রহে। এসব ছবি নিয়ে একটা চিত্র প্রদর্শনীরও স্বপ্ন রয়েছে তাঁর।

গান, ছবি আঁকার পাশাপাশি এখন পুরোদস্তুর স্কুল শিক্ষক বিপাশা রায়। ২০১৩ সালে যোগ দেন ফেনী সদরের কাজীরবাগ ইউনিয়নের পশ্চিম সোনাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে।

একইসঙ্গে ফেনীর পঞ্চবটী সাস্কৃতিক সংগঠনের প্রথম প্রযোজনা ‘ভেলুয়া সুন্দরী’তে নেপথ্য সংগীত এবং দ্বিতীয় প্রযোজনা ‘আয়না বিবির পালা’য় নেপথ্য সঙ্গীত ও অভিনয় করে সুনাম অর্জন করেন তিনি। এ দুটি নাটকের নির্দেশক মন্দিরা বিশ্বাস ও নাটক বিভাগের পরিচালক বিধান চন্দ্র শীলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। সেইসঙ্গে ধন্যবাদ দেন পুরো টিমের সবাইকে।

বিপাশা বলেন, ‘এ দুটি নাটকে কাজ করতে গিয়ে সবার এতো সহায়তা, ভালোবাসা পেয়েছি তা বলার মতো নয়।’

সুযোগ পেলে আরো কাজ করবার ইচ্ছে রয়েছে তাঁর। রাজধানীর চারুকলা ইনস্টিটিউটের বকুলতলায় একাধিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিপাশা। কাজ করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের হেমন্ত উৎসবসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও। ‘অমৃতবসিনী’ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

বিপাশা বলেন, ‘শিশুকালেই বাবাকে হারাই। মা-ই আমার সবকিছু। সেই সঙ্গে কিছু ঘনিষ্ঠ স্বজনের ভালোবাসা, স্নেহে আজ এই স্থানে এসে দাঁড়াতে পেরেছি।’ তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার নানা অনিল বরণ সেন, নানি নিন্টু রানী সেন, বড় খালা কুমকুম সেন, বড় খালু সন্তোষ কুমার শীল, ছোট খালা রুমা সেন, ছোট খালু শিশির কুমার শীল, বড় মামা চন্দ্রশেখর সেন, মেজো মামা বিন্দুশেখর সেন, ছোট মামা রাজশেখর সেনসহ ঘনিষ্ঠ স্বজনদের বিশাল অবদান রয়েছে আমার জীবনে। তাঁদের কাছে আমি অনেক অনেক কৃতজ্ঞ।’

পঞ্চবটীর সভাপতি বাদল দেবনাথ ও সংগঠক বিধান চন্দ্র শীলের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, ‘এঁদের সহযোগিতায় আমি এগিয়ে যাচ্ছি সামনের দিকে।’

মন্তব্য