kalerkantho

জনসেবায় মানুষের মন জয় করলেন মনোয়ারা

শাহজাহান কবির সাজু, পানছড়ি (খাগড়াছড়ি)   

১৬ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জনসেবায় মানুষের মন জয় করলেন মনোয়ারা

তৃণমূলে সেবা দিয়ে সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখায় খাগড়াছড়ি জেলায় সেরা জয়িতার সম্মাননা পেয়েছেন পানছড়ি উপজেলার মনোয়ারা বেগম। মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বেগম রোকেয়া দিবসের অনুষ্ঠানে খাগড়াছড়ি জেলা সদরে তাঁর হাতে শ্রেষ্ঠ জয়িতার সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।

পানছড়ি উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের মৃত নবী হোসেনের মেয়ে মনোয়ারা ছোটবেলা থেকেই কাজ করেছেন সমাজ উন্নয়নে।

১৯৯৩ সালের তিনি এইচএসসি পাস করার পর ১৯৯৮ সালে নিজ এলাকায় বেসরকারি এনজিও সংস্থা ব্র্যাক পাড়া কেন্দ্রে শিক্ষকতা দিয়েই নামেন সমাজ উন্নয়নে। ২০০২ সালের ডিসেম্বরে তিনি ব্র্যাকের শিক্ষকতা ছাড়েন। পরবর্তীতে নিজেকে সমাজের আরো সামনের কাতারে আনার জন্য ২০০৩ সালে ইউপি নির্বাচনে ৩ নম্বর পানছড়ি ইউপির সংরক্ষিত মহিলা আসনে নির্বাচন করে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। মহিলা সদস্য হিসেবে তিনি ২০০৯ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকালে নারীদের উন্নয়ন কাজ করে গেছেন নিরলসভাবে।

ওই সময়ে তিনি যৌতুকবিরোধী, যৌতুকবিহীন বিবাহ, বাল্যবিবাহ রোধ, গর্ভবতী মায়েদের নানান পরামর্শ, বিভিন্ন সাংসারিক সমস্যার সমাধানসহ নারীদের শিক্ষায় উদ্বুদ্ধকরণ নিয়ে কাজ করে পেয়েছেন বেশ সুনাম। ২০১৩ সালে তিনি হাল ধরেন পানছড়ি বাজারের পুরনো গো-হাট এলাকায় গড়ে উঠা সানরাইজ কিন্ডারগার্টেন অ্যান্ড জুনিয়র হাই স্কুলের। ঝিমিয়ে পড়া এই প্রতিষ্ঠান প্রধানের দায়িত্ব তাঁর হাতে আসার পর থেকেই জ্বলে উঠে আশার প্রদীপ। বিদ্যালয়ে সহজ নিয়মকানুনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পড়া আদায়, সহকর্মীদের সাথে সবসময় পরামর্শ, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ক্লাস, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ইত্যাদি দিয়ে প্রথম বছরেই পান সফলতা।

২০১৩ সালের পিইসি ফলাফলে শতভাগ পাস করলেও জিপিএ-৫ পায় দুজন। ২০১৪ সালে জিপিএ-৫ পায় তিনজন। সর্বশেষ ২০১৬ ও ২০১৭ সালে ফলাফলে উপজেলার সেরার স্থান দখলে নেয় বিদ্যালয়টি। ২০১৬ সালে জিপিএ-৫ পায় সাতজন এবং ২০১৭ সালে ১৪ জন। বর্তমানে উপজেলার সেরা এই বিদ্যাপীঠে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

শিক্ষার্থী অভিভাবক খুরশিদা আক্তারসহ কয়েকজন জানান, আসলে এখানের সিস্টেম খুব সুন্দর। বিশেষ করে ডায়েরিটা মূল্যায়ন করা হয় বেশি। তাই শিক্ষক ও অভিভাবক উভয়েই সচেতন। যার ফলে বাচ্চাদের থেকে দিনের পড়া দিনেই আদায় করে নেয়।

জানা যায়, মনোয়ারার ছোট ভাই পূজগাং মূখ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সুলতান মাহামুদ ও মাস্টার্স পাস করে ঢাকায় চাকরিরত ছোট বোন আমেনার লেখাপড়ার সব ধরনের খরচাদির অবদান এই জয়িতার। তাঁর এই সফলতার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আসলে আমি কি করেছি বা করছি তা মূল্যায়ন করবেন জনসাধারণ। তবে আমি সব সময় ভালো ব্যবহার দিয়ে নিজের সেরাটুকু বিলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি। সমাজ উন্নয়নে অবদার রেখেছি বলেই আজ আমাকে মূল্যায়ন করা হয়েছে।’

উপজেলা ও জেলায় সেরা হয়ে এবার যেতে হবে বিভাগীয় পর্যায়ে। তাই সকলের দোয়া কামনা করছেন তিনি।

পানছড়ি উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মনিকা বড়ুয়া জানান, সমাজ উন্নয়নে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে জয়িতাদের নাম পাঠানো হয়েছে। বিচারকমণ্ডলীরা যোগ্যতার ভিত্তিতেই পানছড়ির মনোয়ারাকে জেলা সেরা নির্বাচিত করেছে।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক পানছড়ি শাখায় কর্মরত মো. মোখলেছুর রহমানের সহধর্মিণী মনোয়ারা বেগম দুই সন্তানের জননী। ছেলে মো. মাইনউদ্দিন ঢাকা তেজগাঁও কলেজে মাস্টার্স প্রথম বর্ষ ও মেয়ে তানিয়া রহমান ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজে এইচএসসি প্রথম বর্ষ বিজ্ঞান বিভাগে অধ্যয়নরত।

মন্তব্য