kalerkantho

রাউজানে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে কদলপুর কেজি স্কুল

জাহেদুল আলম, রাউজান (চট্টগ্রাম)   

১৬ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাউজানে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে কদলপুর কেজি স্কুল

শিক্ষায় অনুন্নত, অনগ্রসর গ্রামের নতুন প্রজন্মের মাঝে সুশিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে অনন্য ভূমিকা রাখছে রাউজানের কদলপুরের একটি স্কুল। এ ইউনিয়নের পরীর দীঘির পাড় এলাকায় প্রতিষ্ঠিত স্কুলটির নাম ‘কদলপুর আশরাফিয়া ইসলামিক কিন্ডারগার্টেন স্কুল’। হাফেজ বজলুর রহমান সড়কের খুব কাছে প্রাকৃতিক মনোরম ও নান্দনিক পরিবেশে অবস্থিত স্কুলটি এবারের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে রাউজানের সকল স্কুলকে ছাড়িয়ে গেছে। শুধু উপজেলার স্কুল নয়, জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকে চুয়েট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কেও অতিক্রম করেছে এ বিদ্যালয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৫ সালে এলাকার কিছু বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তি মিলে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন। স্কুলের নাম দেওয়া হয় কদলপুরের প্রখ্যাত সাধক হযরত সৈয়দ আশরাফ শাহ (রহ.) এর নামে। প্রতিষ্ঠাকালীন থেকে এ পর্যন্ত স্কুলটির পরিচালক পদে আছেন মোহাম্মদ সামশুল আলম, ডা. মোহাম্মদ হারুন-উর-রশীদ, এয়ার মোহাম্মদ চৌধুরী, এস এম আকরাম, মৌলানা ইলিয়াছ রেজভী, মোহাম্মদ আবদুল মান্নান, মোহাম্মদ সেলিম মাস্টার, মোহাম্মদ দিদারুল আলম, মোহাম্মদ ইকরাম চৌধুরী ও মোহাম্মদ আলী। প্রথমে স্কুলটি ছিল সেমিপাকা। বর্তমানে নিজস্ব ৬ গণ্ডা জমিতে মনোরম বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানেই চলছে পাঠদান। এ স্কুলে বর্তমানে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ২৫০ জন। শিক্ষক রয়েছে ১৪ জন। প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে আছেন মো. সেলিম।

স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্য ও শিক্ষক-শিক্ষিকরা জানান প্রতিষ্ঠাকালীন থেকেই এ স্কুল ধারাবাহিকভাবে শিক্ষায় সফলতা অর্জন করে আসছে। প্রতিষ্ঠার পর এ পর্যন্ত স্কুলের কোনো শিক্ষার্থী পিএসসিতে ফেল করেনি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এবারের পিএসসিতে এখান থেকে ২১ শিক্ষার্থীর সবাই পাস করেছে। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৪ জন, এ পেয়েছে ৬ জন ও বি পেয়েছে ১ জন। জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকে উপজেলা এবং চুয়েট সরকারি স্কুল থেকে শীর্ষে রয়েছে এ প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া গতবছরও এ বিদ্যালয় পিএসসির ফলাফলে উপজেলা পর্যায়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল বলে স্কুলের শিক্ষকরা জানান। এ বিদ্যালয় ২০১৬ সালে ৫ জন, ২০১৭ সালে ৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়। তাছাড়া এ স্কুল থেকে ২০১২ সালে তিনজন, ২০১৩ সালে ২ জন ও ২০১৫ সালে ৩ জন শিক্ষার্থী সরকারি বৃত্তি লাভ করেছে।

এ প্রসঙ্গে স্কুল পরিচালক সামশুল আলম ও আবদুল মান্নান বলেন, ‘দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি এ স্কুল থেকে প্রত্যক শিক্ষার্থীকে পূর্ণাঙ্গ কোরআন শিক্ষা দেওয়া হয়। এলাকাকে শিক্ষায় আলোকিত করার লক্ষ্যে এ বিদ্যালয় আমরা প্রতিষ্ঠা করি। হযরত সৈয়দ আশরাফ শাহ (রহ.) এর নজরে এ স্কুল সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে এ স্কুলে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান হলেও ভবিষ্যতে এটিকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।’

মন্তব্য