kalerkantho


নির্বাচনী প্রচার

উৎসাহ-উদ্দীপনার পাশাপাশি উত্তেজনাও আছে

আসন্ন সংসদ নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন দলের প্রার্থী এবং তাঁদের কর্মী-সমর্থকদের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনার পাশাপাশি কিছু এলাকায় উত্তেজনাও রয়েছে। ‘অজানা শঙ্কা’ বাসা বাঁধছে কোনো কোনো নির্বাচনী এলাকায়। অভিযোগ উঠেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে। আবার কোথাও কোথাও দর্শকের ভূমিকা নিয়েছে। বিস্তারিত জানাচ্ছেন : নূপুর দেব, চট্টগ্রাম

১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



উৎসাহ-উদ্দীপনার পাশাপাশি উত্তেজনাও আছে

পটিয়ায় আওয়ামী লীগ-বিএনপি প্রার্থীর কোলাকুলি (বাঁয়ে) এবং নগরের হালিশহর নয়াবাজার মোড়ে প্রচারের মাইক ভাঙচুর। ছবি : রবি শংকর ও আবদুল হাকিম রানা

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই চট্টগ্রাম নগর ও জেলার ১৬টি আসনে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। প্রত্যেক আসনে প্রচার-প্রচারণা চলছে জোরেশোরে। প্রার্থী ও তাঁদের পক্ষে নির্বাচনী গণসংযোগে মুখরিত হয়ে উঠেছে নির্বাচনী এলাকাগুলো। পোস্টার-ব্যানার-প্ল্যাকার্ডসহ নির্বাচনী প্রচারপত্রে ছেয়ে গেছে সর্বত্র। ভোটারদের মন জয়ে রাজনৈতিক দল, সংগঠনের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও এলাকার উন্নয়ন, নাগরিক সমস্যা সমাধানসহ নানা প্রতিশ্রুতি এবং আশার বাণী শোনাচ্ছেন।

৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে বিভিন্ন আসনে প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীদের করমর্দন-কোলাকুলি করতে দেখা যায়। নির্বাচনী প্রচারণার মাঠে ভোটযুদ্ধে নামা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ দেখে অনেকের মনে ‘আশার’ সঞ্চার হয়েছে।

সেই সঙ্গে আবার বিভিন্ন আসনে প্রার্থী ও তাঁদের পক্ষের প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে। নির্বাচনী প্রচারপত্র না সাঁটাতে দেওয়ার পাশাপাশি প্রার্থী ও তাঁদের অনুসারীদের ওপর ‘হামলার’ অভিযোগ ওঠেছে। নির্বাচন ঘিরে কোনো কোনো এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের ‘গ্রেপ্তার-হয়রানি’ করা হচ্ছে বলে কেউ কেউ অভিযোগ করছেন।

সব মিলে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমনি ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবের আমেজ বইছে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন কারণে ‘অজানা শঙ্কা’ বাসা বাঁধছে কোনো কোনো নির্বাচনী এলাকায়। অভিযোগ উঠেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো কোনো আসনে দ্রুত এই ব্যাপারে ব্যবস্থা নিচ্ছে। আবার কোথাও কোথাও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না।

গত রবিবার চট্টগ্রাম-১০ (নগরের ডবলমুরিং-হালিশহর-খুলশী-পাহাড়তলী) আসনে বিএনপি প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমানের নির্বাচনী গণসংযোগে প্রকাশ্য হামলার অভিযোগ ওঠেছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন প্রার্থী নোমান। ঘটনার পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি আসন্ন নির্বাচন নিয়ে সংশয়ও প্রকাশ করেন। সরকার দলীয় সশস্ত্র ক্যাডাররা এই ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে নোমানের অভিযোগ।

এর আগের দিন গত শনিবার সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের তেমুহনী বৈদ্যবাড়ি এলাকায় চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনের এলডিপি প্রার্থী দলের চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের পক্ষে আয়োজিত নির্বাচনী প্রচারণায়ও হামলার অভিযোগ ওঠেছে। এই ঘটনার জন্য স্থানীয় সরকার দল ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোকে দায়ী করেছেন সাবেক মন্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য অলি আহমদের ছেলে ওমর ফারুক সানি। এতে সানিসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে এলডিপি।

গত শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপির ১৩ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ ওঠেছে। বিএনপির অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে পুলিশ বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার নির্বাচনী প্রচারণা ও গণসংযোগকালে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের সঙ্গে (চট্টগ্রাম-১০) আসনে বিএনপি প্রার্থী আবদুল্লাহ আল নোমানের হঠাৎ দেখা হয়। এ সময় প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের দুই আসনের প্রার্থীর কোলাকুলি ও কুশল বিনিময় হয়। এ ছাড়া চট্টগ্রাম-১২, চট্টগ্রাম-৬সহ কয়েকটি নির্বাচনী এলাকায় প্রধান প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীসহ প্রার্থীদের করমর্দন ও কুশল বিনিময় নির্বাচনী পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত এবং উৎসবমুখর করেছে বলে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা জানান।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একাধিক নেতা জানান, আওয়ামী লীগ জোট মনোনীত প্রার্থীরা যেভাবে প্রচার-প্রচারণা করছেন সেভাবে তাদের (বিএনপি জোট) প্রার্থী ও সমর্থকদের প্রচারণা করতে দেওয়া হচ্ছে না।

চট্টগ্রাম-৯ আসনে দলীয় প্রার্থী ডা. শাহাদাতকে বিভিন্ন মামলা দিয়ে কারাগার থেকে বের হতে দিচ্ছে না সরকার দল। এ ছাড়া সব আসনে দল ও জোটের প্রার্থী ও প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় সমান সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। এখনো মামলা-হয়রানি করা হচ্ছে। নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টির জন্য দল ও জোট থেকে প্রশাসনকে চিঠি দিয়ে দাবি জানানো হলেও এখনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, বিএনপি জোট, ঐক্যফ্রন্ট যুদ্ধাপরাধী জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে ভোট করছেন। জামায়াত জোট বিভিন্ন বিশৃঙ্খলা করছে। তারা এদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হোক তা চায় না। চট্টগ্রামের পাশাপাশি দেশব্যাপী উন্নয়ন ও অগ্রগতির কারণে জনরায়ে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসবে তা আঁচ করে বিএনপি জোট নির্বাচন বানচাল করার ষড়যন্ত্র করছে। তারা একের পর এক অভিযোগ করে নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে মরিয়া হয়ে ওঠেছে। তাদের অপচেষ্টা কিছুতেই সফল হবে না।

এদিকে বিভিন্ন এলাকায় প্রার্থীদের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যে থেকে নেই নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। দিন যতই যাচ্ছে ততই জমে উঠেছে ভোটের মাঠে লড়াই।

কে কোন আসনে জিততে পারে এরকম আলোচনাও এখন অনেকের মুখে মুখে। কেউ বলছে প্রচারণায় ওই প্রার্থী এগিয়ে আবার কেউ বলছেন, উনি নীরব ভোটে বিজয়ী হবেন? আবার কারো মতে, ভোটকেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার হতে পারে। আবার কেউ বলছেন, প্রশাসনের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টনীর মাঝে কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তারের কোনো সুযোগ থাকবে না? এরকম নানামুখী প্রশ্ন ও আলোচনা-সমালোচনা চলছে নির্বাচনী মাঠে। তবে বসেই নেই প্রশাসন। সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন ব্যাপক পদক্ষেপ নিচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।



মন্তব্য