kalerkantho


বিতার্কিক সাহেলা আক্তার ফেন্সি

বিতর্ক মানুষকে যুক্তিবান প্রজ্ঞাবান ও সহনশীল করে

মোবারক আজাদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়   

৭ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



বিতর্ক মানুষকে যুক্তিবান প্রজ্ঞাবান ও সহনশীল করে

সাহেলা আক্তার। ডাকনাম ফেন্সি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্রী। পড়ালেখার পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় বিতর্ক সংগঠন সিইউডিএসে চার বছর ধরে যুক্ত আছেন। সংগঠনের  পক্ষ থেকে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নেন এবং বিচারকেরও দায়িত্ব পালন করেন।

তাঁর মতে, যুক্তির তর্কই হলো বিতর্ক। বিতর্ক একজন মানুষকে যুক্তিবান, প্রজ্ঞাবান ও সহনশীল করে তোলে। ২০১৫ সালের বিতর্ক কর্মশালায় অংশগ্রহণ করে এ বিষয়গুলো অনুধাবন করে ফেন্সি চিটাগাং ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটিতে (সিইউডিএস) যুক্ত হন। সেই থেকে শুরু বিতর্ক নিয়ে পথচলা। এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পুরস্কার ও বিতর্কের অঙ্গনে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছেন তিনি। একাধিক প্রতিষ্ঠানে আমন্ত্রিত বিতর্কের বিচারক হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ‘ইরা’ নামের একটি সামাজিক সংগঠনে নিয়মিত কাজ করছেন। সব কিছু সামলিয়ে ডিপার্টমেন্টের রেজাল্টও বরাবরই ভালো করেছেন এই বিতার্কিক। ফেন্সির জন্মস্থান বরিশাল বিভাগের ভোলা জেলায় হলেও বেড়ে উঠা চট্টগ্রাম নগরে। বাবা মো. আবু তাহের কর্মরত আছেন চট্টগ্রামের একটি ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্সিতে। মা লুতফুন্নেসা মুকুল একজন গৃহিণী। চারবোনের মধ্যে ফেন্সী দ্বিতীয়। তিনি ২০১০ সালে আগ্রাবাদ বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০১২ সালে চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন।

বিতর্কের বিষয়ে ফেন্সি বলেন, ‘সবসময় মনে হয়েছে বিতর্কের মাধ্যমে নানান বিষয় নিয়ে আলোচনা করার এবং জানার সুযোগ রয়েছে। বিতর্ক নিয়ে কাজ করা মানুষগুলো সমাজের ধরাবাঁধা নিয়মের বাইরে চিন্তা করে। নিজেকে তাদের একজন হিসেবে তৈরি করার ইচ্ছেটা সবসময় ছিল। স্কুলে বিতর্ক করা হয়েছে অল্প স্বল্প। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে নতুন করে বিতর্কের শুরু একটি কর্মশালায় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে। এছাড়া ইরা সংগঠনের সঙ্গে ২০১৪ সাল থেকে কাজ করছি। সংগঠনটি সুবিধাবঞ্চিত বাচ্চাদের নিয়ে কাজ করে।’

বিচারক হিসেবে সিউডিএস আয়োজিত বিতর্ক প্রতিযোগিতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তবিভাগীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও বসুন্ধরা-কালের কণ্ঠ জাতীয় স্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চট্টগ্রামে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

অংশগ্রহণ করা প্রতিযোগিতার মধ্যে বুয়েট আইভি (বাংলা), চুয়েট আন্তবিশ্ববিদ্যালয় (বাংলা), পিউডিএস আন্তবিশ্ববিদ্যালয় (ইংলিশ), সিইউডিএস ওপেন (ইংলিশ), সিইউডিএস আইভি (বাংলা, ইংলিশ), সিইউডিএস আন্তডিপার্টমেন্ট ও এটিএনবাংলা আন্তবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা উল্লেখযোগ্য।

বিতর্কে কেন আসা এ বিষয়ে ফেন্সি বলেন, ‘নিজের জানা ও বোঝার  পরিধিটা বাড়াতেই বিতর্কে আসা। অনেকের ভালোবাসায় এখনো বিতর্কের অনেক কিছু শিখছি ও বিশ্ববিদ্যালয় আন্তবিভাগীয় চ্যামিপয়ন ২০১৫ (বাংলা) ও  সিইউডিএসের ২০১৬ সালে আন্তবিভাগীয় বিতর্কে (ইংলিশ) রানার্সআপ হই।’

সামনে কী নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা আছে জানতে চাইলে ফেন্সি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পড়াশোনা শেষ করে চাকরির পাশাপাশি স্কুল এবং ক্লাবের বিতর্ক প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে অনেক বেশি কাজ করার ইচ্ছা আছে।’

কেমন ছিল বিতর্ক শুরু করার দিনগুলো? জবাবে বললেন, ‘এক কথায় অসাধারণ। প্রথম প্রথম একটু আধটু সমস্যা হলেও এখন প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেছি এবং নতুন নতুন অনেক বিষয় শিখছি। নিজেকে অন্যভাবে আবিষ্কার করেছি। আত্মবিশ্বাস বেড়েছে বহুগুণ। পেয়েছি নিজের সংগঠন ছাড়াও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অসাধারণ কিছু বিতার্কিক সহকর্মী। যাঁরা সব সময় সহযোগিতা করেছেন।’

ফেন্সি জানালেন, অনুপ্রেরণার জগত বলতে প্রথমে তাঁর বন্ধুদের নাম আসবে। সিইউডিএসের বিতর্ক কর্মশালা হতে শুরু করে প্রতিটি টুর্নামেন্টে অনুপ্রেরণা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের বিতর্ক অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছে। ভুলগুলো ধরিয়ে দিয়েছে। ফলে ভুল শোধরাতে সহজ হয়েছে। বিতর্ক জগতকে আরও বেশি উপভোগ করার অন্যতম কারণ হচ্ছে তাঁর রসায়ন বিভাগের বিতার্কিক সহকর্মী হিসেবে পাওয়া বন্ধু শাওন, ফয়সাল, ইনজামাম, জয় ও টিটর জন্য। এছাড়া ডিবেটিং ক্লাবের সিনিয়ররা সব সময় সাহস দিয়েছেন। সেই সঙ্গে মেয়ে বলে চট্টগ্রামের বাইরে যেতে পারবো না পরিবার থেকে এ ধরনের বাধা কখনও আসেনি। বরং বাবা-মা সবসময় অনুপ্রেরণা দিয়েছেন নিজের ভালোলাগার বিষয়কে গুরুত্ব দিতে, সেক্ষেত্রে নিজের সবটা দিয়ে চেষ্টা করতে।

অবসরে ফেন্সি সিনেমা দেখেন, বই পড়েন, ঘুরতে অনেক পছন্দ করেন। ইরার বাচ্চাদের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালো লাগে বলে জানান। থিসিস করছেন ন্যানো পার্টিকেল নিয়ে। একটা সময় বিদেশে গিয়ে উচ্চ শিক্ষার ডিগ্রি নেওয়ার ইচ্ছা আছে তাঁর। আর কাজ করতে চান একজন গবেষক হিসেবে।



মন্তব্য