kalerkantho


সুখবর

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে স্বল্প মূল্যে কিডনি ডায়ালাইসিস

সামসুল হাসান মীরন, নোয়াখালী   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



নোয়াখালী জেলার ৩৫ লাখ অধিবাসীর জন্য স্বাস্থ্যসেবার নবদিগন্ত উন্মোচিত হল। হতদরিদ্র কিডনি রোগীদের আর অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে কিডনি ডায়ালাইসিস করাতে হবে না। 

সম্প্রতি অত্যন্ত কম খরচে তাঁরা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে এ সেবা পেতে শুরু করেছেন। দেশের ২৫০ শয্যার সরকারি হাসপাতালের মধ্যে এটি দ্বিতীয় কার্যক্রম। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বরাদ্দকৃত প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে এ সেন্টারটি নির্মাণ করা হয়েছে।

সকালে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় আধুনিক সুবিধা-সম্বলিত কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ২৫০ শয্যার নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. খলিল উল্যাহ, নোয়াখালীর সিভিল সার্জন ডাক্তার বিধান চন্দ্র সেনগুপ্ত, নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র শহিদ উল্লাহ খান সোহেল, নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কাজী মাহবুবে আলম, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার মোজাম্মেল হক, নোয়াখালী শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ পিন্টু, মাহমুদুর রহমান জাবেদসহ হাসপাতাল স্বাস্থ্যসেবা কমিটির সদস্যবৃন্দ।

ডায়ালাইসিস সেন্টারের তত্ত্বাবধায়ক আবদুল মালেক উকিল মেডিক্যাল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ফজলে এলাহী খান জানান, নোয়াখালীতে কিডনি রোগীর সংখ্যা ক্রমশ: বাড়ছে। জেলার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ২৫টির মতো কিডনি ডায়ালাইসিস যন্ত্র রয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এ অবস্থায় নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের ডায়ালাইসিস সেন্টারে বসানো হয়েছে ১০টি ডায়ালাইসিস যন্ত্র। এগুলো কিডনি রোগীদের চিকিৎসায় বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি এ সময় কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টারের নানা সুযোগ-সুবিধাসহ বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন । তিনি জানান, এটি স্থাপনের বিষয়ে নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীসহ জেনারেল হাসপাতালের আমার সতীর্থ ডাক্তাররা অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন।

জানা গেছে, বর্তমানে দেশে প্রায় ৮ লাখ কিডনি বিকল রোগী রয়েছে। এসব কিডনি রোগীর কিডনী ডায়ালাইসিসের জন্য কমপক্ষে এক হাজার ডায়ালাইসিস সেন্টার প্রয়োজন। সেখানে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের ১০১টি সেন্টারে প্রায় ১৮ হাজার রোগীর কিডনি ডায়ালাইসিসের ব্যবস্থা আছে।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. খলিল উল্যাহ জানান, এই ডায়ালাইসিস সেন্টার থেকে প্রতিদিন ৩০ জন রোগী সেবা নিতে পারবেন।

দেশের ২৫০ শয্যার সরকারি হাসপাতালের মধ্যে এটি হবে দেশের জেলা পর্যায়ে সরকারি হাসপতালে স্থাপন করা দ্বিতীয় কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার। নোয়াখালীর আবদুল মালেক উকিল মেডিক্যাল কলেজের কিডনি রোগ বিভাগের তত্ত্বাবধানে সেন্টারটি পরিচালিত হবে। এখানে অত্যাধুনিক ১০টি ডায়ালাইসিস যন্ত্র, পর্যাপ্ত সংখ্যক শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্টসহ আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া ২৪ ঘণ্টা সেবা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এই সেন্টারে প্রতিদিন ৩০ জন কিডনি রোগী কিডনি ডায়ালাইসিসের সেবা নিতে পারবেন। বাইরে বেসরকারি হাসপাতালে যেখানে প্রতিজন রোগীর কিডনি ডায়ালাইসিস করাতে নেওয়া হয় ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা, সেখানে এই ডায়ালাইসিস সেন্টারে ৪০০-৬০০ টাকায় কিডনি ডায়ালাইসিস করা হবে।

সংসদ সদস্য ও ২৫০ শয্যার নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি একরামুল করিম চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক কাজ করছে। এখন গ্রাম পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিয়েছে। সেখানে এখন বিনা মূল্যে ওষুধ ও চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে যা আগে কল্পনা করা যেত না। আমাদের নোয়াখালীর হত দরিদ্রদের স্বাস্থ্যসেবার জন্য এখানে ব্যাপক কাজ করা হয়েছে। নোয়াখালীর কিডনি রোগীরা যেন স্বল্প মূল্যে ডায়ালাইসিস করতে পারে সে জন্য এ হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার করা হয়েছে। এখন থেকে সবাই এখানে সহজে চিকিৎসা নিতে পারবে।’

এদিকে উদ্বোধনী দিনে কিডনি ডায়ালাইসিস করতে জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নুরুজ্জামান বলেন, ‘এখানে আমরা অল্প পয়সায় ডায়ালাইসিস করতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। ভালো পরিবেশ এবং পাশাপাশি অল্প টাকায় ডায়ালাইসিস করতে পেরেছি।’

 



মন্তব্য