kalerkantho

ফেনীর নারী সাংবাদিক সাহিদা সাম্য লীনা

যেতে চান বহু দূর

শুধু সাংবাদিকতা বা কাগজে লেখালেখি নয়, তাঁর শিশুতোষ গল্পগ্রন্থও রয়েছে। ২০১৩ সালে নুর কাশেম জাবলী প্রকাশ করেন গল্পগ্রন্থ ‘ক্ষুদে গল্পরাজ’। সাম্য লীনা বলেন, ‘লেখালেখি ও সংগঠন করতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের বেশ সহায়তা পাচ্ছি।’

আসাদুজ্জামান দারা, ফেনী   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



যেতে চান বহু দূর

নানা গণমাধ্যমে লেখালেখি করছেন দীর্ঘদিন ধরে। নিজে সাহিত্যের ছোটকাগজও প্রকাশ করছেন। কিন্তু এখনো তাঁর মনে হয় যেন কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেননি ফেনীর নারী সাংবাদিক সাহিদা সাম্য লীনা। তবে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। কোনো একটি বড় গণমাধ্যমের নিয়মিত সাংবাদিক হিসেবে কাজ করে যেতে চান। এই স্বপ্নকে ধারণ করে এগোচ্ছেন ফেনীর এই কবি ও সাংবাদিক।

ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের রাজাপুরঘোনা গ্রামের আব্দুর রশিদ কন্ট্রাক্টর বাড়ির প্রয়াত আব্দুর রশিদের মেয়ে সাহিদা সাম্য লীনা। মা প্রয়াত আনোয়ারা বেগম চৌধুরী। বড় ভাই প্রয়াত মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ একসময়ের বিখ্যাত পত্রিকা ‘দৈনিক আজাদ’ এর সাংবাদিক ছিলেন। পাশাপাশি ‘দৈনিক বাঙালি’ নামের একটি কাগজও তিনি সম্পাদনা করতেন।

মেজো ভাই নুরুল আবসারও ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে কাজ করছেন বহু বছর ধরে। আরেক ভাই মনিরুল আলম ব্যবসায়ী। বোনদের মধ্যে আছেন মোহসেনা আক্তার পঙ্খী, ফেরদৌস আরা ডলি, নাসিমা আক্তার, সাজেদা আক্তার রুমা-সবাই গৃহিণী। এঁদের মধ্যে নাসিমা ২০১০ সালে ‘প্রথম আলো-প্রাণ আচার প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেন।

লীনার স্বামী কাজী আমির হোসেন ফুলগাজী উপজেলার হাজি মনির আহমদ কলেজের বায়োলজি বিভাগের শিক্ষক। শ্বশুরবাড়ি দাগনভূঞার জায়লস্কর ইউনিয়নের দক্ষিণ বারাহিগোবিন্দ গ্রামে।

একমাত্র ছেলে কাজী আরবিল আহমেদ পিঞ্জন ঢাকা কমার্স কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম বর্ষে ও মেয়ে কাজী সালসাবিল পরোয়া উত্সা ঢাকা সিটি কলেজে অনার্স পড়ছে। ফেনী শহরের বারাহীপুরে বর্তমানে বসবাস করছে পরিবারটি।

‘মূলত বড় ভাই প্রয়াত মোহাম্মদ শহীদুল্লাহর উত্সাহ-অনুপ্রেরণায় সাংবাদিকতায় আসা’-বললেন লীনা। কালের কণ্ঠের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘ছোটবেলায় নবারুণে নিয়মিত লিখতাম। দৈনিক ইত্তেফাক, আমার দেশের নারী পাতায় বিভিন্ন সময় বহু লেখা প্রকাশিত হয়েছে।

২০০৫ সাল থেকে যুগান্তরের সুরঞ্জনা পাতায় লেখা ছাপা হচ্ছে। প্রথম আলোর নারীমঞ্চ পাতায়ও থাকে আমার নানা স্বাদের লেখা। এসব লেখা ছাপা হাওয়ায় ফেনী এবং ফেনীর বাইরের অনেকেই এখন চেনেন আমাকে। অনেকের সাথে বন্ধুত্ব হয়েছে এই লেখালেখির সুবাদে।’

২০০৭ সালে ফেনী থেকে প্রকাশিত পাক্ষিক ফেনীচিত্রে নিজস্ব প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করেন তিনি।

২০১২ সালে ফেনী থেকে প্রকাশিত দৈনিক স্টার লাইনের সাহিত্য সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ তে এসে দৈনিক ফেনীর সময়ের সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন।

২০১৫ সালে নিজে প্রকাশ করেন সাহিত্যের ছোটকাগজ ত্রৈমাসিক ‘আঁচল’। বর্তমানে দৈনিক সংবাদ, মানবকণ্ঠ, ইনকিলাব, প্রতিদিনের সংবাদ, বাংলাদেশের খবরসহ নানা স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে নিয়মিতভাবে লিখে চলেছেন তিনি। ইউটিউবভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম ‘সিপিটিভি’ ও নিউজ৭১ অনলাইনেও কাজ করছেন তিনি।

লীনা বলেন, ‘বহুদিন ধরে লেখালেখি করছি। কিন্তু বড় কোনো গণমাধ্যমে এখনো থিতু হতে পারিনি। এবার চেষ্টা করছি কোনো প্রতিষ্ঠানে নিয়মিতভাবে কাজ করতে।’ এর পাশাপাশি নিয়মিতভাবে কাব্যচর্চাও করছেন লীনা। ফেনীর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রায়ই কবিতা নিয়ে হাজির হন মঞ্চে। সাহিত্যধর্মী আচার-অনুষ্ঠানগুলোতেও তিনি অংশ নেন নিয়মিত।

তিনি যুক্ত আছেন ফেনী পোয়েট সোসাইটি, খেলাঘর, জাতীয় কবিতা পরিষদ, সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনসহ নানা সংগঠনের সাথে।

সাংবাদিকতার বেশকিছু প্রশিক্ষণও রয়েছে সাহিদা সাম্য লীনার ঝুলিতে। ২০১৬ সালে পিআইবির বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। আর্টিকেল-১৯ থেকেও প্রশিক্ষণ নেন দুবার। ২০১৪ ও ২০১৭ সালে তথ্য কমিশনের দুটি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

এছাড়া এলআরডির আয়োজনে প্রশিক্ষণ কর্মশালাতেও অংশ নেন তিনি। শুধু সাংবাদিকতা বা কাগজে লেখালেখি নয়-তাঁর শিশুতোষ গল্পগ্রন্থও রয়েছে। ২০১৩ সালে নুর কাশেম জাবলী প্রকাশ করেন গল্পগ্রন্থ ‘ক্ষুদে গল্পরাজ’। সাম্য লীনা বলেন, ‘লেখালেখি ও সংগঠন করতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সহায়তা নিয়মিতভাবে পাচ্ছি। পাশাপাশি ফেনীর সিনিয়র সাংবাদিক ও সংগঠকরাও তাঁকে নানাভাবে সহায়তা করেন।’ সবার সাথে একসাথে কাজ করে এগিয়ে যেতে চান লীনা। পৌঁছাতে চান তাঁর অভীষ্ট লক্ষ্যে।

 

 

মন্তব্য