kalerkantho


খাগড়াছড়িতে যৌথবাহিনীর অভিযান

আস্তানা ছেড়ে পালাচ্ছে অপরাধীরা

জাকির হোসেন দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি)   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



আস্তানা ছেড়ে পালাচ্ছে অপরাধীরা

খাগড়াছড়িতে অস্ত্র উদ্ধার এবং সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি নির্মূলে যৌথবাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযানে সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধে অনেকটা সফলতা আসছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যে টানা তিন রাত পাহাড়ের দুর্গম এলাকায় সন্ত্রাসীদের আস্তানায় অভিযান চালানো হয়। দুটি অভিযানে সন্ত্রাসীদের

আস্তানায় পৌঁছে কাউকে আটক করা সম্ভব না হলেও জব্দ করা হয়েছে অস্ত্র-গুলি এবং ধ্বংস করা হয়েছে সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত আস্তানা। এছাড়া পৃথক আরেকটি অভিযানে বিদেশি পিস্তলসহ আটক করা হয়েছে একজনকে। তিন অভিযানই পরিচালিত হয়েছে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে গত বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার ভোররাতে।

দীঘিনালা সেনাজোন অধিনায়ক লে. কর্নেল ফেরদৌস জিয়া উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘পর পর অভিযানে আস্তানা ধ্বংস করে অস্ত্র উদ্ধারের কারণে সন্ত্রাসীদের মনোবল ভেঙে পড়বে। তাদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নষ্ট হবে। ছত্রভঙ্গ হয়ে সার্বক্ষণিক আতঙ্কে কাটবে তাদের সময়। তাছাড়া অভিযানের কারণে দুর্গম এলাকার আস্তানাতেও টিকতে না পেরে বাধ্য হয়ে অধিকতর দুর্গম এলাকার গহিন অরণ্যে চলে যেতে হবে তাদের। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং সন্ত্রাসী আটকের চেষ্টা নিয়ে অভিযান আরো জোরদার করা হবে।’

শুক্রবার ভোররাতে অভিযান চালানো হয় দীঘিনালার উত্তর বানছড়া এলাকায়। সেখানে অমিয় চাকমার ঘর থেকে আটক করা হয় পিয়াস চাকমা ওরফে সাধনকে (৪০)। তাঁর কাছ থেকে জব্দ করা হয় একটি বিদেশি

পিস্তল, ৫ রাউন্ড গুলি এবং একটি ম্যাগজিন। সাধন দক্ষিণ বড়াদম এলাকার দয়ালাল চাকমার ছেলে। এ অভিযানের সময় সাধনের সাথে থাকা আরেক সহযোগী পালিয়ে যায়। ঘরটির মালিক অমিয় চাকমা (৪০) কালের কণ্ঠকে জানান, সাধনসহ দুজন অস্ত্রধারী ঘটনার রাত ১০টার দিকে তাঁর ঘরে গিয়ে সেখানে রাত যাপনের ইচ্ছা প্রকাশ করে। এর আগেও কয়েকবার তাঁর ঘরে গিয়ে তারা রাতযাপন করেছে। তিনি তাঁর ঘরে না থাকার জন্য অনুরোধ করলেও তাঁরা শোনেনি। অস্ত্রের ভয়ে বাধ্য হয়ে তাদের আশ্রয় দিতে হয় দাবি করে অমিয় বলেন, ‘আমরা আছি উভয় সংকটে’।

অস্ত্রসহ সাধনকে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে দীঘিনালা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আ. সামাদ বলেন, ‘৮ আগষ্ট রাতে উপজেলা সদরের পোমাংপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ব্রাশফায়ারে হত্যা করা হয় মঞ্জুরুল আলমকে (৩৫)। আটককৃত সাধন মঞ্জুরুল হত্যা ঘটনার সাথে জড়িত বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকারোক্তি দিয়েছে’।

এর আগের রাতে (বৃহস্পতিবার) অভিযান চালানো হয় উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে আলমগীর টিলা এলাকার দুর্গম কালাপাহাড় নামক স্থানে। সেখানে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের আস্তানার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় যৌথবাহিনী।

অভিযান আঁঁচ করতে পেরে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব না হলেও জব্দ করা হয় একটি দুনলা বন্দুক, ১২ রাউন্ড গুলি, ৬টি ধারালো দা এবং ২টি ছুরিসহ সরঞ্জামাদি। এর পর ধ্বংস করা হয় আস্তানাটি।

সর্বশেষ শনিবার ভোররাতে অভিযান চালানো হয় জেলা সদরের চারমাইল এলাকায়। সেখানেও পাহাড়ের

দুর্গম আস্তানায় পৌঁছে কাউকে আটক করা সম্ভব না হলেও জব্দ করা হয়েছে একটি বিদেশি পিস্তল ও পিস্তলের ৬ রাউন্ড গুলি এবং একটি এলজি ও এলজির ৩ রাউন্ড গুলিসহ তাদের ব্যবহৃত সরঞ্জাম।

খাগড়াছড়ি সদর

থানার অফিসার ইনচার্জ সাহাদাত হোসেন টিটো ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘এ আস্তানায় থেকে সন্ত্রাসীরা খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কে চলমান বিভিন্ন গাড়ি থেকে চাঁদাবাজি করত। অভিযানের পর আস্তানাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে’।

 



মন্তব্য