kalerkantho

বান্দরবান-কেরানিহাট সড়ক উন্নয়ন

বড় বাধা প্রভাবশালীদের স্থাপনা

মনু ইসলাম, বান্দরবান   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বড় বাধা প্রভাবশালীদের স্থাপনা

পর্যটনশহর বান্দরবানের সড়ক প্রশস্তকরণে ২৩৫ কোটি টাকার প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদন পর্যায়ে থাকলেও সড়ক বিভাগ এবং স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে প্রভাবশালীদের স্থাপনা ভাঙাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

সরকারের সড়ক উন্নয়ন মহাপরিকল্পনার আওতায় ৬ লেনের ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়ক প্রকল্প বাস্তবায়নের পর ৪ লেনের চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কের কাজও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। সড়ক নেটওয়ার্কের উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় বর্তমানে পাইপলাইনে আছে বান্দরবান-কেরানি হাট সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প।

বান্দরবান সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সজীব আহমদ জানিয়েছেন, পরিকল্পনা কমিশনের নীতিগত অনুমোদনের পর প্রকল্পটি এখন কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের কাছে রয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর এই বিভাগ থেকে প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে (একনেক) পাঠানো হবে। একনেক-এর ২৫ সেপ্টেম্বরের সভায় এটি চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রকৌশলী সজীব আহমদ।

তিনি জানান, প্রকল্পের আওতায় পানিতে তলিয়ে যাওয়া ঠেকাতে কেরানি হাট থেকে বান্দরবান পর্যন্ত দুটি অংশ উঁচুকরণ, পুরো রাস্তাকে ২৪ ফুট প্রশস্তকরণ, ২১টি আরসিসি গার্ডার ব্রিজ এবং ১২টি বড় কালভার্ট নির্মাণের প্রাক্কলন তৈরি করা আছে।

নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, এর ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কের ফিডার রোড হিসেবে

বান্দরবান-কেরানি হাট সড়ক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে। এদিকে সড়ক বিভাগের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে প্রস্তাবিত সড়কের বিভিন্ন অংশে প্রভাবশালীরা পাকা স্থাপনা নির্মাণ করে সড়কের জায়গা দখল করে নেওয়ার প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠায় প্রকল্প বাস্তবায়ন ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সড়ক বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, সড়ক প্রশস্তকরণ কর্মসূচির জন্যে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে বান্দরবান পুরাতন বাস টার্মিনাল এলাকার হিলভিউ হোটেল।

সূত্র জানায়, স্বাধীনতাপূর্ব সময়ে সড়ক সম্প্রসারণ এবং সোজাকরণ প্রকল্পের জন্যে রাস্তার দুপাশে বিশাল ভূমি হুকুম দখল করা হয়। কিন্তু প্রভাবশালী চক্রটি প্রকল্পটি পতিত দেখিয়ে বাস টার্মিনাল এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হুকুম দখলমুক্ত করে সাবেক মালিকের নামে ফেরত দেওয়ার কথা বলে নিজেরাই নামমাত্র মূল্যে ক্রয় করে রাখে। এই ভূমির উপরই নির্মাণ করা হয়েছে বিশাল হিলভিউ হোটেল। বর্তমানে সড়ক প্রশস্তকরণ কর্মসূচি অনুমোদন পর্যায়ে যাওয়ার তথ্য জেনে তড়িঘড়ি করে হিলভিউ হোটেলের পেছনের অংশে কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ করে চলেছে মালিক কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে প্রস্তাবিত সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের জন্যে ডিজাইনে অন্তর্ভুক্ত থাকা বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ কমপ্লেক্স সংলগ্ন জলাশয়ের উপর আরো একটি প্রভাবশালী গ্রুপ প্লাজা-২ নামে একটি বহুতল হোটেল ও মার্কেট ভবন নির্মাণ করে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ১৭ শতক তৃতীয় শ্রেণির (পাহাড়) জমি কিনে জলাশয় ভরাট করে প্লাজা হোটেল ও মার্কেট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রথম দিকে জলাশয় দখল করে ভবন নির্মাণের পর বারান্দা নির্মাণের নামে সড়ক বিভাগের মালিকানাধীন আরো ১০ ফুট জায়গা দখল করেছে হোটেল কর্তৃপক্ষ। সাম্প্রতিক সময়ে তারা গুরুত্বপূর্ণ বান্দরবান-কেরানি হাট সড়কের পাশ ঘেঁষে আরো কিছু স্থাপনা নির্মাণ করে চলেছে। এ বিষয়ে পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর বর্তমানে ত্রিপলে ঢেকে স্থাপনা নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে হোটেল প্লাজা কর্তৃপক্ষ।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বান্দরবান-কেরানি হাট সড়কের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী মং শৈ প্রু মারমা জানান, প্লাজা হোটেল কর্তৃক সড়ক বিভাগের ভূমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়ে জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে সরকারি ভূমি দখলমুক্ত করার জন্যে বান্দরবান সদর উপজেলার সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

মংশৈ প্রু জানান, সহকারী কমিশনার কর্তৃক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়ার পর পরই ভূমিটি দখলমুক্ত করার জন্যে অবৈধ স্থাপনা ভেঙে ফেলা হবে।

এদিকে সড়ক বিভাগের কর্মকর্তা এবং বান্দরবানের সিনিয়র নাগরিকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, প্রভাবশালী দখলবাজদের ইন্ধনে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ভূমি দখলমুক্ত করার কথা বলে অহেতুক কালক্ষেপণ করে চলেছে। এর ফলে ২৩৫ কোটি টাকার মহা প্রকল্পটি ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

 

মন্তব্য