kalerkantho


গান জাকারিয়ার প্রাণ

মোবারক আজাদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



গান জাকারিয়ার প্রাণ

জাকারিয়া কায়সার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। ছোটবেলা থেকে সংগীতকে ভালোবাসেন। সম্প্রতি তাঁর গাওয়া একটি গানের মিউজিক ভিডিও দর্শক মহলে ব্যাপক আলোচিত হয়েছে।

প্রাইমারি স্কুল থেকেই স্বপ্ন দেখতেন মঞ্চে উঠে গান করার। অন্যসব শিল্পীর মতো লোকজন তাঁর গান শুনবে এবং হাততালি দেবে। শিশুকাল থেকে তিনি খুব চঞ্চল ও সুরপ্রেমিক ।

যেখানে গানের আসর জমতো সেখানেই ছুটে যেতেন। স্কুলের টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে গানের অডিও অ্যালবাম কিনতেন। পরবর্তীতে সব ধরনের গান করলেও ফোক গানই তাঁর কণ্ঠে বেশি মানানসই বলে লোকজনের কাছে একটা ধারণা পান তিনি। তাই বর্তমানে ফোক গান নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন জাকারিয়া। স্বপ্ন আর সাধনা থাকলে জগতে সবকিছুই সম্ভব বলে মনে করেন এই তরুণ শিল্পী। সেই সাধনার কমতি যেন না হয় সেদিকে সবসময় লক্ষ্য রাখেন। ধীরে ধীরে তাঁর স্বপ্নের জায়গাটা খুঁজে নিচ্ছেন বলে জানালেন। জাকারিয়ার জন্ম কিশোরগঞ্জ জেলার তারাইল উপজেলায়। প্রাইমারি স্কুলে পড়ার সময় এলাকার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উৎসবে জাকারিয়া শ্রুতিমধুর কণ্ঠে গান ও গজল পরিবেশন করতেন।

তাঁর উৎসাহ ও সুরেলা কণ্ঠে মুগ্ধ হয়ে এলাকার সবাই বাহ্বা দিতেন। তাঁর এই সংগীতের প্রতি অনুপ্রেরণা দেখে বায়েজিদ আহাম্মেদ নামে এক পাড়াতো ভাই তাঁকে জেলার ঐতিহ্যবাহী ও জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কারপ্রাপ্ত দিশারী সাংস্কৃতিক সংগঠনে ভর্তি করিয়ে দেন। সেখানে ওস্তাদ শরীফ জামির কাছ থেকে দীর্ঘ আট বছর গানের তালিম নিয়েছেন। তখন থেকে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সাংস্কৃতিক প্রোগ্রাম ও সমাবেশে গান গাইতেন জাকারিয়া। নিজ উপজেলা ও জেলার চৌকাঠ পেরিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে স্টেজ শো করেছেন। নানা প্রতিযোগিতায়-ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে একাধিকবার পুরস্কার পেয়েছেন। ২০১৩ সালে ঢাকায় পড়াশোনার জন্য এলেও সংগীতচর্চায় ছেদ পড়েনি। ঢাকার বাড্ডায় দিগন্ত সাংস্কৃতিক একাডেমিতে এক বছর মেলোডিতে তালিম নেন। ধূমকেতু নামের একটি সংগীত একাডেমিতেও ছিলেন প্রায় দেড় বছর।

২০১৪ সালে মুগ্ধ মনে ভাবি, কোন সে মোহন ও বাংলাদেশের প্রান্ত হতে-এই তিনটি সংগীতের অ্যালবামে একক কণ্ঠে জাকারিয়া ছয়টি গান পরিবেশন করেন। এই গানগুলো দিয়ে বিভিন্ন মহলে বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন তিনি।

চুয়েটে ২০১৭ তে আন্তবিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দেশাত্মবোধক গান করেন।

দ্বিতীয় শ্রেণিতে বিদ্যালয়ের বার্ষিক প্রতিযোগিতায় গানের মাধ্যমে প্রথম মঞ্চে পা রাখেন তিনি।

এরপর শিক্ষাজীবনে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে সংগীতের আসর মাতিয়ে রাখেন জাকারিয়া। স্কুল ও কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজিতে স্নাতক পড়ছেন। এই ক্যাম্পাসের শাটল, ঝুপড়ি ও হলে নিয়মিত চলে তাঁর গান।

বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠন অঙ্গনে গানের সঙ্গে জড়িত আছেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন  সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আন্তবিশ্ববিদ্যালয় সংগীত উৎসব ও চট্টগ্রামের পথশিশুদের বিভিন্ন প্রোগ্রামে বিনা মূল্যে নানা ধরনের গান পরিবেশন করে থাকেন। গত রমজানে বৈশাখী টেলিভিশন ও একটি রেডিও চ্যানেলে তাঁর কয়েকটি গান সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। সামনে তাঁর লেখা ও গাওয়া একটি ফোক গানের অ্যালবামে ‘যদি চলে যায় অচিন পাখি’ শিরোনামে একটি গান শিগগিরই প্রকাশ হবে। জাকারিয়া সবসময় সুবীর নন্দী, কিশোর পলাশ, রিংকু ও শাহ আব্দুল করিমের লেখা গান শোনেন। সংগীত জীবন নিয়ে জানতে চাইলে জাকারিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সামনে বাংলা গানের পাশাপাশি ইংরেজি গান করার ইচ্ছা আছে।

এছাড়া মিউজিক ভিডিও ও গানের অ্যালবাম করতে চাই। গানের জগতকে ঘিরে অনেক দূর এগিয়ে যেতে চাই।’



মন্তব্য