kalerkantho


সামান্তার সাফল্যের গল্প

জাহেদুল আলম, রাউজান (চট্টগ্রাম)   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



সামান্তার সাফল্যের গল্প

বাবা নেই। মারা গেছেন দুই বছর আগে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার বড় সাজেদা ইসফাত রহমান সামান্তা। রাউজান গহিরা এ জে ওয়াই এম এস বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী সে।

 

বাবা নেই। মারা গেছেন দুই বছর আগে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার বড় সাজেদা ইসফাত রহমান সামান্তা। রাউজান গহিরা এ জে ওয়াই এম এস বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী সে। স্কুলের একজন তুখোড় মেধাবী শিক্ষার্থী সামান্তা। শুধু পড়ালেখায় নয়, স্কুলের অভ্যন্তরীণ নানা কাজে নজরকাড়া ভূমিকা রাখার পাশাপাশি উপজেলা, জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ইতোমধ্যে বেশ সুনাম অর্জন করেছে। দায়িত্ব পালন করছে স্কুলের গার্ল গাইডস দলনেত্রী হিসেবে। উপজেলার বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচি, গার্ল গাইডসের অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি দেখা যায়। বিভিন্ন সময় হয়েছে সেরা বিতার্কিক। টিভিতে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে নানা পুরস্কার অর্জন করেছে ইতোমধ্যে। একক ও যৌথ উপস্থিত বক্তৃতা, অনুষ্ঠান সঞ্চালনাতেও সে বেশ পটু।

গেল ১১ আগস্ট জাতীয় কিশোর-কিশোরী সম্মেলনে উপজেলার ১০ জনের মধ্যে এবং জেলায় ১৫ জনের মধ্যে একজন নির্বাচিত হয়ে জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে। ২০১৬ সাল থেকে চলতি বছরের ’১৮ সাল পর্যন্ত সেন্ট্রাল বয়েজ অব রাউজানের উপজেলাভিত্তিক বিতর্ক প্রতিযোগিতায় স্কুলের পক্ষ থেকে দলনেত্রী হিসেবে অংশ নিয়ে তিনবারই সেরা বিতার্কিকের পুরস্কার লাভ করে। গত মার্চে বাংলাদেশ চট্টগ্রাম টিভি কেন্দ্রে বিতর্ক প্রতিযোগিতা স্কুলের পক্ষ থেকে দলনেত্রী হিসেবে অংশগ্রহণ করে। যা ইতোমধ্যে টিভিতে প্রচার হয়েছে। ২০১৭ সালে জাতীয় মৌসুমি প্রতিযোগিতায় পুরো উপজেলার মধ্যে প্রথম হয়। চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে কিশোর বাতায়ন কর্মশালায় রাউজানের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেয়। গত ৬-৯ মার্চ অনুষ্ঠিত ১৭তম জেলা ক্যাম্প গার্ল গাইডসে অংশ নেয়। জাতীয় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সপ্তাহে নবায়নযোগ্য জ্বালানি দক্ষতা এবং জ্বালানি সংরক্ষণ বিষয়ে বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় উপজেলায় ২য় ও জেলায় ২য় স্থান লাভ করে। এখন বিভাগীয় পর্যায়ে অংশ নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে সে। ২০১৬ সাল থেকে স্কুলে স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচনে টানা তিনবার ১ম স্থান লাভ করে।

কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাতেও বেশ সাফল্যে পেয়েছে সামান্তা।

গহিরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাঠাগার আয়োজিত কবিতা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান লাভ করে। ২০১৫ সালে সৃজনশীল মেধা অন্বেষণে অংশ নিয়ে বিজ্ঞান বিভাগে সমগ্র উপজেলা প্রথম হয়। পরবর্তী সালেও একই স্থান অর্জন করে। ২০১৬ সালে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে সমগ্র রাউজানে কবিতা আবৃত্তিতে প্রথম স্থান লাভ করে। এছাড়া ’১৭ সালে জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতায় উপস্থিত বক্তব্য, কবিতা আবৃত্তি, জ্ঞান জিজ্ঞাসা ও বঙ্গবন্ধুকে জানো ইভেন্টে অংশ নিয়ে সমগ্র উপজেলায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে সামান্তা। তার উপস্থিত বক্তব্য, সঞ্চালনাও মন ছুঁয়ে যায় সবার। স্কুলের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও তার নজরকাড়া অনুষ্ঠান সঞ্চালনা, উপস্থিত বক্তৃতা সবাইকে মুগ্ধ করে।

এসব অর্জনের বাইরে পড়ালেখাতেও পিছিয়ে নেই সামান্তা।

২০১৩ সালে পিইসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ ও ১৬ সালে জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পায় সে। ২০১৬ সালে শহীদ নূতন চন্দ্র সিংহ বৃত্তি অর্জন, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে কর্মসূচি মূল্যায়ন পরীক্ষায় সেরা পাঠক হয়। ২০১০ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত রাউজান কিন্ডার গার্টেন বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে টানা চারবার বৃত্তি পায়। ২০১০ ও ২০১১ সালে অর্জন করে রবীন্দ্রনাথ গোল্ড মেডেল স্কলারশিপ। ২০১২ সালে পায় কেয়া গোল্ড মেডেল স্কলারশিপ। অনন্য মেধার অধিকারী সামান্তার ইচ্ছা ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ে-কলেজের শিক্ষক হওয়া এবং একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করা। জানতে চাইলে সে বলে, ‘সমাজের গরিব, অসহায়, শিশু, শ্রমিক যারা পড়ালেখা করতে পারে না নানা কারণে তাদের জন্য একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে চাই। যাতে তারা এখানে পড়ালেখা করার সুযোগ পায়।’

সামান্তা আরো বলে, ‘শিক্ষাসহ সবক্ষেত্রে জীবদ্দশায় বাবা আর মা ও শিক্ষকরা আমাকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। তাঁদের উৎসাহে আমি এতদূর এগিয়েছি।’ গহিরা এ জে ওয়াই এম এস বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের স্কুলের প্রধান শিক্ষক হাবিবুল হক বলেন, ‘সামান্তা এই স্কুলের সবচেয়ে ভালো এবং মেধাবী শিক্ষার্থী। সে পড়ালেখা ছাড়াও গার্ল গাইডস, কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, উপস্থিত বক্তব্য, অনুষ্ঠান সঞ্চালনা, বিতর্কসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বেশ সাফল্য পেয়েছে। আমরা তার আরো উজ্জ্বল ভবিষ্যত কামনা করছি।’

জানা যায়, রাউজান পৌরসভার গহিরা ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজপাড়া গ্রামের ফাজিল মোহাম্মদ বাড়ির মরহুম সাইফুর রহমান ও শাহীন আকতারের মেয়ে সামান্তা। তার বাবা মারা গেছেন ২০১৬ সালে। মা আর দুই ভাইকে নিয়ে তাদের সংসার চলছে কোনো রকমে।



মন্তব্য