kalerkantho


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

জাপান ঘুরে এলেন ১০ ছাত্রী

৮ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



 জাপান ঘুরে এলেন ১০ ছাত্রী

 চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে জাপানের নারা উইম্যান ইউনিভার্সিটির চুক্তির আলোকে সাকুরা সায়েন্স প্রোগ্রামের অধীনে বিভিন্ন বিভাগের ১০ ছাত্রী সম্প্রতি জাপান ঘুরে এসেছেন। তাঁরা এনভায়রনমেন্টাল মডেলিংয়ের ওপর সেখানে সপ্তাহব্যাপী প্রশিক্ষণ শেষে ২ আগস্ট দেশে ফিরেন। তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছেন : মোবারক আজাদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

 

২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) বনবিদ্যা ও পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের ১০ ছাত্রী জাপানের নারা উইম্যান ইউনিভার্সিটিতে ১০ দিনের ট্রেনিং প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পেয়েছিলেন।

একই বছর চবি উপাচার্যের নারা উইম্যান ইউনিভার্সিটি পরিদর্শন এবং মতবিনিময় সভায় যোগদান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়-নারা উইম্যান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতা কার্যক্রমের এক নতুন মাত্রা পায়।  এরই ধারবাহিকতায় এ বছরের ২৪ জুলাই থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত নারা উইম্যান ইউনিভার্সিটিতে এনভায়রনমেন্টাল মডেলিংয়ের ওপর প্রশিক্ষণে ১০ ছাত্রী অংশ নেন।

বনবিদ্যা ও পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের আফরিন সুলতানা, শাহানা সুলতানা রুমা, আফরোজা হাছান আফরিন, আমিনা সাদিয়া, সোনিয়া আকতার, মাহে নূসরাত, স্বাগতা চৌধুরী, গণিত বিভাগের নাজনীন সুলতানা, রোকসানা ইয়াছমিন ও পরিসংখ্যানের সুলতানা নাজনীনাতুল আলী। এ প্রশিক্ষণ র্টিমের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন চবি বনবিদ্যা ও পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের প্রফেসর ড. জেরিন আখতার।

এ প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া ছাত্রীরা জানান, এ মডেলে অংশ নিতে তাঁদের প্রত্যেকের ডিপার্টমেন্টে সিজিপিএ ৩.৫০ এর উপরে থাকতে হয়।

দ্বিতীয়ত, ম্যাথমেটিক্যাল টার্ম এর ওপর একটি পরীক্ষা হয়। যেটার প্রশ্ন জাপান থেকে করা হয় এবং এর তত্ত্বাবধানে ছিলেন নারা ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানের প্রধান অধ্যাপক ফুগু তাকাসু। তৃতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্যানেল তাঁদের একটি ভাইভা নেন। তারপর জাপান কর্তৃপক্ষ স্কাইপিতে ইংরেজিতে একটি ভাইভা নিয়ে তাদের নির্বাচিত করে এ প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেন।

এ বিষয়ে চবি উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘২০১৩ সালে নারা উইম্যান ইউনিভার্সিটির সঙ্গে চবির চুক্তি হলেও কোনো রকম কার্যক্রম লক্ষ করা যায়নি। আমি ২০১৭ সালে জাপানে গিয়ে নারা উইম্যান ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে (অধ্যাপক ফুগু তাকাসু) মতবিনিময় সভা করি।

যার ফলে এ দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্ক আরো এগিয়ে যায়। এ বছর বনবিদ্যা ও পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটসহ বিজ্ঞান অনুষদের দুটে বিষয়ের ছাত্রীদের যোগ করে ১০ জন ছাত্রীকে পাঠায়। তারা সুন্দরভাবে এ  প্রশিক্ষণ শেষে দেশে এসে গত রবিবার আমার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেন। তিনি আরো বলেন, ‘আমি তাঁদের আহ্বান করেছি প্রোগ্রামের বিষয়ভিত্তিক অভিজ্ঞতাগুলো বুলেটিন আকারে প্রকাশ করে অন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে শেয়ার করতে এবং গবেষণা কর্ম চর্চা রাখতে।’

জাপানের সঙ্গে চুক্তির চবি ফোকাল পয়েন্ট এবং বনবিদ্যা ও পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. এ এইচ এম রায়হান সরকার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নারীরা এখনো গবেষণায় পিছিয়ে আছে। তাঁরা মাস্টার্স ডিগ্রি নেওয়ার পর তেমন গবেষণায় আসতে চায় না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারী শিক্ষার জন্য অনেক কিছু করছেন। সে লক্ষ্যে সম্ভাবনাময় ছাত্রীদের নিয়ে মডেলের মাধ্যমে কীভাবে বর্তমান ও ভবিষ্যতে পরিবেশ নিয়ে কাজ করবে এ জন্য এ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ।’

ছাত্রীদের দেওয়া মডেলের মধ্যে শাহানা সুলতানা রুমার মডেল ছিল বাংলাদেশের জাহাজ ভাঙা শিল্পে চর্মরোগ বৃদ্ধির প্রবণতা, আমিনা সাদিয়ার বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশগত অবস্থার সম্পর্ক, আফরিন সুলতানার আহমেদাবাদে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রবণতা, আফরোজা হাছান আফরিনের বাংলাদেশে স্বাদু পানির মাছের ওপর অতিরিক্ত মাছ ধরার বিরূপ প্রভাব, সোনিয়া আকতারের সুন্দরবনে গেওয়া গাছের সংখ্যা হ্রাস, মাহে নূসরাতের সুন্দরবনে কুমিরের সংখ্যা হ্রাস, স্বাগতা চৌধুরীর মালদ্বীপে জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রবণতা, নাজনীন সুলতানার নেপালে জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রবণতা, রোকসানা ইয়াছমিনের হাতিরঝিলে পানি দূষণ ও সুলতানা নাজনীনাতুল আলীর ভারতে ভবিষ্যতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রবণতা।

এ প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া আমিনা সাদিয়া বলেন, ‘এনভায়রনমেন্টাল মডেলিংয়ে অংশ নিয়ে চমৎকার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। যা আমাদের সামনের গবেষণায় অনেক কাজে লাগবে এবং গবেষণাগুলো কীভাবে মানবজীবনে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে তা জানতে পেরেছি। অন্যদিকে আফরোজা হাছান আফরিন বলেন, ‘গবেষণা মডেলের পাশাপাশি জাপানের ওসাকা ও নারা পার্কসহ ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলো ঘুরেছি। যা শিক্ষার অন্যতম একটি অংশ বলা যায়। আর এ ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলো ঘুরতে নারা উইম্যান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনেক গাইড লাইন দিয়েছে এবং তারা অনেক আন্তরিকতার সাথে আমাদের সঙ্গে মিশেছে।’

প্রশিক্ষণ টিমের সার্বিক তত্ত্বাবধায়ক বনবিদ্যা ও পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের প্রফেসর ড. জেরিন আখতার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বনবিদ্যা ও পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সঙ্গে সম্পৃক্ত গবেষণায় নারা উইম্যান ইউনিভার্সিটির একটি প্রজেক্টের অধীনে দশ জন ছাত্রী এনভায়রনমেন্টাল মডেলিং প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে বিভিন্ন মডেল দেখেছেন।

পরে তাঁরাও কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মতে আলাদা আলাদা করে মডেল দাঁড় করিয়েছেন। এ প্রশিক্ষণে শুধু ছাত্রীদের অংশগ্রহণ কেন? ছাত্ররা নেই কেন? জানতে চাইলে এ প্রশ্নের জবাবে ড. জেরিন বলেন, ‘যেহেতু নারা ওমেন ইউনিভার্সিটি মেয়েদের, এজন্য বিশেষ করে তারা শুধু ছাত্রীদের এ প্রশিক্ষণগুলোতে সুযোগ করে দিচ্ছে।’



মন্তব্য