kalerkantho


নোয়াখালীতে ড্রাগন ফল চাষে গবেষকের সাফল্য

সামসুল হাসান মীরন, নোয়াখালী   

৮ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



নোয়াখালীতে ড্রাগন ফল চাষে গবেষকের সাফল্য

... নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুবোধ কুমার সরকার উপাচার্যের বাসভবনের বাগানবাড়িতে ড্রাগন ফলের চাষ করেন। পরীক্ষামূলক এ ফল চাষে সফলতা লাভের পর তিনি প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেন, নোয়াখালী উপকূলীয় অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া ড্রাগন ফল চাষের জন্য উপযোগী ...

 

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ড্রাগন ফল চাষে সফলতা পাওয়া গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের বাগানবাড়িতে এ ফলের চাষ করেন গবেষক ড. সুবোধ কুমার সরকার।

তিনি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষামূলক ড্রাগন ফল চাষে সফলতা লাভের পর তিনি প্রাথমিক ভাবে নিশ্চিত করেন, নোয়াখালী উপকূলীয় অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া ড্রাগন ফল চাষের জন্য উপযোগী। ড. সুবোধ কুমার সরকার জানান, খেতে খুবই মিষ্টি ও সুস্বাদু লাল রঙের ড্রাগন ফলের অনেক ঔষধি গুণাগুণ আছে। এ ফল ডায়বেটিকস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। ফলটি কোলন ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগ নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। এছাড়া এ ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ফাইবার, ক্যালসিয়াম ও এন্টিঅক্সিডেন্টসহ অনেক উপকারী উপাদান রয়েছে যা আমাদের শরীরকে সুস্থ ও সবল রাখতে সহায়তা করে।

গবেষক ড. সুবোধ কুমার সরকার এ বছরের জানুয়ারির শুরুতে উপাচার্যের বাগানবাড়িতে একটি টবে পরীক্ষামূলক ড্রাগনের চারা রোপণ করেন। ৬ মাস পর এতে ড্রাগন ফল ধরে। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রাম থেকে একটি ড্রাগন ফলের চারা সংগ্রহ করেছিলেন ড. সুবোধ কুমার সরকার।

ওই চারা তিনি রাজশাহীতে নিজের বাড়ির ছাদে প্রথমে রোপণ করেন এক বছরের মাথায় প্রথম সফলতা পান। এবার সেই ড্রাগন ফলের চারা নোয়াখালীর মাটিতে রোপণ করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন খ্যাতিমান এ গবেষক।    

ড্রাগন ফল এশিয়া ও ইউরোপে ব্যাপক জনপ্রিয় এবং প্রচুর চাহিদাসম্পন্ন। এশিয়ার থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হয় এবং তাদের কাছে ব্যাপক পরিচিত।

কিন্তু দেশে এখনও তেমন পরিচিত নয় যদিও রাজশাহী ও নাটোর অঞ্চলের মাটিতে এর চাষ কিছুটা শুরু হয়েছে। তাই নোয়াখালীতে বাণিজ্যিকভাবে এর চাষাবাদ শুরু করা গেলে দেশের কৃষিক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এম অহিদুজ্জামান বলেন, ‘সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সার্বিক সহায়তা পেলে ড্রাগন ফলের চাষ ব্যাপক পরিসরে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পতিত জমিতে করা সম্ভব। এ ফলের বাণিজ্যিক চাষ কৃষকদের মাঝে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিয়ে আমাদের খাদ্যপুষ্টি চাহিদা মিটিয়ে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারব বলে আমরা আশাবাদী।’



মন্তব্য