kalerkantho


ইপেন পাল

নৃত্যই তাঁর ধ্যান-জ্ঞান

আসাদুজ্জামান দারা, ফেনী   

৮ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



নৃত্যই তাঁর ধ্যান-জ্ঞান

ফেনীর তরুণ নৃত্যশিল্পী ইপেন পাল। শিশুকাল থেকেই নাচ শিখছেন। এখন নাচের প্রশিক্ষণও দেন। ফেনীতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করে বেশ জনপ্রিয় এই শিল্পী। ফেনীর সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষেরা এক নামে চেনেন ইপেন পালকে। সামনে নাচের স্কুল গড়তে চান তিনি।

ফেনী সদরের কালিদহ ইউনিয়নের তুলাবাড়িয়ায় ইপেনের পৈতৃক নিবাস। বাবা  খোকন পাল ফেনী বাজারের একজন স্বর্ণ ব্যাবসায়ী। আগে নিজেই ব্যবসা দেখভাল করতেন খোকন পাল। এখন অনেকটা বিশ্রামে রয়েছেন তিনি বাড়িতে। ‘ই আর স্বর্ণ শিল্পালয়’ নামের সোনার দোকানটি এখন ইপেন পালই দেখাশোনা করেন। পেশায় ব্যবসায়ী হলেও নৃত্যই ধ্যান-জ্ঞান ইপেনের। মা প্রতিমা পাল গৃহিণী। বোন মিম্মি পালও সঙ্গীতশিল্পী। সব মিলিয়ে সংস্কৃতিমনা পরিবারটি।

ফেনী সেন্ট্রাল হাই স্কুল থেকে এসএসসি পাস করে ইপেন। পরে নানা পারিবারিক কারণে আর পড়াশোনা বেশি এগোয়নি। ১৯৯৮ সালে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র থাকাকালে ফেনী শিশু একাডেমিতে প্রয়াত প্রশিক্ষক নুরজাহান ম্যাডামের কাছে নাচের হাতেখড়ি। পরবর্তীতে চলে আসেন ফেনীর মাস্টারপাড়ার প্রাচীন সংগঠন পূবালী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে। এখানে বৈশাখী মজুমদারের কাছে দীর্ঘ সময় ধরে প্রশিক্ষণ নেন। এখন পূবালীতেই খণ্ডকালীন প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এখানে শিশুদের শেখানোর দায়িত্ব তাঁর। পাশাপাশি চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার বারৈয়ারহাট পৌরসভা এলাকার মহাজন আর্ট স্কুলের নৃত্য প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন ইপেন। সপ্তাহে দুদিন ওখানে ক্লাস নিতে হয়।

২০০৩ ও ২০০৪ সালে নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সুনাম অর্জন করেন ইপেন। বিচারকরা ইপেনের নৃত্য পরিবেশনার ভূয়সী প্রশংসা করেন। পূবালীর সাড়াজাগানো গীতিনৃত্যনাট্য ‘চণ্ডালিকা’য় বৌদ্ধভিক্ষু চরিত্র রুপায়ন করে ফেনীর নৃত্য দর্শকদের নজর কাড়তে সক্ষম হন ইপেন পাল। একই সংগঠনের হয়ে ‘নকশী কাঁথার মাঠ’ গীতিনৃত্যনাট্যে রুপাই চরিত্র রুপায়ন করেন তিনি। এই দুটি নৃত্যনাট্যে কাজ করে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন ইপেন।

কালের কণ্ঠের সঙ্গে আলাপকালে ইপেন বলেন, ‘কীভাবে যে নাচের সাথে যুক্ত হয়ে গেলাম বুঝতে পারিনি।’ তিনি জানান, শুরুতে ছেলে হিসেবে নাচের মঞ্চে উঠতে কিছুটা সংকোচ বোধ হলেও পরে তা সহজ ও স্বাভাবিক হয়ে যায়। এখন ফেনীতে অনেক ছেলেই নাচে কাজ করছে বলেও জানান ইপেন।

তিনি বলেন, ‘পরিবারের সদস্যদের আন্তরিক সহায়তায় এতদূর আসতে পেরেছি।’ ভবিষ্যতে একটি নাচের স্কুল গড়ে তোলার ইচ্ছে রয়েছে তাঁর।

ইপেনের বাবা খোকন পাল বলেন, ‘ইপেন ব্যবসা দেখাশোনার পাশাপাশি নিয়মিত নাচের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছে। পরিবারের সকল সদস্য তাকে এ বিষয়ে সহায়তা করছে। সে যতদিন ইচ্ছে নৃত্য নিয়ে কাজ করতে পারে।’

ফেনীর পূবালী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রধান সমন্বয়কারী সমরজিৎ দাস টুটুল বলেন, ‘নিয়মিত নাচের অনুষ্ঠানগুলোতে অংশ নিয়ে ফেনীর এখন এক পরিচিত মুখ ইপেন। নিয়মিত চর্চা চালিয়ে গেলে সে অনেক দূর পর্যন্ত যেতে পারবে।’

টুটুল বলেন, ‘সম্প্রতি জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত দুদিনের সাংস্কৃতিক উৎসবে নৃত্য পরিবেশন করেও দর্শকদের প্রশংসা অর্জন করে ইপেন।’

 



মন্তব্য